![]() |
| Sound |
শব্দ
১. শব্দ কী?
উত্তর: কম্পনশীল কোন বস্তু থেকে যে শক্তি জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আমাদের কানে পৌঁছে মস্তিষ্কে এক বিশেষ অনুভূতি জাগায় ,তাকে শব্দ বলে।
২. শব্দের উৎস কাকে বলে?
উত্তর: যেকোনো কম্পন বস্তুই শব্দের উৎস ।শব্দের উৎসকে স্বনক বলে।
৩. মুখ দিয়ে শব্দ করার সময় কম্পন কোথায় লক্ষ্য করা যায়?
উত্তর: স্বরতন্ত্রীতে লক্ষ্য করা যায়।
৪. শব্দ বিস্তারের জন্য কিসের প্রয়োজন?
উত্তর: জড় মাধ্যমের প্রয়োজন।
৫. শব্দ কোন কোন মাধ্যমের মধ্য দিয়ে বিস্তার লাভ করে?
উত্তর: কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে।
৬. শূন্য মাধ্যমে শব্দ চলাচল করতে পারে না কেন?
উত্তর: শব্দ বিস্তারের জন্য মাধ্যমের স্থিতিস্থাপক ধর্ম থাকা প্রয়োজন। শূন্য মাধ্যমে স্থিতিস্থাপক ধর্ম না থাকার জন্য শব্দ চলাচল করতে পারে না। তাই শূন্য মাধ্যমে শব্দের তরঙ্গ করতে পারে না।
৭. কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি?
উত্তর: কঠিন মাধ্যমে।
৮. কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে কম?
উত্তর: গ্যাসীয় মাধ্যমে।
৯. বায়ুর মাধ্যমে শব্দ কীভাবে বিস্তার লাভ করে?
উত্তর: বায়ুর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমিক ঘনীভবন ও তনুভবনের মাধ্যমে শব্দ একস্থান থেকে অন্যস্থানে বিস্তার লাভ করে।
১০. ঘনীভবনের সময় বায়ুস্তরের চাপের কীরূপ পরিবর্তন হয়?
উত্তর: বায়ুস্তরের চাপ বৃদ্ধি পায় কারণ এই সময়ে বায়ুস্তর সংকুচিত হয়।
১১. সূর্য বা চাঁদে বিস্ফোরণ হলে তার শব্দ পৃথিবীতে শোনা যায় না কেন?
উত্তর: শব্দ বিস্তারের জন্য বাস্তব মাধ্যমের প্রয়োজন। সূর্য বা চাঁদ এবং পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্বের অধিকাংশ ফাঁকা অর্থাৎ শূন্যস্থান। যেহেতু শব্দ শূন্যস্থানের মধ্যে দিয়ে বিস্তার লাভ করতে পারে না। তাই ওইসব বিস্ফোরণের শব্দ পৃথিবীতে শোনা যায় না।
১২. পূর্ণ কম্পন কাকে বলে?
উত্তর: কম্পনশীল বস্তুর কণা তার গতিপথে যে কোন বিন্দু থেকে যাত্রা শুরু করে পুনরায় সেই বিন্দুতে একই অভিমুখে ফিরে আসে তখন তাকে একটি পূর্ণ কম্পন বলে।
১৩. পর্যায়কাল কী ? পর্যায়কালের একক লেখ।
উত্তর: কম্পনশীল বস্তুর কোন কণার একটি পূর্ণকম্পনের জন্য যে সময় লাগে ,তাকে পর্যায় কাল বলে।
- পর্যায়কালের একক হল সেকেন্ড।
১৪. কম্পাঙ্ক কাকে বলে ? এর একক লেখ।
উত্তর: কম্পনশীল বস্তু কনা প্রতি সেকেন্ডে যতগুলি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করে, সেই সংখ্যাকে কম্পাঙ্ক বলে।
- কম্পাঙ্কের একক হল সাইকেলস /সেকেন্ড বা হার্জ।
১৫. শ্রুতিগোচর শব্দ কাকে বলে?
উত্তর: কোন উৎসের কম্পন সেকেন্ডে ২০থেকে
২০০০০ এর মধ্যবর্তী হলে সেই উৎস থেকে উৎপন্ন শব্দ আমরা শুনতে পাই এই শব্দকে শ্রুতিগোচর শব্দ বলে।
১৬. চন্দ্রপৃষ্ঠে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় বেতারের প্রয়োজন হয় কেন?
উত্তর: চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই। যেহেতু শব্দ বিস্তারের জন্য বাস্তব মাধ্যমের প্রয়োজন সেজন্য চাঁদে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কথা বললে কোন শব্দ শোনা যায় না। তাই চন্দ্রপৃষ্ঠে দাঁড়িয়ে কথা বলার জন্য বেতার তরঙ্গের প্রয়োজন হয়।
১৭. শব্দোত্তর শব্দ ও শব্দেতর শব্দ বলতে কী বোঝো?
শব্দোত্তর শব্দ: কোন উৎসের কম্পন সেকেন্ডে ২০০০০ বারের বেশি হলে সেই উৎস থেকে উৎপন্ন শব্দ আমরা শুনতে পাই না এই শব্দকে শব্দোত্তর শব্দ বলে।
উদাহরণ: বাদুড় ও তিমি শব্দোত্তর শব্দ শুনতে পায়।
শব্দেতর শব্দ: কোন উৎসের কম্পন সেকেন্ডে ২০ বারের কম হলে সেই উৎস থেকে উৎপন্ন শব্দ আমরা শুনতে পাই না, এই শব্দকে শব্দেতর শব্দ বলে।
উদাহরণ: বিড়াল ও কুকুর শব্দেতর ও শব্দ শুনতে পায়।
১৮. শব্দের প্রতিফলনের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: প্রতিধ্বনি সৃষ্টি শব্দের প্রতিফলনের একটি উদাহরণ।
১৯. স্টেথোস্কোপ যন্ত্রে শব্দের কোন ধর্মকে কাজে লাগানো হয়?
উত্তর: প্রতিফলন ধর্মকে কাজে লাগানো হয়।
২০. শব্দ কী ধরনের তরঙ্গ?
উত্তর: শব্দ হলো এক ধরনের অনুদৈর্ঘ্য স্থিতিস্থাপক তরঙ্গ।
২১. আলট্রাসনোগ্রাফি কী?
উত্তর: মানুষের দেহের মধ্যে বিভিন্ন অস্বাভাবিকতা এবং টিউমার নির্ণয় করতে শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, এই পদ্ধতিকে আলট্রাসনোগ্রাফি বলে।
২২. শব্দোত্তর শব্দের ব্যবহারিক প্রয়োগ লেখ।
উত্তর:
১. সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করতে।
২. ডুবো পাহাড় এর অবস্থান নির্ণয় করতে।
৩. ময়লা জামা কাপড় পরিষ্কার করতে।
৪. রোগজীবাণু ধ্বংস করতে।
২৩ . মশা উড়লে শব্দ শোনা যায় কিন্তু পাখি উড়লে শব্দ শোনা যায় না কেন?
উত্তর: মশা যখন উড়ে তখন তার ডানার কম্পন সেকেন্ডে ২০ থেকে ২০০০০ বারের মধ্যে থাকে। তাই মশার ওড়ার শব্দ শোনা যায়। কিন্তু পাখি উড়ার সময় তার ডানার কম্পন সেকেন্ডে ২০ বারের কম হয় বলে কোন শব্দ শোনা যায় না।
২৪. ম্যাক সংখ্যা কী?
উত্তর: কোন বস্তুর বেগ ও একই মাধ্যমে শব্দের বেগের অনুপাতকে ম্যাক সংখ্যা বলে।
২৫. শব্দের অনুরণন বলতে কী বোঝো।
উত্তর: খালি হলঘরে বা বড়ো ঘরে শব্দ করলে ওই শব্দ ঘরের দেয়াল বা ছাদ থেকে বারবার প্রতিফলিত হয়ে গমগম শব্দের সৃষ্টি করে। ফলে মূল শব্দ থেমে যাওয়ার পরেও কিছুক্ষণ ওই শব্দ শোনা যায়। একই শব্দের অনুরণন বলে।
২৬. ক্ষণস্থায়ী শব্দের প্রতিধ্বনির ক্ষেত্রে উৎস ও প্রতিফলকের মধ্যে নূন্যতম দূরত্ব কত হওয়া উচিত?
উত্তর: ১৬.৬ মিটার হওয়া উচিত।
২৭. শব্দের তীব্রতা লেভেল এর একক কী?
উত্তর: বেল।
২৮. বেলের ছোট একককে কী বলে?
উত্তর: ডেসিবেল।
২৯. মানুষের দেহে সবচেয়ে ছোট অস্থির নাম কী?
উত্তর: স্টেপিস।
৩০. মধ্যকর্ণের কোন অংশ ভিতরের ও বাইরের বায়ুচাপের সমতা বজায় রাখে?
উত্তর: ইউস্টেচিয়ান নালী।
৩১. অর্ধবৃত্তাকার নালী কোন তরল দ্বারা পূর্ণ?
উত্তর: এণ্ডোলিম্ফ্ তরল দ্বারা পূর্ণ।
৩২. ককলিয়ার আকৃতি কেমন?
উত্তর: ককলিয়া হলো অন্তঃকর্ণের শেষ অংশ যা শামুকের মতো প্যাঁচানো নল বিশেষ।
৩৩. ককলিয়ার শব্দগ্রাহক যন্ত্রটির নাম কী?
উত্তর: অর্গান অফ কর্টি।
৩৪.WHO নির্দেশিত শব্দের নিরাপদ তীব্রতা কত?
উত্তর: ৪৫ ডেসিবেল।
৩৫. শব্দের তীব্রতা স্তর কত হলে তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
উত্তর: ৬৫ ডেসিবেলের বেশি হলে।
৩৬. SONAR কী?
উত্তর: SONAR এর পুরো কথাটি হল Sound Navigation And Ranging।
৩৭. শব্দের প্রতিফলন কাকে বলে?
উত্তর: শব্দতরঙ্গ এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে আপতিত হলে শব্দ তরঙ্গের কিছু অংশ মাধ্যম দুটির বিভেদতল থেকে দিক পরিবর্তন করে পুনরায় প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে। এই ঘটনাকে শব্দের প্রতিফলন বলে।
৩৮. শব্দের প্রতিফলনের সূত্র গুলি লেখ।
উত্তর:
১. আপতিত শব্দতরঙ্গ ,প্রতিফলিত শব্দতরঙ্গ এবং আপতন বিন্দুতে প্রতিফলক তলের ওপর অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে।
২. আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ পরস্পর সমান হয়.
৩৯. শব্দ দূষণের প্রভাব লেখ।
প্রভাব:
১. জোরে শব্দ থেকে রক্তচাপ বাড়ে, কখনো কখনো হূদযন্ত্রের গোলমালও দেখা যায়।
২. টানা জোরে শব্দ মেজাজ খিটখিটে ,মনোযোগ নষ্ট ও মাথা ব্যথার সৃষ্টি করে।
৩. খুব জোরে শব্দ কর্ণপটহের ক্ষতি করে যা কখনো কখনো আমাদের শ্রবণ ক্ষমতা আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে নষ্ট করে দেয়।
৪০. শব্দ দূষণ কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা
নিয়ন্ত্রণের উপায়:
১. জনসাধারণের মধ্যে শব্দ দূষণ ও তার কুপ্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি।
২. কলকারখানায় শব্দ প্রতিরোধক ব্যবস্থা রাখা।
৩. লোকালয় থেকে দূরে কলকারখানা ও বিমান বন্দর স্থাপন করা।
৪. প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া লাউডস্পিকার না বাজানো।
৪১. সুরযুক্ত শব্দের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য কী কী?
উত্তর: সুরযুক্ত শব্দের তিনটি বৈশিষ্ট্য-
১. প্রাবল্য , ২. তীক্ষ্ণতা, ৩. গুন বা জাতি।
৪২. প্রাবল্য কাকে বলে?
প্রাবল্য : প্রাবল্য হল শব্দের এমন একটি বৈশিষ্ট্য যার দ্বারা ঐ শব্দ আমাদের কানে কতটা জোরালো তা বোঝায়।
৪৩. তীক্ষ্ণতা কাকে বলে?
তীক্ষ্ণতা: শব্দের যে বৈশিষ্ট্যের জন্য একই তীব্রতার চড়ার সুর ও খাদের সুরকে আমরা পৃথক করতে পারি তাই হল শব্দের তীক্ষ্ণতা।
৪৪. গুন বা জাতি কাকে বলে?
গুন বা জাতি: বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপন্ন একই প্রাবল্য ও তীক্ষ্ণতা বিশিষ্ট শব্দকে যে বৈশিষ্ট্যের দ্বারা পৃথক করা হয় ,তাকে গুন বা জাতি বলে।
*****The End*****

Well written
উত্তরমুছুন