Breaking

বুধবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২২

এপ্রিল ১৩, ২০২২

দশম শ্রেণির ইতিহাস_জাতীয়তাবাদ ও সংস্কার আন্দোলন (Nationalism and reform movement in Bengali Class-10)

  

            জাতীয়তাবাদ ও সংস্কার                           আন্দোলন


1. শুদ্ধি আন্দোলন বলতে কী বোঝো ?

উত্তর : ব্যাপক ধর্মান্তরের ফলে হিন্দু সমাজে ভাঙ্গন দেখা দেয়। হিন্দু সমাজকে এই ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষার জন্য আর্য সমাজের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী অহিন্দু ও ধর্মান্তরিত হিন্দুদের হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনার জন্য যে কর্মসূচি গ্রহণ করেন তা শুদ্ধি আন্দোলন নামে পরিচিত।


2. ডিরোজিও স্মরণীয় কেন ?

উত্তর : নব্য বঙ্গ আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও। তিনি উনিশ শতকের কুসংস্কারচ্ছন্ন সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। কাকে ভারতের প্রথম জাতীয়তাবাদী কবি বলা হয়।


3. আর্য সমাজ আন্দোলনর প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল ?

উত্তর: আর্য সমাজ আন্দোলনর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বেদভিত্তিক সমাজ গঠন ও হিন্দু ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করা। এছাড়া, অহিন্দু ও ধর্মান্তরিত হিন্দুদের হিন্দু ধর্মে ফিরে আনাও আর্য সমাজের অপর উদ্দেশ্য ছিল।


4. পথের দাবী ও নীলদর্পণ কে রচনা করেন ?

উত্তর : পথের দাবী রচনা করেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। নীলদর্পণ রচনা করেন দীনবন্ধু মিত্র।


 5. ইলবার্ট কে ছিলেন ? ইলবার্ট বিলের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল ?

উত্তর : ইলবার্ট ছিলেন লর্ড রিপনের আইন সচিব।

ইলবার্ট বিলের উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা জজ যাতে ইউরোপীয় বিচারকের মর্যাদা লাভ করে ইউরোপীয় অপরাধীর বিচার করতে পারে তার আইনগত ব্যবস্থা করা, অর্থাৎ শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ বিচারপতিদের মধ্যে আইনগত বৈষম্য দূর করা।


6. টীকা লেখ : মেকলের প্রতিবেদন।

উত্তর : মেকলের প্রতিবেদন বা মেকলে মিনিটস

পাশ্চাত্য সমর্থকদের মতে লর্ড বেন্টিঙ্ক ভারতের গভর্নর-জেনারেল নিযুক্ত হলে (১৮২৮-৩৫ খ্রি.) এদেশে পাশ্চাত্য-শিক্ষা প্রসারের পথ প্রশস্ত হয়। টমাস ব্যাবিংটন মেকলে-কে 'পাবলিক ইনস্ট্রাকশন কমিটির সভাপতি নিয়োগ করেন বেন্টিঙ্ক। মেকলে ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রসারের সপক্ষে বেন্টিঙ্কের কাছে একটি প্রস্তাব পেশ করেন (১৮৩৫ খ্রি.)। এই প্রতিবেদন ‘মেকলে মিনিটস্’ (Macaulay Minutes) নামে খ্যাত।


বিভিন্ন প্রস্তাব: মেকলে মিনিটসের বিভিন্ন প্রস্তাবে বলা হয় চৈত. প্রাচ্যের সভ্যতা দুর্নীতিগ্রস্ত, অনুন্নত ও নির্বুদ্ধিতাসম্পন্ন, (II) প্রাচ্য-শিক্ষা নিকৃষ্ট ও বৈজ্ঞানিক চেতনাহীন, (iii) প্রাচ্যের সভ্যতা ও সংস্কৃতির উন্নতি ও সমৃদ্ধি ঘটতে পারে একমাত্র পাশ্চাত্য-শিক্ষার হাত ধরেই। মেকলে বলেন, ভারতীয়দের ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে পাশ্চাত্য-শিক্ষা দিলে, তাদের মাধ্যমে আরও বহু ভারতীয় পাশ্চাত্য-শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠবে। অর্থাৎ সীমিত সংখ্যক পাশ্চাত্য-শিক্ষিত ব্যক্তির মধ্য দিয়ে পরিত হয়ে ইংরেজি শিক্ষা জনগণের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে যাবে—এই নীতি ইনফিলট্রেশন থিয়োরি (Infiltration theory) নামে পরিচিত। মেকলে দম্ভভরে বলেছিলেন, এক আলমারি পাশ্চাত্য পুস্তক থেকে যে জ্ঞান অর্জন করা যায়, প্রাচ্যের সমস্ত গ্রন্থাগার ঘাঁটলেও তা পাওয়া যাবে না।


 মন্তব্য: মেকলের প্রতিবেদনের ফলেই ভারতে ইংরেজি শিক্ষার দ্বার খুলে যায়। ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ৭ মার্চ এই প্রস্তাব সরকারের অনুমোদন পায়।


7. প্রার্থনা সমাজের আদর্শ ও লক্ষ্য কী ছিল ? 

 উত্তর  :  প্রার্থনা সমাজের আদর্শ ও লক্ষ্য :

ব্রাহ্মসমাজের নেতা কেশবচন্দ্র সেনের প্রভাবে ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে ড. আত্মারাম পাণ্ডুরা মহারাষ্ট্রে প্রার্থনাসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে মহাদেব গোবিন্দ রানাডে ও রামকৃষ্ণ ভাণ্ডারকর প্রার্থনাসমাজে যোগ দেন ও একে একটি শক্তিশালী সমাজসংস্কারক প্রতিষ্ঠানরূপে গড়ে তোলেন।


>> আদর্শ: প্রার্থনাসমাজের সদস্যরা একেশ্বরবাদে বিশ্বাস করতেন। তবে ব্রাহ্মসমাজের মতো এঁরা কোনো নতুন ধর্মমতের কথা প্রচার করেননি। এঁরা বেদকে অভ্রান্ত বা অপরিবর্তনীয় বলে মনে করতেন না। পাশ্চাত্য আদর্শ ও ভাবধারায় প্রভাবিত হলেও এই সংগঠনটি সনাতন হিন্দু সংস্কৃতি ও রীতিনীতি মেনে কাজ করায় বিশ্বাসী ছিল। প্রার্থনা সমাজ সমগ্র মানবজাতির ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের স্বপক্ষে এবং জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারের পাশাপাশি সকল ধর্মের প্রতি সহনশীলতার নীতিতে আস্থাশীল ছিল।


>> লক্ষ্য: হিন্দুধর্ম ও সমাজের মধ্যে থেকে ধর্ম ও সমাজের সংস্কার করাই ছিল এঁনের লক্ষ্য।

(1) প্রার্থনাসমাজের সদস্যরা জন্মান্তরবাদ ও পৌত্তলিকতাবাদের অবসানসহ বিভিন্ন কুসংস্কারের। বিলুপ্তির মাধ্যমে হিন্দুধর্মকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। 

(2) জাতিভেদ প্রথার অবসান এবং পুরোহিতদের প্রাধান্য খর্ব করা ছিল এই সমাজের লক্ষ্য।

 (3) বিধবাবিবাহ প্রচলন, স্ত্রীশিক্ষার প্রসার, পর্দাপ্রথার অবসান, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা ইত্যাদি ছিল প্রার্থনাসমাজের সংস্কার কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।


8. স্বামী বিবেকানন্দ যুব শক্তিকে কিভাবে উদ্দীপিত করেন ?

উত্তর : স্বামী বিবেকানন্দ ও যুব শক্তি :

স্বামী বিবেকানন্দের নানা প্রবন্ধ ও বক্তৃতা তরুণ দেশপ্রেমিকদের মধ্যে উদ্দীপনার সম্ভার করে। অধঃপতিত ভারতবাসীকে তিনি আবুবলে বলীয়ান হওয়ার জন্য আহ্বান জানান। স্বামীজী পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনের জন্য যুবসমাজকেই এগিয়ে আসতে বলেছিলেন।


(1) হতাশাগ্রস্ত যুবসমাজকে তিনি দেশের কাজে যোগ দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। বিবেকানন্দ উপলব্ধি করেছিলেন যে, দেশের যুবশক্তি জাগ্রত না-হলে দেশ ও সমাজের মঙ্গলসাধন সম্ভব নয়। তাই তিনি দৃপ্তকণ্ঠে ডাক দেন, “ওঠো, জাগো লক্ষ্যে পৌঁছোবার আগে থেমো না।”

(2) স্বামীজী সকলকে পাশ্চাত্যের জ্ঞান-বিজ্ঞান, দৃঢ়তা, সাহস, আত্মবিশ্বাস ও কঠোর মনোবল রপ্ত করার পরামর্শ দেন।

 (3) জাতিভেদ, ধর্মীয় কুসংস্কার, সামাজিক অনাচার, অশিক্ষা, অসাম্য ইত্যাদির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি তরুণ সমাজকে উদ্দীপিত করেন। 

(4) স্বামীজি তারুণ্য শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এক নতুন ভারত গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন—“তরুণেরা আগুন ছড়িয়ে দেবে হিমালয় থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত আর উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত।”


(5) স্বামীজি মানুষ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন (১৮৯৭ খ্রি.)। যার দ্বারা তিনি যুবসমাজকে ভবিষ্যতের মানবসমাজের সেবা করার সুযোগ করে দিতে য়ছিলেন। স্বামীজি মনে করতেন একশো জন খাঁটি আদর্শবান যুবক একজোট হলে ভারতবর্ষ মুক্তি পাবেই।


>> মূল্যায়ন: স্বামীজির অনুপ্রেরণার জন্যই পরবর্তী সময়ে ভারতের বৈপ্লবিক আন্দোলনে যুবকরা দলে দলে যোগ দেয়। গোপাল হালদার লিখেছেন, “বাংলাদেশে যাকে অগ্নিযুগ বলে, তাঁর অগ্নিমস্তু কেউ যদি জাগিয়ে থাকেন তবে সে বিবেকানন্দ।"


9. টীকা লেখ : থিয়োজফিক্যাল সোসাইটি

উত্তর : থিয়োজফিক্যাল সোসাইটি :

অর্থ:  বিএস' (ঈশ্বর) ও 'সোফিয়া' (জ্ঞান)—এই দুটি গ্রিক শব্দের মিলিত রূপ হল। 'থিওসফি'। সংস্কৃত ভাষায় এর অর্থ হল বিদ্যা। খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতাব্দীতে ঠিক দার্শনিক ইয়ামেট্রিকস সর্বপ্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন।


প্রতিষ্ঠা : সর্বপ্রথম আমেরিকার নিউইয়র্কে (১৮৭৫ খ্রি.) কর্নেল এইচ. এস. ওলকট ও মাদাম এইচ. পি. ব্লাডাউস্কি থিয়োজফিক্যাল সোসাইটি গড়ে তোলেন। ঊনবিংশ শতকের ধর্ম ও সমাজসংস্কারের ক্ষেত্রে থিয়োজফিক্যাল সোসাইটির অবদান কম নয়। পরে তাঁরা মাদ্রাজের আরিয়ারে বিয়োজবিকাল সোসাইটির একটি শাখা প্রতিষ্ঠা করেন (১৮৮৬ খ্রি.)। শ্রীমতী অ্যানি বেসান্ত ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে এই সোসাইটিতে যোগ দিলে এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।


>> উদ্দেশ্য: ভারতীয় ধর্ম ও দর্শনের প্রতি এঁদের গভীর আস্থা ছিল। এঁরা প্রাচীন হিন্দু, বৌধ ও পারসিক ধর্মের পুনরুজ্জীবন ঘটানোর চেষ্টা করেন। এই সোসাইটির উদ্দেশ্য ছিল -


(1) সমস্ত মানুষকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করা ; 


(2) প্রাচীন ধর্ম, বিজ্ঞান ও দর্শনের চর্চা করা;


(3) মানুষের মধ্যেকার আধ্যাত্বিক ক্ষমতার বিকাশ ঘটানো এবং


(4) সতীদাহ, পণপ্রথা, জাতিভেদ প্রথা ইত্যাদির বিরোধিতা করা।


বিশ্বাসঃ থিয়োজফিস্টরা তিনটি সত্যে বিশ্বাস করতেন—


(1) আত্মা অমর ও শাশ্বত:

(2) মানুষের হৃদয়ে পরমাত্মার অধিষ্ঠান;

(3) মানুষ নিজের ভাগ্য নিজেই গড়ে তোলে। 

প্রভাবঃ শ্রীমতী বেসান্ডের উদ্যোগে বারাণসীতে সেন্ট্রাল হিন্দু স্কুল স্থাপিত হয়। পরে পণ্ডিত মদনমোহন মালব্যের চেষ্টায় এটি বারাণসীর হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। পাশ্চাত্য বিয়োজটি হিন্দুধর্ম ও ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে তার পক্ষে প্রচার করলে ভারতীয়রা আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।


10. জাতীয়তাবাদের  বিকাশে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান কী ?

উত্তর : জাতীয়তাবাদের বিকাশে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান :

বঙ্কিমচন্দ্রের অধিকাংশ উপন্যাসের বিষয়বস্তু ছিল স্বদেশ ও দেশস্লেন। সৃষ্টি জাতীয়তাবোধের বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল। তাঁর 'বন্দেমাতরম্'-মন্ত্র ছিল বিপ্লবীদের বীজ। অরবিন্দ ঘোষ তাই বঙ্কিমকে ‘জাতীয়তাবোধের ঋত্বিক' বলেছেন।


সাহিত্য:(1) ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ' উপন্যাস প্রকাশিত হয়। এখানে তিনি স্বাধীনতার পটভূমিকায় ইংরেজ বিরোধী সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ঘটনাকে উপলক্ষ্য করে স্বদেশ চেতনার জাগরণ ঘটান। আনন্দমঠের সন্তানদলের মুখ দিয়ে তিনি স্বাদেশিকতা ও সংগ্রানশীল জাতীয়তাবোধের তত্ত্ব প্রচার করেন।

(2) ‘দেবী চৌধুরাণী' উপন্যাসেও তিনি ইংরেজের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের জাত্যভিমানকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন। 

(3) তাঁর অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে 'সীতারাম', 'রাজসিংহ', 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রভৃতি স্বদেশপ্রেমের চেতনায় সমৃদ্ধ ছিল।

(4) বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ‘ভারতবর্ষের স্বাধীনতা ও পরাধীনতা', 'কৃষ্ণচরিত’, ‘ভারত কলঙ্ক’, ‘বাঙালির বাহুবল' প্রভৃতি প্রবন্ধে স্বদেশভাবনার পরিচয় মেলে।


 সংগীত: বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দেমাতরম্ সংগীত দেশবাসীকে স্বদেশচেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। সন্তানদলের সদস্যরা বন্দেমাতরম্ ধ্বনি উচ্চারণ করতে করতে দেশের জন্য প্রাণবিসর্জন দেন। এই দৃষ্টান্ত সারা দেশকে আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ করে। জাতীয়তাবাদের মহারূপে সমাদৃত হয় এই সংগীতটি।


> মূল্যায়ন: সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের রচনাবলি অগণিত ভারতবাসীর হৃদয়ে জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তুলেছিল—যুবসমাজের মনে জ্বালিয়েছিল আত্মাহুতির বহ্নিজ্বালা। তাই হীরেন্দ্রনাথ দত্ত বলিমকে ভারতীয় জাতীয়তাবোধের প্রকৃত জনক (The real father of Indian Nationalism) বলেছেন।


11. টীকা লেখ : দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন।

উত্তর : দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন : 

পটভূমি:  ঊনবিংশ শতকে দেশীয় সংবাদপত্রগুলিতে সরকারি কর্মচারীদের অন্যায় আচরণ, সাকারের অর্থনৈতিক শোষণ, দেশীয় সম্পদের বহির্গমন, দেশীয় শিল্পের অবক্ষয় ইত্যাদি নানা বিষয় তুলে হা হয়। সমগ্র দেশবাসীর কাছে সরকারের অন্যায় নীতির মুখোশ খুলে যায়। ঐতিহাসিক এ. আর. দেশাইয়ের মতে, ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে সংবাদপত্র হল এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।


> আইনের শর্তসমূহ: সাম্রাজ্যবাদী গভর্নর জেনারেল লর্ড লিটন দেশীয় পত্রপত্রিকার কন্ঠরোধ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই উদ্দেশ্যে লর্ড লিটন ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে (১৪ মার্চ) দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (NVernacular Press Act, 1878) জারি করেন। এই আইনে বলা হয় যে,


(1) সরকারবিরোধী কোনো সংবাদ বা রচনা প্রকাশ করলে ওই পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক শাস্তি পাবেন। এ ব্যাপারে বিচারবিভাগে কোনো অভিযোগ করা যাবে না।


(2) সংবাদপত্র প্রকাশের জন্য সরকারের কাছে অর্থ জমা রাখতে বলা হয়। এ ছাড়া আরও বলা হয় যে, সরকার-বিরোধী মন্তব্য ছাপা হলে এই অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে। 

(3)কোনো সরকারি কর্মচারী বিশেষ অনুমতি ছাড়া সংবাদপত্র সম্পাদনা করতে পারবেন না।


>> ফলাফল: সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণ আইন জারি হলে 'সোমপ্রকাশ', 'সহচর' প্রভৃতি বহু জাতীয়তাবাদী সংবাদপত্র প্রকাশ বন্ধ হয়ে যায় এবং এই কালাকানুন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শিশিরকুমার ঘোষ সম্পাদিত 'অমৃতবাজার পত্রিকা' শুধুমাত্র ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ হতে থাকে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণের এই প্রয়াসকে অনেকে শ্বাসরোধকারী আইন বলে নিন্দা করেন। শেষ পর্যন্ত ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে লর্ড রিপন এই আইনটি প্রত্যাহার করে নেন (২৮ জানুয়ারি)।


12. সমাজ সংস্কারে রামমোহনের ভূমিকা উল্লেখ করো । উডের ডেসপ্যাচ কী ?

উত্তর : রামমোহনের সমাজসংস্কার :


রামমোহন ছিলেন ভারতের সর্বপ্রথম আধুনিক মানুষ যিনি চেতনার চাবুক হাতে নিয়ে পচাগলা এক সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন।


(1) সমাজসংস্কারের অঙ্গ হিসেবে রামমোহন সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। তিনি সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলেন। ব্রিটিশ গভর্নর-জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক রামমোহনের সমর্থনে এগিয়ে আসেন। শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে সতীদাহ নিবারণ আইন জারি করেন।


(2) সে যুগে বিদেশযাত্রা ছিল সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ। তিনি নিজে বিদেশ যাত্রা করে এর বিরোধিতা করেন। 

(3) তিনি বহু প্রবন্ধে কন্যাপণ, গঙ্গাসাগরে সন্তান বিসর্জন, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের সমালোচনা করেন। 

(iv) তিনি জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন।


উডের ডেসপ্যাচ :

১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে বোর্ড অব কন্ট্রোলের সভাপতি স্যার চার্লস উড় ভারতে শিক্ষাবিস্তার সম্পর্কে এক নির্দেশনামা প্রকাশ করেন। এটিই উডের ডেসপ্যাচ (Wood's Despatch) নামে খ্যাত। উডের ডেসপ্যাচে সুপারিশগুলি ছিল এরকম


(1) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার প্রসার, স্ত্রীশিক্ষার প্রচলন ;

(2) সাধারণভাবে মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষাদান এবং উচ্চ ইংরেজি শিক্ষণীয় বিষয়রূপে গুরুত্বান


(3) কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা

(4) বিদ্যালয়গুলিকে সরকারি সাহায্য বা অনুদান দেওয়া


(5) শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যাপারে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ (Inspection)-এর নির্দেশ এই নির্দেশনামা অনুসারে একটি শিক্ষা বিভাগ (Department of Public Instruction) গঠিত হয় এবং কলকাতা, মাম্রাজ ও বোম্বাইতে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়।


13. ভারতের পাশ্চাত্য শিক্ষার কী প্রভাব ছিল? বিধবা বিবাহ প্রচলনের কাজে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা লেখ।

উত্তর: ভারতে পাশ্চাত্য-শিক্ষার প্রভাব:

পাশ্চাত্য-শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের জনজীবনে আসে নতুন প্রাণের স্পন্দন। এর ফলে

(1.) পাশ্চাত্য-শিক্ষায় শিক্ষিত ভারতবাসী মধ্যযুগীয় কূপমণ্ডুকতা থেকে মুক্ত হয়।

 (2) পশ্চিমি দেশগুলির জ্ঞান-বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদ ভারতীয়দের মানসিক প্রসারতা ঘটায়।

(3) পাশ্চাত্য-শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একদল মানুষ ধর্ম ও সমাজসংস্কারের কাজে উদ্বুদ্ধ হন।

 (4) যুক্তিবাদ ও উদারতাবাদের বিকাশ ভারতবাসীকে রুমে জাতীয়তাবোধে উদ্দীপ্ত হতে প্রেরণা দেয়। তবে ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থা ত্রুটিহীন ছিল না। ইংরেজি শিক্ষা কেবল শহুরে অভিজাতনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।


বিধবাবিবাহ প্রচলনে বিদ্যাসাগরের ভূমিকা :


নারীমুক্তি আন্দোলনের কাজে বিদ্যাসাগর ছিলেন রামমোহনের যোগ্য উত্তরসাধক। হিন্দুবিধবাদের দুঃখদুর্দশা তাঁর হৃদয়কে বিচলিত করে। বিধবাদের মুক্তির জন্য বিভিন্ন শাস্ত্র বিশ্লেষণ করে তিনি প্রমাণ করেন যে, হিন্দুধর্মে বিধবাবিবাহ শাস্ত্রসম্মত।

(1) পরাশর সংহিতা-র একটি শ্লোক উদ্ধৃত করে তিনি বলেন যে, “স্বামী নিরুদ্দেশ হলে, মারা গেলে, ক্লীব প্রমাণিত হলে, সংসারধর্ম ত্যাগ করলে কিংবা পতিত হলে তাঁর স্ত্রী পুনর্বিবাহ করার অধিকারী।"

(2) বিদ্যাসাগর প্রথম বিধবাবিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন (৭ ডিসেম্বর, ১৮৫৬ খ্রি.)। পার ছিলেন সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন আর পাত্রী ছিলেন বর্ধমানের পালানাডাঙার ব্রহ্মানন্দ মুখার্জির দশ বছর বয়সি বিধবা কালীমতী দেবী।


(3)) তিনি নিজের ছেলে নারায়ণচন্দ্রের সাথে আঠারো বছরের এক বিধবা ভবসুন্দরীর বিবাহ দেন।


(4) তিনি এগারো বছরের মধ্যে (১৮৫৬-৬৭) মোট ৬০ জন বিধবার বিয়ে দিয়েছিলেন। এজন্য তাঁর খরচ হয়েছিল ৮২ হাজার টাকা।


> ফলাফল: ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে বিধবাবিবাহ ‘আইনসিদ্ধ’ বলে ঘোষিত হয়। গোঁড়া ও রক্ষণশীল সমাজের ভ্রুকুটিকে উপেক্ষা করে বিদ্যাসাগর যেভাবে একক প্রচেষ্টায় বিধবাদের বিবাহের জন্য আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন তা ভারতীয় হিন্দুসমাজের নারীদের জীবনের এক বিশেষ মোড় বলা যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে বিনয় ঘোষ লিখেছেন, “উনিশ শতকের সমাজ সংস্কার আন্দোলনের ইতিহাসে বিদ্যাসাগরের বিধবাবিবাহ আন্দোলনই প্রথম সর্বভারতীয় আন্দোলন।" বিদ্যাসাগর নিজে তাঁর ভাই শম্ভুচন্দ্রকে এক চিঠিতে জানিয়েছিলেন, “বিধবাবিবাহ প্রথা প্রবর্তন আমার জীবনের সর্বপ্রধান সৎকর্ম।”


14. সমাজ সংস্কারক বিদ্যাসাগরের অবদান আলোচনা করো।

উত্তর :  সমাজ সংস্কারক বিদ্যাসাগরের অবদান শতকের আর-একজন অসাধারণ পণ্ডিত ও সংস্কারক ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০ ৯১ খ্রি.)। মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে এক দরিত ব্রা পরিবারে তাঁর জন্ম হয়। প্রখ্যাত কবি মাইকেল মধুসুদন লিখেছেন, বিদ্যাসাগরের মধ্যে ছিল সন্ন্যাসীর প্রজ্ঞা, ইংরেজের উদ্যম এবং বাঙ্গালী-মায়ের কোমল হৃদয় ("Vidyasagar had the genius and wisdom of an ancient sage, the energy of an Englishman and the heart of a Bengalee mother)!


বিধবাবিবাহ আইন: নারীমুক্তি আন্দোলনের কাজে বিদ্যাসাগর ছিলেন রামমোহনের যোগ্য উত্তরসাধক। হিন্দুবিধবাদের দুঃখদুর্দশা তাঁর হৃদয়কে বিচলিত করে। বিধবাদের মুক্তির জন্য তিনি আমরণ সংগ্রাম চালিয়ে যান। বিভিন্ন শাস্ত্র বিশ্লেষণ করে তিনি প্রমাণ করেন যে, হিন্দুধর্মে বিধবাবিবাহ শাস্ত্রসম্মত। পরাশর সংহিতার একটি শ্লোক উদ্ধৃত করে তিনি বলেন যে, স্বামী নিরুদ্দেশ হলে, মারা গেলে, ক্লীব প্রমাণিত হলে, সাথে করলে কিংবা পতিত হলে তাঁর স্ত্রী পুনর্বিবাহ করার অধিকারী।" তাঁর এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে রক্ষণশীল সমাজপতিরা নানাভাবে বিদ্যাসাগরকে লাঞ্ছিত কিন্তু জীবন বিপ করেও তিনি এই আন্দোলন চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুলাাই XV রেগুলেশন দ্বারা বিধবাবিবাহ আইনসিদ্ধ বলে ঘোষিত হয়। তার উদ্যোগে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে পরবর্তী দশ বছরের মধ্যে ৬০টি হি অনুষ্ঠিত হয়। 


বাল্যবিবাহের বিরোধিতাঃ বিদ্যাসাগর বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে শাস্ত্র ব্যাখ্যা করে প্রমাণ করেন যে, হিন্দুধর্ম বা হিন্দুশাস্ত্রে বাল্যবিবাহের কোনো বিধান নেই। 'সর্বশূভকরী' পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় (১৮৫ খ্র.) তিনি 'বাল্যবিবাহের দোষ" নামক একটি প্রবন্ধ লেখেন। এই লেখায় তিনি হিন্দু বাল্যবিবাদের অসহায়তা, দুঃসহ যন্ত্রনা, দ্য জীবনের মর্মব্যাথা তুলে ধরেন। এ ছাড়া তিনি বাল্যবিবাহের বিষয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করেন এবং সভাসমিতিতে নিজের বক্তব্য পেশ করেন। তাঁরই অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে সরকার একটি আইন পাস করে মেয়েদের বিবাহের বয়স কমপক্ষে ১০ বছর করে।


(1) বহুবিবাহের বিরোধিতা। সে সময়ে হিন্দু সমাজের বুকে বহুবিবাহ প্রথা আলাদল পাথরের মতো চেপে বসেছিল। বিদ্যাসাগর আগাগোড়া বহুবিবাহের বিরোধিতা করে গেছেন। এ ব্যাপারে তিনি প্রায় ৫০ হাজার মানুষের স্বাক্ষরসহ এক প্রতিবাদপত্র পাঠান ব্রিটিশ সরকার কাছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ ব্যাপারে সরকারি ভরকে সেসময়ে কোনো সাড়া মেলেনি। কিন্তু বিদ্যাসাগর থেমে থাকেননি। তিনি বহুবিবাহের বিরোধিতা করে আরও দুটি পুস্তক রচনা করেন (১৮৭১ খ্রি.)।


(2) কুলীন প্রথার বিরোধিতা : সে সময় কুলীন ব্রাণেরা অজস্র বিবাহ করতেন, এমনকি বৃদ্ধ বয়সে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও বহু কুলীন ব্রায়ণ কন্যাদায়গ্রস্থ পিতাদের কন্যাদায় থেকে মুক্তি দেওয়ার অছিলায় তাদের নাতনির বয়সি মেয়েদের বিবাহ করবেন। এই ভঙানি বন্ধ করার জন্য বিদ্যাসাগর কুলীন বিরুদ্ধে সরব হন।


> অন্যান্য সমাজসংস্কার: বিদ্যাসাগরের অন্যান্য সমাজসংস্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—


(1) তিনি মদ্যপানের বিরুদ্ধেও সম্ভব হন।


(2)এ ছাড়া সহবাস সম্মতি' আইনের জন্যও তাঁর অবদান ছিল। 

(3) গঙ্গাসাগরে সন্তান বিসর্জন প্রথা ও কুষ্ঠরোগী হত্যার বিরুদ্ধেও তিনি সরব হন।

(4) জাতিভেদ, অস্পৃশ্যতা প্রথার তিনি তীব্র নিন্দা করেন এবং এর বিরুদ্ধে তিনি সকলকে সরব হওয়ার আবেদন জানান।


> মূল্যায়ন: স্বামী বিবেকানন বলেছিলেন, রামকৃষ্ণদেবের পর আমি বিন্যাসরকে অনুসরণ AfterRamakrishna, I follow Vidyasagar) |বিদ্যাসাগরের চরিত্র ছিল কুসুনের মতো কোমল, মবার বলের মতোই কঠোর। ন্যায় ও সত্যের প্রতি তিনি যতটা অনুষ্যত ছিলেন, ঠিক ততটাই প্রতিবাদী ছিলেন চনায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে। তাই গবেষক বিনয় ঘোষ লিখেছেন, "রামমোহনের মত আদর্শদী (Idealist) কুরমোহনের মত চরমপন্থী (extremist) কোনটাই বিদার ছিলেন না। সমকালীন সময়ে তিনি ছিলেন সত্যকার বাস্তববাদী (realist)। আদর্শবাদের সাথে বাস্তববাদের যে সমন্বয় তাঁর চরিত্রেই তেমনি আর কারো চরিত্রে ঘটেনি।
















সোমবার, ১১ এপ্রিল, ২০২২

এপ্রিল ১১, ২০২২

দশম শ্রেণির ইতিহাস- জাতীয় আন্দোলনের প্রথম যুগ (The first era of the national movement in Bengali Class-10)

The first era of the national movement
The first era of the national movement

  

                   জাতীয় আন্দোলনের প্রথম যুগ 


1. জাতীয় কংগ্রেসের আদিপর্ব নরমপন্থীদের অবদান কী ?

উত্তর : আদিপর্বে কংগ্রেসের নরমপন্থীদের অবদান :

১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়। কংগ্রেসের আদিপর্বের নেতারা নরমপন্থী নামে পরিচিত ছিলেন। ভারতীয় রাজনীতিতে তাঁদের অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। 

>> জাতীয় চেতনার সঞ্চার: নরমপন্থীদের নেতৃত্বেই কংগ্রেস নানা ভাষা ও জাতি অধ্যুষিত জাতীয় বাসীর মধ্যে ব্রিটিশ অপশাসনের স্বরূপ উদ্ঘাটন করে জাতীয় চেতনা সঞ্চারিত করতে সক্ষম হয়েছিল।

 জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠা: জাতীয় কংগ্রেস জাতীয় ঐক্য ও জাতীয় চেতনাকে সুদৃঢ় করে। | বিভিন্ন শহরে কংগ্রেসের অধিবেশনগুলি অনুষ্ঠিত হওয়ায় জাতীয় সংহতি নিবিড় হয়।

> আবেদন-নিবেদন নীতি: জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম যুগের কর্মসূচি আবেদন-নিবেদন নীতির মধ্যেই সীমাবন্ধ ছিল। এ সময়কার কংগ্রেসের নেতৃবর্গ সরাসরি ব্রিটিশের সঙ্গে সংঘর্ষের রাস্তায় না গিয়ে ব্রিটিশ সরকারের ভুলত্রুটিগুলি জনসমক্ষে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

 >> সরকারের সমালোচনা: জাতীয় কংগ্রেস ক্রমাগত সরকারি কাজের সমালোচনা করে। এর ফলে ভারতবাসী ব্রিটিশ সরকারের প্রকৃত স্বরূপটি বুঝতে পারে।

জাতীয় কংগ্রেসের প্রথমযুগের কর্মপ্রচেষ্টাকে বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে সমালোচনা করেছেন। অশ্বিনী দষ্ট এসময়ে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের অধিবেশনগুলিকে 'তিনদিনের তামাশা' বলে বাচ্চা করেছেন। লালা লাজপত রায়ের মতে-নরমপন্থীরা চেয়েছিলেন রুটি, পেয়েছিলেন পাথর। অন্যদিকে, ঐতিহাসিক বিপানচন্দ্র লিখেছেন, ১৮৮৫ থেকে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময় ছিল ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বীজ বপনের কাল এবং মহিপর্বের নেতারাই সেই কাজ যথার্থভাবে সম্পন্ন করেছিলেন।


2. জাতীয় কংগ্রেসের সুরাট অধিবেশন সম্পর্কে যা জানো লেখ।

উত্তর : জাতীয় কংগ্রেসের সুরাট অধিবেশন :

পটভূমি: বঙ্গভঙ্গের  বিরুদ্ধে ভারতের জাতীয় আন্দোলনের লক্ষ্য ও পরি কংগ্রেসের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়। চরমপন্থী সদস্যরা নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ আন্দোলন তীব্রতর করে সরকারকে অচল করে দেওয়ার দাবি তোলেন, কিন্তু নরমপন্থীরা কোনোরকম জঙ্গি আন্দোলনের বিরোধী ছিলেন। ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দের কলকাতা কংগ্রেসে চরমপন্থীরা চাপ সৃষ্টি করে চারটি প্রস্তাব পাশ করিয়ে নেন, যথা স্বদেশি জাতীয় শিক্ষা। তাদের ভয় ছিল পরবর্তী সুরাট অধিবেশনে নরমপন্থীরা এই প্রস্তাবগুলি নাকচ করে নেবেন। তাই চরমপন্থীরা ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দের সুরাট অধিবেশনে কংগ্রেসের  মঞ্চ দখল করার পরিকল্পনা গ্রহণ করলে বিরোধ চরমে পৌঁছোয়।


সুরাট ভাঙন: সুরাট অধিবেশনে চরমপন্থীরা লালা লাজপত রায়কে সভাপতি করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু তিনি এই পদ গ্রহণে রাজি না হলে চরমপন্থীরা তিলককে সভাপতি করার দাবি তোলেন। নরমপন্থীরা বিচক্ষণতার সঙ্গে মধ্যপন্থী নেতা রাসবিহারী ঘোষকে সভাপতি মনোনীত করেন। এতে দুই দলের মধ্যে বিবাদ চরম আকার নেয় এবং তাদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়। ফলস্বরূপ চর কংগ্রেস থেকে বিতাড়িত হন। নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের এই ভাঙন সুরাট ভাঙন (Surat split) নামে পরিচিত।


 তাৎপর্য: বড়োলাট লর্ড মিন্টো সুরাট ভাঙনকে কার্যত সরকারের বিজয় বলে পূর্ব প্রকাশ করেন। বস্তুতই নরমপন্থীরা ইংরেজ সরকারের ওপর আস্থা রেখেই সুরাটে এত কঠোর ভূমিকা নিয়েছিলেন। এই ঘটনা জাতীয় কংগ্রেসের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে। অবশ্য অল্পকালের মধ্যে কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ পুনরায়  সংঘবদ্ধ হয়ে দূরদর্শিতার পরিচয় দেয়। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, সুরাটের ঘটনার ফলে জাতীয় কংগ্রেসের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ও নতুন এক যুগের সূচনা ঘটে।


3. লর্ড কার্জন কেন বাংলা ভাগ করেছিলেন ?

উত্তর : লর্ড কার্জনের বাংলা ভাগ :

> বঙ্গভঙ্গ: ভাইসরয় লর্ড কার্জনের প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত সরকারিভাবে ঘোষিত হয় এবং ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৬ অক্টোবর 'বঙ্গভঙ্গ' কার্যকর হয়। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বঙ্গভঙ্গগকে 'জাতীয় বিপর্যয়' বলে অভিহিত করেছেন।

কার্জনের যুক্তি: কার্জনের বাংলা ভাগের পিছনে যুক্তি হল—

প্রথমত, অবিভক্ত বাংলা প্রদেশের আয়তন খুব বড়ো। একজন গভর্নরের পক্ষে এতবড়ো প্রদেশের শাসনভার বহন করা কষ্টকর।

দ্বিতীয়ত, কলকাতা থেকে সুদুর পূর্ববাংলাকে ভালোভাবে শাসন করা সম্ভব নয়।

 • তৃতীয়ত, আসামের চা বাগানের মালিকরা চা, তেল প্রভৃতি কম খরচে রপ্তানির জন্য আসামের সঙ্গে চট্টগ্রামের সংযুক্তি চাইছেন। তাদের স্বার্থে বলাভঙ্গের প্রয়োজন।

চতুর্থত, পূর্ববঙ্গের সঙ্গে আসামকে যুক্ত করা হলে আসামে সুদক্ষ প্রশাসন গড়ে উঠবে।


পঞ্চমত, উড়িষ্যার সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবনের জন্য বাংলা ভাগের প্রয়োজন।


> প্রকৃত উদ্দেশ্য: বাংলা ভাগের পিছনে কার্জনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক। যেমন—


(1) ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্যমণি বাংলাকে বিভক্ত করে তার শক্তিকে খর্ব করা। 

(2) বাংলাকে বিভক্ত করে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে দুর্বল করা।


(3) আসামের চা বাগানের মালিকদের স্বার্থরক্ষা করা।


(4) ব্রিটিশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ঘাঁটি কলকাতাকে তার স্বর্ণাসন থেকে নামিয়ে দেওয়া।


4. বাঘাযতীন স্মরণীয় কেন ?

উত্তর : বাঘা যতীন ও বুড়িবালামের যুদ্ধ :

রাসবিহারী বসুর দেশত্যাগের পর বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (যতীন)। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের ২৬ আগস্ট বাংলার বিপ্লবীরা কলকাতার অস্ত্র ব্যবসায়ী রডা অ্যান্ড কোম্পানির আমদানি করা ৫০টি | মাউজার পিণ্ডল ও ৪৬ হাজার কার্তুজ লুঠ করেছিল। যতীন্দ্রনাথ বিদেশ থেকে আরও অস্ত্র ও অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চালান। বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে মাভেরিক, হেনবিএস এবং এ্যানিলারসন নামক তিনটি মহাজে অস্ত্র আনানোর ব্যবস্থা হয়। স্থির হয়, মাভেরিক জাহাজ থেকে গোপনে অস্ত্র নামানো হবে উড়িষ্যার বালেশ্বরে। বাঘা যতীন তাঁর দলবল নিয়ে বালেশ্বর যান।

ইতিমধ্যে জার্মানি থেকে পাঠানো কিছু অর্থ বালেশ্বরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে ধরা পড়ে এবং সমস্ত তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। ফলে ব্রিটিশরা জাহাজ তিনটি বাজেয়াপ্ত করে। বালেশ্বরে পুলিশ বাঘা যতীনের সনে অগ্রসর হয়। বুড়িবালামের তীরে বাঘা যতীন ও তাঁর সহকর্মীরা পুলিশবাহিনীর মুখোমুখি হন। বাঘা যতীন যুদ্ধে সাংঘাতিকভাবে আহত হন। পরে শহিদের মৃত্যু বরণ করেন (১০ সেপ্টেম্বর, ১৯১৫ খ্রি.)। বাঘা যতীন ইতিহাসের পাতায় অমরত্ব লাভ করেন।

বুড়িবালামের যুদ্ধে বিপ্লবীদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ ভারতবাসীকে নতুন করে উদ্দীপ্ত করে। ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্রের মতে, বুড়িবালামের যুদ্ধ বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা।


5. ভারতের জাতীয় আন্দোলনে বালগঙ্গাধর তিলকের অবদান কী ছিল ?

উত্তর : বালগঙ্গাধর তিলক :

ভারতের জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের পুরোধা ছিলেন বালগাধর তিলক (১৮৫৬-১৯২০)। তিনি সক্রিয় আন্দোলনের মাধ্যমে আত্মশক্তি দ্বারা স্বরাজ অর্জনের ডাক দেন।

পত্রিকা সম্পাদনা: তিনি মারাঠা' এবং 'কেশরী' নামে দুটি সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন। দুটি পত্রিকাই নিরন্তর ব্রিটিশ বিরোধী প্রবন্ধ ও আলোচনা প্রকাশ করে জাতীয়তাবোধে দেশবাসীকে উদবুদ্ধ করেছিল।


গণপতি ও শিবাজী উৎসব :জনগণের মনে জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটাতে তিলক গণপতি উৎসব ও শিবাজী উৎসব-কে গণ-উৎসবে পরিণত করেন। স্বদেশি বক্তৃতা, গান, শোভাযাত্রা প্রভৃতির মাধ্যমে এই উৎসব জাতীয়তাবাদ ও স্বদেশ-চেতনা বৃদ্ধি করে।


>  বয়কট আন্দোলনে নেতৃত্ব : তিলকের নেতৃত্বে স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলন মহারাষ্ট্রে প্রসারলাভ করে। তিলক ঘোষণা করেন বয়কট ও নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ আমাদের অস্ত্র। কারো ওপর বলপ্রয়োগের পক্ষপাতী আমরা নই। কর্মপন্থা অনুসরণ করতে গিয়ে যদি দুঃখবরণ করতে হয় তা হলেও আমরা পিছু হঠব না।


> হোমরুল আন্দোলন: হোমরুল আন্দোলনের মাধ্যমে তিলক রাজ অর্জনের চেষ্টা করেন। তাঁর আহ্বানে বহু যুবক হোমরুল আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিলক হোমরুল লিগের মাধ্যমে গণ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি অত্যন্ত দ্রুত এই আন্দোলনকে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িে তিলক বলেন—দমন পীড়ন বিদ্রোহের আগুন জ্বালাতে সাহায্য করবে। হোমবুল এখন ছড়িয়ে দাবানলের মতো। তিনি দৃপ্তকণ্ঠে বলেছিলেন, স্বরাজ আমার জন্মগত অধিকার এবং আমি তা অর্জন কর (("Swaraj is my birth-right and I must have it")। হোমরুল আন্দোলন ে নেতায় পরিণত করে। তিলক 'লোকমান্য' অভিধায় ভূষিত হন। তিলকের আদর্শ, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ দেশবাসীকে সক্রিয় আন্দোলনে উল্লখ সম্পর্কে অরবিন্দ ঘোষ লিখেছেন তিলকই জাতীয় আন্দোলনকে জনতার কাছে পৌঁছে দেন।


6. বিপ্লবী লালা লাজপত রায় সম্পর্কে কী জানা যায় ?

উত্তর : লালা লাজপত রায়:

(1) লালা লাজপত রায় (১৮৬৫-১৯২৮ খ্রি.) ছিলেন সংগ্রামশীল জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রবক্তা। 'লাল-বাল-পাল'-এর অন্যতম সদস্য। প্রথম জীবনে তিনি আর্যসমাজের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরে তিনি এলাহাবাদের জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে (১৮৮৮ খ্রি.) যোগ দেন। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে তিনি নেতারূপে তাঁর দক্ষতা প্রমাণ করেন।

(2) তাঁর নেতৃত্বে চরমপন্থী আন্দোলন পাঞ্জাবে ব্যাপকতা পায়। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলন তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল। ব্রিটিশ সরকারের শোষণমূলক ভূমি-রাজস্ব আইনের বিরুদ্ধে এবং অতিরিক্ত জলকরের বিরুদ্ধে তিনি কৃষক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এজন্য তাঁকে মান্দালয় জেলে বন্দি করা হয়।

(3) 'কায়স্থ সমাচার' পত্রিকায় তিনি নরমপন্থী রাজনীতির অসারতা তুলে ধরেন। পাঞ্জাবি ভাষায় তিনি ‘পাঞ্জাবি' পত্রিকা প্রকাশ করে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেন।

(4) অসহযোগ আন্দোলনের সময় তিনি সক্রিয় নেতৃত্ব দেন। সাইমন কমিশন-বিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের লাঠির আঘাতে আহত হয়ে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। দেশপ্রেম ও সাহসিকতার জন্য জনগণ তাঁকে শের-ই-পাঞ্চাব (পাঞ্জাব কেশরী) অভিধায় ভূষিত করে।

 

7. ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের প্রভাব কী ছিল ?

উত্তর :ভারতে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের প্রভাব


ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিপ্লবী আন্দোলনের পরোক্ষ প্রভাব ছিল গুরুত্বপূর্ণ। 

(1) বিপ্লবীদের সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মবলিদানের দৃষ্টান্ত সমগ্র দেশবাসীর মনে প্রেরণা সঞ্চার করেছিল।

(2) ভারতবাসীর মনে আস্থা ও আত্মবিশ্বাস জাগাতে বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী যুবকদের আত্মত্যাগের ইতিবাচক ভূমিকা অনস্বীকার্য।


(3) যুবসমাজের আত্মোৎসর্গ দেশের জাতীয় নেতাদের সংগ্রামমুখী কর্মসূচি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে।বিপ্লববাদী আন্দোলন দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে একধাপ এগিয়ে দেয়।

(4) সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন এই শিক্ষা দেয় যে—ভারতবাসী যে-কোনো মূল্যে স্বাধীনতা পেতে মরিয়া। হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের মতে—তাঁরা আবার আমাদের মনুষ্যত্বের গর্ব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

 (5) এই আন্দোলন ভারতবাসীকে এই শিক্ষা দিয়েছিল যে নিজ দেশে পরবাসী হয়ে থাকার পরিবর্তে আত্ম বিসর্জনের মাধ্যমে হলেও স্বাধীনতা অর্জন প্রয়োজন।


(6) সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন ভারতের জাতীয় সংগ্রামের মূল ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অনেকটাই সাহায্য করেছিল। বিপ্লবীরা এই আন্দোলন থেকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিলেন।

তাই ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার লিখেছেন, গান্ধিজি পরিচালিত অহিংস আন্দোলন এবং বিপ্লবী আন্দোলন ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের দুটি ধারা। এরা ছিল পরস্পরের পরিপূরক।


8. স্বদেশী ও স্বরাজ বলতে কী বোঝো ?

উত্তর : লর্ড কার্জন অন্যায়ভাবে বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে সারা বাংলা প্রতিবাদে গর্জে ওঠে। শুরু হয় বলাভলা-বিরোধী আন্দোলন (১৯০৫ খ্রি.)। এই আন্দোলনে স্বদেশি ও স্বরাজ—এই দুটি গঠনমূলক আদর্শকে ভিত্তি করে জাতীয়তাবোধ সম্প্রসারিত হয়।

স্বদেশি :

'স্বদেশি' শব্দের আক্ষরিক অর্থ হল দেশীয়। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় স্বদেশি' কথাটি বহুল প্রচারিত হয়।

(1) ব্রিটিশ সরকারের বলাভলোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ হিসেবে দেশে ছি আন্দোলনের জোয়ার আসে।

(2) অবশ্য 'স্বদেশি' আদর্শ ও চেতনা আমাদের দেশে আগে থেকেই ছিল। ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্ে স্বদেশির কথা পুনাতে প্রথম বলেন গোপালহরি দেশমুখ। কলকাতায় মুখার্জিস মাথারিন এ ভোলানাথ চন্দ্র একাধিক প্রবন্ধ রচনা করে স্বদেশি আদর্শকে জনপ্রিয় করে তোলেন।

 (3) ''স্বদেশী হল দেশের ঐতিহ্য ও জীবনধারার প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধা।

(4) স্বদেশি সম্পর্কে লালা লাজপত রায় বলেন যে, স্বদেশি মানে দেশের মুক্তি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বদেশি অর্জনের জন্য আত্মশক্তি বিকাশের ওপর জোর দেন।

স্বরাজ :

ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সময় স্বরাজ' কথাটিও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

 (1) জাতীয় কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে (১৯০৬ খ্রি.) সভাপতির ভাষণে দাদাভাই নওরোজি জাতীয় আন্দোলনের লক্ষ্য হিসেবে 'স্বরাজ' অর্জনের কথা বলেন।

 (2) পরবর্তীকালে নরমপন্থী ও চরমপন্থী নেতারা নিজ নিজ আদর্শ অনুযায়ী রাজশ ব্যাখ্যা করেন। নরমপন্থী নেতাদের কেউ কেউ স্বরাজ বলতে ব্রিটিশ শাসনের মধ্যে থেকে স্বাধিকার অর্জনের কথা বলেন। প্রখ্যাত বিপ্লবী সখারাম গণেশ দেউস্কর (১৮৬৯-১৯১২ খ্রি.) ‘স্বরাজ' শব্দটি স্বাধীনতার প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহার করেন। বিপিনচন্দ্র পালের ভাষায় স্বরা হল, ব্রিটিশ শাসনমুক্ত আত্মকর্তৃত্ব।

(3) বালগাধর তিলক বলেন, 'স্বরাজ আমার জন্মগত অধিকার। তবে তিলকের কাছে স্বরাজ' এর অর্থ ছিল শাসনব্যবস্থার ওপর ভারতীয় নিয়গুণ স্থাপন। 

(4) আবার অরবিন্দ ঘোষের বিচারে স্বরাজ ছিল 'নৈতিক' ও 'আধ্যাত্মিক শক্তির প্রকাশ। জাতীয় আন্দোলনের ক্ষেত্রে প্রথমে 'স্বরাজ' বলতে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বোঝানো হয়।পরবর্তীকালে 'স্বরাজ' অর্থে 'স্বাধীনতাকে বোঝানো হয়।


9. জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার কাল থেকে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কংগ্রেসের কার্যকলাপ সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর: ১৮৮৫ থেকে ১৯০৫ খ্রি. পর্যন্ত জাতীয় কংগ্রেসের কার্যাবলি :

প্রতিষ্ঠালাভের পরবর্তী কুড়ি বছর (১৮৮৫-১৯০৫ খ্রি.) জাতীয় কংগ্রেসের আদিপর্ব নামে পরিচিত। এই পর্বের নেতৃবৃন্দ সরকারের বিরুদ্ধে কোনোরূপ গণ আন্দোলন সংগঠিত করার পরিবর্তে 'আবেদন-নিবেদন' মাধ্যমে সরকারের সহানুভূতি অর্জনে আস্থাশীল ছিলেন। এই কারণে প্রথম পর্বের নেতাদের নরমপন্থী (Moderate) নামে অভিহিত করা হয়। কংগ্রেসের আদিপর্বের নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন দাদাভাই নওরোজি , বদরুদ্দিন তায়েবজী, গোপালকৃষ্ণ গোখলে, সুরেন্দ্রনাথ যন্দ্যাপাধ্যায়, ফিরোজ শাহ মেহতা, আনন্দ চারলু প্রমুখ। ড. রমেশচন্দ্র জুমদারের মত অনুযায়ী, ভারতের জাতীয় কংগ্রেস ভারতবাসীর স্বার্থের প্রহরী ("The Indian National Congress guarded the interests of India like a vigilant watchdog") i


আবেদন-নিবেদন নীতি: প্রথম পর্বের কংগ্রেস নেতাদের এয় সবাই ছিলেন উচ্চশিক্ষিত ও পাশ্চাত্য মনোভাবাপন্ন। ইংরেজ-জাতির উরতা ও ন্যায়বোধের ওপর এঁদের গভীর আস্থা ছিল। ধর্ম ও সমাজ সম্বোরের মতোই রাজনীতির ক্ষেত্রেও নরমপন্থীরা ছিলেন অতিসতর্ক শঙ্কারপন্থী। দাদাভাই নওরোজি বলেছিলেন—সদা ব্যস্ত ব্রিটিশ-জাতির কাছে আমরা যদি বলিষ্ঠ কণ্ঠে এবং বিচ্ছিন্নভাবে আমাদের বক্তব্য পৌঁছে দিতে পারি, তবে তা অবশ্যই বিফলে যাবে না।


>> লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য  : প্রথম পর্বের নেতৃবৃন্দ সাংবিধানিক পথে ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ভারতবাসীর দাবি আদায়ের জন্য নিরন্তর প্রয়াস চালান। কংগ্রেসের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল—(1)  জাতিধর্ম নির্বিশেষে ও গণতান্ত্রিক পথে একটি জাতীয় আন্দোলন সংগঠিত করা; (2)ভারতবাসীকে রাজনৈতিকভাবে হন করা; (3) সর্বভারতীয় স্তরে নেতৃত্ব দান এবং (4) ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে প্রচার করা।

এজন্য প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে বার্ষিক সম্মেলন আহ্বান করে প্রস্তাব গ্রহণ করা হত। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে–কংগ্রেস ভারতবাসীর ঐকা ও ব্রিটিশ শাসনের স্থায়িত্ব চায়।


> দাবি: প্রথম কুড়ি বছরে কংগ্রেসের দাবিগুলিকে চারভাগে ভাগ করা যায়-রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক।


● রাজনৈতিক দাবি:


(1) রাজনৈতিক দাবির মূল লক্ষ্য ছিল বেশিসংখ্যক ভারতীয়কে শাসনব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা। 

(2) প্রথম অধিবেশনেই কংগ্রেস ভারত-সচিবের দপ্তর বিলোপের দাবি জানায়। ভারত-বিে পরামর্শ দেওয়ার জন্য ওই দপ্তরের বদলে কমল সভায় একটি স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। 

(3) প্রতি প্রদেশ থেকে অন্তত দুজন করে ভারতীয়কে কমন্স সভায় মনোনয়নের দাবি জানানো হয়।

 (4) ব্যবস্থাপক সভায় (Legislative Council) নির্বাচিত প্রতিনিধি বাড়ানোর দাবি করা হয়। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় কাউন্সিল আইন প্রণয়ন করে।


প্রশাসনিক দাবি:


(1) প্রশাসনিক সংস্কার হিসেবে জাতীয় কংগ্রেস উচ্চপদে ভারতীয়দের নিয়োগ দাবি করে। এই ব্যবস্থা দ্বারা বিদেশে অর্থের বহির্গমন আটকানো এবং দেশের সেবায় দেশীয় মানুষের বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হয়।


(2)নরমপন্থী নেতারা সংবাদপত্র ও বাতৃস্বাধীনতার দাবিতে সোচ্চার হন। 

(3) শাসনবিভাগ ও বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ, জুরিব্যবস্থার সম্প্রসারণ, শিক্ষার আইন বাতিল ইত্যাদি দাবিও তোলা হয়।


(4) ভারতীয়দের সামরিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা ও উচ্চপদে নিয়োগের দাবি জানানো হয়।


অর্থনৈতিক দাবি:


(1) জাতীয় কংগ্রেস বার্ষিক অধিবেশনগুলিতে অর্থসংস্কারের ওপর জোর দেয়।


( 2)ভারত থেকে সম্পদের অবাধ বহির্গমন বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।


(3) ভারতের আর্থিক উন্নতির জন্য কংগ্রেস আধুনিক শিল্প-প্রতিষ্ঠার দাবি করে।


(4) শুরনীতি গ্রহণ করে শিল্পের বিকাশ ঘটানোর দাবি জানানো হয়।


(5) কৃষকের ওপর থেকে রাজস্বের ভার কমানোর দাবি করা হয়।


(6) চা-শ্রমিকদের সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি, লবণ করের বিলোপ ইত্যাদি দাবিও কংগ্রেস উত্থাপন করে।


(7) অরণ্য সংরক্ষণ ও আধিবাসীদের ক্ষেত্রে অরণ্য আইন সরল করার দাবি জানানো হয়। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবি: জাতীয় আন্দোলনের আধিপর্বের নেতারা অধিকার, বাক্ স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার জন্যও সংগ্রাম করেন।


ব্যর্থতা: জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর প্রথম কুড়ি বছরে কৃষক ও শ্রমিকশ্রেণির স্বার্থে কারেন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। সামগ্রিক বিচারে জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম পর্বের কার্যকলাপকে বখই বলা যায়। তবে এই ব্যর্থতার জন্য মূলত দায়ী ছিল ব্রিটিশ-জাতির অনমনীয় মনোভাব ও অসহযোগিতা। নরমপন্থীদের আবেদন-নিবেদন নীতিকে ইংরেজ সরকার কোনো মূল্য দেয়নি। তাই সমপন্থীর নরমপন্থীদের নীতিকে রাজনৈতিক ভিক্ষাবৃত্তি বলে বাল্লা করেন। আসলে তখন কংগ্রেসের খণভিত্তি হতে ছিল না। তাই ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণ আন্দোলন সংগঠিত করা সম্ভব ছিল না।

মূল্যায়ন: আপাত ব্যর্থ হলেও জাতীয় কংগ্রেসকে ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার ক্ষেত্রে নরমপন্থীদের অবদান অনস্বীকার্য। ঐতিহাসিক বিপানচন্দ্র লিখেছেন— ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময় ছিল ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বীজ বপনের কাল এবং আদিপর্বের নেতারাই সেই কাজ যথার্থভাবে সম্পন্ন করেছিলেন ("The period from 1885-1905 was the seed time of Indian nationalism and the earliest nationalists sowed the seeds well and deep")






রবিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২২

এপ্রিল ১০, ২০২২

দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান-জনন ও বংশগতি ( Reproduction and Heredity in Bengali class 10)

 

 জনন ও বংশগতি

Reproduction and Heredity
Reproduction and Heredity



১. যৌন জননের একক কি?

উত্তর: যৌন জননের একক গ্যামেট


২. যৌন  জনন কোন কোষ বিভাজন পদ্ধতিতে ঘটে?

উত্তর: মিয়োসিস কোষ বিভাজন পদ্ধতিতে ঘটে।



৩. অযৌন জননের একক কি?

উত্তর: অযৌন জননের একক হল রেনু।


৪. অযৌন জনন কোন কোষ বিভাজন পদ্ধতিতে ঘটে? 

উত্তর: অযৌন জনন মাইটোসিস কোষ বিভাজন পদ্ধতিতে ঘটে।



৫. দ্বিবিভাজন পদ্ধতিতে  কে অযৌন জনন সম্পন্ন করে?

উত্তর: অ্যামিবা।



৬. বহুবিভাজন কার দেখা যায়?

উত্তর: প্লাসমোডিয়াম এর দেখা যায়।



৭. খন্ডীভবন ঘটে এমন একটি উদ্ভিদের নাম?

উত্তর: স্পাইরোগাইরা



৮. ইস্ট কোন পদ্ধতিতে অযৌন জনন সম্পন্ন করে?

উত্তর: কোরকোদগম পদ্ধতিতে।



৯. হাইড্রা কিসের সাহায্যে বংশবিস্তার করে?

উত্তর: স্ফুটন এর সাহায্যে।



১০. টরুলা দশা কার দেখা যায়?

উত্তর: ইস্ট এর দেখা



১১. পেনিসিলিয়াম কিসের সাহায্যে অযৌন জনন সম্পন্ন করে?

উত্তর: কনিডিয়ার সাহায্যে ।




১২. গেমিউল গঠন এর মাধ্যমে কে বংশবিস্তার করে?

উত্তর: স্পঞ্জ।


১৩. রেনু উৎপাদন এর মাধ্যমে কারা অযৌন জনন সম্পন্ন করে? 

উত্তর: ছত্রাক , মস, ফার্ন।



১৪. সংশ্লেষ বা কনজুগেশন পদ্ধতিতে কারা যৌন জনন সম্পন্ন করে?

উত্তর: স্পাইরোগাইরা ও প্যারামেসিয়াম।



১৫. বহিঃনিষেক কার দেখা যায়?

উত্তর: মাছ ও ব্যাঙের।



১৬.  অর্ধবায়ব কান্ডের দ্বারা অঙ্গজ জনন করে এমন একটি উদ্ভিদের নাম?

উত্তর: কচুরিপানা।



১৭. পত্রজ মুকুল দ্বারা কে বংশবিস্তার করে?

উত্তর: পাথরকুচি।


১৮. বুলবিল এর দ্বারা জনন সম্পন্ন করে কে?

উত্তর: চুপড়ি আলু।

১৯. পেঁয়াজের পরিবর্তিত কান্ড কে কি বলে?

উত্তর: বালব বলে।

২০. ভূনিম্নস্থ কান্ডের সাহায্যে বংশবিস্তার করে কে? 

উত্তর: আলু।

২১. পুংগ্যামেট ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলনকে কী বলে?

উত্তর: নিষেক বলে।

২২. আদা কিসের সাহায্যে জনন করে?

উত্তর: রাইজোম এর সাহায্যে।



২৩. একটি কৃত্রিম অঙ্গজ জনন পদ্ধতির নাম লেখ।

উত্তর: শাখাকলম বা কাটিং।

২৪. গোলাপ কিসের সাহায্যে বংশবিস্তার করে?

উত্তর: শাখা কলম এর সাহায্যে।

২৫. স্টক ও সিয়ন কোন ধরনের কৃত্রিম অঙ্গজ জননে ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: জোড় কলম বা গ্রাফটিং।

২৬. জুস্পোর কোন উদ্ভিদে দেখা যায়?

উত্তর: ক্ল্যামাইডোমোনাস উদ্ভিদে।


২৭. কোন প্রাণীতে সুস্পষ্ট জনুক্রম দেখা যায়?

উত্তর: প্যারামেসিয়াম।

২৮. গ্রাফটিং নির্বাচিত উন্নত বৈশিষ্ট্যযুক্ত উদ্ভিদ শাখাকে কি বলে?

উত্তর: সিয়ন বলে।

২৯. লার্ভার যৌন জননকে কি বলে?

উত্তর: পিডোজেনেসিস।

৩০. একটি অন্তনিষেক কারী মেরুদন্ডী প্রাণীর উদাহরণ দাও।

উত্তর: মানুষ।

৩১. অপুংজনি কার দেখা যায়?

উত্তর: পুরুষ মৌমাছি ও বোলতা।


 সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন


১. সপুষ্পক উদ্ভিদের জনন অঙ্গের নাম কি?

উত্তর: ফুল।


২. দুটি একলিঙ্গ ফুলের উদাহরণ দাও।

উত্তর: লাউ,  কুমড়ো।


৩. একটি উভলিঙ্গ ফুলের উদাহরণ দাও।

উত্তর: জবা।


৪. দুটি বায়ু পরাগী ফুলের উদাহরণ দাও।

উত্তর: ধান ও গম।


৫. দুটি জল পরাগী ফুলের উদাহরণ দাও।

উত্তর: পাতাঝাঁঝি ও পাতাশ্যাওলা।


৬. দুটি পতঙ্গ পরাগী ফুলের উদাহরণ দাও।

উত্তর: আম ,সূর্যমুখী।


৭. দুটি পক্ষী পরাগী ফুলের উদাহরণ দাও।

উত্তর: পলাশ ও শিমুল।


৮. পরাগরেণু উৎপন্ন হয় কোথায়?

উত্তর: পরাগধানীতে।


৯. নিষেকের পর ডিম্বকটি কি গঠন করে?

উত্তর: বীজ গঠন করে।


১০. নিষেকের পর ডিম্বাশয় কি গঠন করে?

উত্তর: ফল গঠন করেন।


১১. ডিম্বাণু কোথায় উৎপন্ন হয়?

উত্তর: গর্ভাশয়স্থিত ডিম্বকের মধ্যে।


১২. ইতর পরাগযোগ ঘটে এমন একটি একলিঙ্গ ফুলের নাম লেখ।

উত্তর: পেঁপে।


১৩. পুংগ্যামেট ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলনের কি গঠিত হয়? 

উত্তর: জাইগোট গঠিত হয়।


১৪. ডিম্বাণু নিষেকের পর কিসে পরিণত হয়?

উত্তর: ভ্রূণে।


১৫. দ্বিনিষেক পদ্ধতি কোথায় দেখা যায়?

উত্তর: গুপ্তবীজী উদ্ভিদে।


১৬. পদ্মফুলে কি জাতীয় পরাগযোগ দেখা যায়?

উত্তর: এন্টোমোফিলি।


১৭. কোন পরাগযোগে বাহকের একান্ত প্রয়োজন?

উত্তর: ইতর পরাগযোগ।


১৮. ইতরপরাগযোগ কোন ফুলে দেখা যায়?

উত্তর: একলিঙ্গ ফুলে।


১৯. স্ট্যামিনোড কি?

উত্তর: নিষ্ক্রিয় এবং পরাগধানী বিহীন পুংকেশর কে স্ট্যামিনোড বলে।


২০. একটি আদর্শ ফুলের কয়টি স্তবক ও কি কি?

উত্তর: একটি আদর্শ ফুলের চারটি স্তবক-

১. বৃতি ২. দলমন্ডল ৩. পুংস্তবক ৪. স্ত্রী স্তবক.


২১. একলিঙ্গ ফুল কাকে বলে ? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রী স্তবক এর মধ্যে যেকোনো একটি উপস্থিত থাকে ,তাকে একলিঙ্গ ফুল বলে।

উদাহরণ: লাউ, কুমড়ো।


 ২২. সম্পূর্ণ ফুল কাকে বলে ? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে ফুলে চারটি স্তবক অর্থাৎ বৃতি ,দলমন্ডল, পুংস্তবক ও স্ত্রী স্তবক বর্তমান তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে।

উদাহরণ: জবা ও ধুতরা।

 

বংশগতি


১.বংশগতি কাকে বলে?


* যে প্রক্রিয়ায় জিনের মাধ্যমে জনিতৃর চারিত্রিক 

বৈশিষ্ট্যগুলি বংশপরম্পরায়  অপত্য এর মধ্যে সঞ্চারিত হয় ও প্রকাশ পায় তাকে বংশগতি বলে।


2. বংশগতির জনক কাকে বলা হয়?


উত্তর: গ্রেগর জোহান মেন্ডেল কে বংশগতির জনক বলা হয়।

৩. মেন্ডেলকে বংশগতির জনক বলা হয় কেন?


উত্তর: আধুনিককালে বংশগতির সংক্রান্ত যেসব তথ্য ও তত্ত্ব আবিষ্কৃত হয়েছে সেগুলি মেন্ডেল আবিষ্কৃত মৌলিক সূত্র গুলির উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠায় মেন্ডেলকে  বংশগতির জনক বলা হয়।


৪. মেন্ডেল বাদ কাকে বলে ?


উত্তর: মেন্ডেলের আবিষ্কৃত বংশগতির মৌলিক সূত্র গুলি কে এক কথায় মেন্ডেল বাদ বলে ।


৫. অ্যালিল কী?


উত্তর : সমসংস্থ ক্রোমোজোমের একই লোকাসে অবস্থিত  পরস্পর বিপরীত ধর্মী বৈশিষ্ট্যের জোড়াকে অ্যালিল বলে ।

  ৬. লোকাস কী?


উত্তর : ক্রোমোজোমের উপর যে স্থানে কোন জিন অবস্থান করে সেই স্থানটিকে লোকাস বলে।


  ৭. বংশগতির গঠনগত  বা কার্যগত একক কী?


উত্তর: বংশগতির গঠনগত  বা কার্যগত একক হল জিন।

৮. মিউটেশন কী?


উত্তর: কোন প্রজাতিভুক্ত জীবের বংশানুক্রমিকভাবে জীব কোষের মধ্যে সঞ্চারণ যোগ্য জিনের যে আকস্মিক পরিবর্তন ঘটে তাকে মিউটেশন বলে।


৯. জেনেটিক কোড কী?


উত্তর: প্রোটিন অনু গঠন কালে অ্যামাইনো অ্যাসিড এর সংকেত লিপিকে জেনেটিক কোড বলে।


১০. প্রকট  বলতে কী বোঝো?


উত্তর: দুটি বিশুদ্ধ বিপরীত বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবের সংকরায়নের উৎপন্ন প্রকাশিত বৈশিষ্ট্যকে প্রকট বলে।

১১. প্রচ্ছন্ন বলতে কী বোঝো?


উত্তর: দুটি বিশুদ্ধ বিপরীত বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবের সংকরায়নে উৎপন্ন অপ্রকাশিত বৈশিষ্ট্যকে প্রচ্ছন্ন বলে।


১২. ইমাসকুলেশন কী?


উত্তর: উভলিঙ্গ ফুলের পুংকেশরগুলিকে বাদ দেওয়ার পদ্ধতিকে ইমাসকুলেশন বলা হয়।


১৩. জেনেটিক কোড কে আবিষ্কার করেন?


উত্তর : জেনেটিক কোড আবিষ্কার করেন ডক্টর হরগোবিন্দ খোরানা ।


১৪. জিন শব্দটি কে প্রথম ব্যবহার করেন?


উত্তর: জিন শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন বিজ্ঞানী জোহানসেন।

  ১৫. পরীক্ষার জন্য  মেন্ডেল মটর গাছ নির্বাচন করেছিলেন কেন?


উত্তর: ১. মটর গাছ সহজলভ্য এবং অতি সহজে বাগানে চাষ করা যায়।


  ২ . মটর গাছ  বর্ষজীবী , ফলে জীবনচক্র দ্রুত শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে কয়েক পুরুষের উপর পরীক্ষানিরীক্ষা করা যায়।


৩. বংশপরম্পরায় নির্দিষ্ট চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যুক্ত বিশুদ্ধ অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি সম্ভব।


৪. স্বপরাগী হওয়ায় বাইরের কোনো অবাঞ্ছিত বৈশিষ্ট্য সংমিশ্রনের সম্ভাবনা নেই।


১৬. মেন্ডেলের সাফল্য লাভের কারণ কী?


উত্তর: ১. মটর গাছের সাত জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ 14 টি বৈশিষ্ট্যের প্রতিটি আলাদা ক্রোমোজোমে অবস্থান করে।


২. পরীক্ষার সময় তিনি একটি বা দুটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেন।


৩. একই চরিত্রের বিপরীত বৈশিষ্ট্য নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেন।


৪. পরীক্ষা দ্বারা গাণিতিক ফল ব্যক্ত করেন।



১৭. ফিনোটাইপ কী?


উত্তর: জীবের প্রকাশিত বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যকে ফিনোটাইপ বলে।

১৮. একসংকর জনন কাকে বলে?


উত্তর: একই প্রজাতির দুটি জীবের  একজোড়া বিপরীতধর্মী  বৈশিষ্ট্য নিয়ে সংকরায়ন  ঘটানোকে  একসংকর জনন বলে।

১৯. মেন্ডেল একসংকর জনন থেকে প্রথম কোন সূত্রটি উপস্থাপন করেন?


উত্তর: পৃথকীভবন এর  সূত্রটি উপস্থাপন করেন।


২০. দ্বিসংকর জনন কাকে বলে?


উত্তর: একই প্রজাতির দুটি জীবের দুই জোড়া বিপরীত ধর্মী বৈশিষ্ট্য নিয়ে সংকরায়ন ঘটানোকে দ্বিসংকর জনন বলে।

২১ মেন্ডেলের দ্বিসংকর জনন থেকে প্রাপ্ত সূত্রটির নাম কী?


উত্তর: মেন্ডেলের দ্বি সংকর জনন থেকে প্রাপ্ত সূত্রটি হল স্বাধীনবিন্যাসের সূত্র।


২২. অসম্পূর্ণ প্রকটতা কাকে বলে?


উত্তর: সংকর জীবে যে ধর্মের প্রভাবে প্রকট জিনটি  প্রচ্ছন্ন জিনের সাপেক্ষে সম্পূর্ণরূপে প্রকট না হয়ে প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের মধ্যবর্তী একটি মিশ্র ফিনোটাইপের প্রকাশ ঘটায়, তাকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা বলে


উদাহরণ: সন্ধ্যামালতী, স্নাপড্রাগণ।


২৩. মেন্ডেলের একসংকর জনন পরীক্ষার ফিনোটাইপ অনুপাত কত?


উত্তর: মেন্ডেলের একসংকর জনন পরীক্ষার ফিনোটাইপ অনুপাত হল ৩:১।




২৪ .মেন্ডলের প্রথম সূত্রের ব্যতিক্রম টি কী?

উত্তর: মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ব্যতিক্রম টি হল অসম্পূর্ণ প্রকটতা।


২৫. Tt এর ফিনোটাইপ কি হবে?


উত্তর: দীর্ঘ বা লম্বা ।


২৬. হোলানড্রিক জিন কী?


উত্তর: পুরুষদের Y  ক্রোমোজোমে অবস্থিত প্রকট জিন থাকলে তা উত্তরাধিকারসূত্রে পুত্রদের মধ্যে সঞ্চারিত হয় এই ধরনের জিনকে হোলানড্রিক জিন বল।


উদাহরণ:  পুরুষদের কানের লোম।


২৭. মানুষের লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম কোনগুলি?


উত্তর: মানুষের লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোমগুলি হল-


১. পুরুষদের ক্ষেত্রে X ও Y ক্রোমোজোম বা  XY


২. স্ত্রী দেহের ক্ষেত্রে দুটি  X ক্রোমোজোম বা  XX


২৮. মেন্ডেলের মটর গাছের দ্বিসংকর  জনন পরীক্ষার ফিনোটাইপ অনুপাত কত?


উত্তর:  মেন্ডেলের মটর গাছের দ্বিসংকর জনন পরীক্ষা ফিনোটাইপ অনুপাত হল ৯: ৩:৩:১


২৯. ব্যাক ক্রস কী?


উত্তর: অপত্য বংশীয় কোন জীবের সঙ্গে জনিতৃ জনুর কোন জীবের সংকরায়নের পদ্ধতিকে ব্যাক ক্রস বলে।


৩০. চেকার বোর্ড কী?


উত্তর: বংশগতিবিদ্যা প্রচলিত  ও সুবিধাজনক যে বর্গাকার ছকের মাধ্যমে সংকরায়ন পরীক্ষার সমস্ত ফলাফল লেখা হয় ও বিশ্লেষণ করা হয়, তাকে চেকার বোর্ড বলে।


৩১. কোন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম চেকার বোর্ড পদ্ধতি ব্যবহার করেন?


উত্তর: বিজ্ঞানী আর . সি . পানেট সর্বপ্রথম চেকার বোর্ড পদ্ধতি ব্যবহার করেন।


৩২. মানুষের দেহে কতগুলো ক্রোমোজোম থাকে?


উত্তর: মানুষের দেহে ক্রোমোজোমের সংখ্যা 46 টি।


৩৩. লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকা লেখ।


উত্তর: পুত্র ও কন্যা সন্তান সৃষ্টি হওয়ার পিছনে পিতার ভূমিকাই প্রধান। কারণ পিতার সেক্স  ক্রোমোজোম X ও Y প্রকারের। যেহেতু মাতার সেক্স ক্রোমোজোম XX প্রকারের, তাই তাদের এক ধরনের গ্যামেট X তৈরি হয়। অপরপক্ষে, পিতার দু ধরনের গ্যামেট X ও Y তৈরি হয়। যখন পিতার X গ্যামেট মাতার X গ্যামেটের সঙ্গে মিলিত হয়, তখন কন্যা সন্তান সৃষ্টি হয়। আবার পিতার Y গ্যামেট যখন মাতার X গ্যামেটের সঙ্গে মিলিত হয়, তখন পুত্র সন্তান সৃষ্টি হয়। অতএব সহজে বলা যায় যে, পুত্র কন্যা সন্তান সৃষ্টিতে পিতার ভূমিকাই প্রধান।


৩৪. বংশগতি ও প্রকরণ সংক্রান্ত আলোচনা ও অধ্যয়ন কে কী বলে?


উত্তর: জেনেটিক্স বলে।

৩৫. কানের লতি কয় প্রকার ও কী কী?


উত্তর: কানের লতি দুই প্রকার।


১. যুক্ত কানের লতি।


২. মুক্ত কানের লতি।


৩৬. প্রকরণ কাকে বলে?


উত্তর: জিনের মাধ্যমে বা পরিবেশের প্রভাব জনিত কারণে একই প্রজাতিভুক্ত জীবদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের যে পার্থক্য লক্ষ্য করা যায় তাকে ভেদ বা প্রকরণ বলে।


৩৭. মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের ব্যতিক্রম টি কী?


উত্তর: মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের ব্যতিক্রম টি হল লিংকেজ।


৩৮. লিংকেজ কী?


উত্তর: একটি ক্রোমোজোম এ উপস্থিত জিনগুলির একসঙ্গে সঞ্চারিত হওয়ার প্রবণতাকে লিংকেজ বলে।

৩৯. মিউল্যাটো কী?

উত্তর: শ্বেতকায় ও কৃষ্ণকায় স্ত্রী পুরুষের মিলনে উৎপন্ন মাঝারি রঙের ত্বক যুক্ত  সন্তানদের মিউল্যাটো বলে।


৪০. ইউজেনিক্স কী?


উত্তর: জেনেটিক্সে যে শাখায় মানব জাতির কল্যাণ ও উন্নতির জন্য জেনেটিক্স এর বিভিন্ন তথ্যকে  প্রয়োগ  করা  হয়,  তাকে  ইউজেনিক্স বলে।


৪১. সংকরায়ন কাকে বলে?


উত্তর: একই প্রজাতিভুক্ত বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন দুটি জীবের মিলন ঘটানোকে  সংকরায়ন বলে।

 কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ

১. জিনগত রোগ বলতে কী বোঝো?

উত্তর: ক্রোমোজোমের সংখ্যাগত বা গঠনগত পরিবর্তনের ফলে যে সমস্ত অস্বাভাবিক লক্ষণযুক্ত বংশগত রোগ সৃষ্টি হয় ,তাদের জিনগত রোগ বলে।


২. থ্যালাসেমিয়া কাকে বলে?

উত্তর: অটোজোম এ অবস্থিত প্রচ্ছন্ন পরিব্যক্ত একক জিনের কারণে সৃষ্ট যে রোগে  মানুষের দেহে হিমোগ্লোবিন উৎপাদন ত্রুটিযুক্ত হয় ও লোহিত কণিকা দ্রুত ভেঙে যাওয়ায় হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া সৃষ্টি হয়, তাকে থ্যালাসেমিয়া বলে।


৩. থ্যালাসেমিয়া রোগের লক্ষণগুলি লেখ।

উত্তর: ১. এই রোগের প্রধান লক্ষণ হলো হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের ত্রুটি এবং রক্তাল্পতা।

২. এছাড়া হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় লোহিতকণিকার আকার ছোট হয়ে যায়।

৩. অস্থি দুর্বল  ও  বিকৃত হয়।

৪. কালচে বর্ণের মুত্র উৎপন্ন হয়।


৪. মানুষের অটোজোমাল জিন বাহিত দুটি বৈশিষ্ট্য লেখ।

উত্তর: টাক পড়া ও জিভ রোল করার ক্ষমতা।


৫. মানুষের X ক্রোমোজোমাল জিন বাহিত দুটি রোগের নাম লেখ।

উত্তর: বর্ণান্ধতা ও হিমোফিলিয়া।


৬. কত নম্বর ক্রোমোজোমের মিউটেশনের ফলে বিটা থ্যালাসেমিয়া হয়?

উত্তর: 11 নম্বর। 



৭. হিমোফিলিয়া কি?

উত্তর: মানুষের X ক্রোমোজোম জিন সংঘটিত এমন একটি রোগ যাতে দেহের কোন স্থানে কেটে গেলে বা ক্ষত সৃষ্টি হলে তা থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় না বা রক্ত  তঞ্চিত হয় না তাকে হিমোফিলিয়া বলে।


৮. হিমোফিলিয়া রোগের লক্ষণ টি লেখ।

উত্তর: হিমোফিলিয়া একটি বংশগত রোগ। এই রোগে আঘাতপ্রাপ্ত স্থান থেকে অবিরাম রক্তক্ষরণ হতে থাকে রক্ত তঞ্চন হয় না।


৯. কে প্রথম হিমোফিলিয়া রোগটি আবিষ্কার করেন?

উত্তর: বিজ্ঞানী John Otto


১০. কোন রোগের জন্য বিবাহের পূর্বে জেনেটিক কাউন্সেলিং করতে হয়?

উত্তর: থ্যালাসেমিয়া।


১১. বর্ণান্ধতা কাকে বলে?

উত্তর: কোন মানুষ যখন লাল সবুজ বর্ণের পার্থক্য বুঝতে পারে না কিংবা বর্ণ চিনতে ভুল করে তাকে বর্ণান্ধ বলে এবং এই প্রকার অস্বাভাবিকতাকে বর্ণান্ধতা বলে।


১২. বর্ণান্ধতা রোগের কারণ লেখ।

উত্তর: বর্ণান্ধতা X ক্রোমোজোম এ অবস্থিত একটি জিনের মিউটেশনের জন্য হয়।


১৩. লাল রঙের বর্ণান্ধতা কে কি বলে?

উত্তর: প্রোটানোপিয়া বলে।


১৪. কোন হিমোফিলিয়া কে রাজকীয় হিমোফিলিয়া বলে?

উত্তর: হিমোফিলিয়া A ।


১৫. মেডিটেরিয়ান অ্যানিমিয়ার অপর নাম কি?

উত্তর: থ্যালাসেমিয়া মেজর।


১৬. নীল বর্ণান্ধতার জন্য  দায়ী ক্রোমোজোম টি কি?

উত্তর: সাত নম্বর অটোজোম।


১৭. বর্ণান্ধতা রোগের লক্ষণ টি লেখ।

উত্তর: লাল সবুজ বর্ণ চিনতে না পারা বা লাল সবুজ বর্ণ দেখতে না পাওয়া।


১৮. কোন হিমোফিলিয়াকে  ক্রিসমাস ডিজিজ বলে?

উত্তর: হিমোফিলিয়া B ।


১৯. থ্যালাসেমিয়াকে ভূমধ্যসাগরীয় রক্তাল্পতা বলে কেন?

উত্তর: থ্যালাসেমিয়া রোগটি ভূমধ্যসাগরীয় মূলত ইতালি, গ্রীস অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে প্রথম দেখা গিয়েছিল এজন্য একে ভূমধ্যসাগরীয় রক্তাল্পতা বলে।


২০. থ্যালাসেমিয়া মাইনর এর লক্ষণ কি?

উত্তর: যকৃত ও প্লীহা বড় হয়।


২১. সবুজ বর্ণান্ধতা কে কি বলে?

উত্তর: ডিউটেরানোপিয়া।


২২. হিমোফিলিয়া A রক্ত তঞ্চন এর কোন ফ্যাক্টর এর অভাবে হয়?

উত্তর: ফ্যাক্টর V I I I এর অভাবে হয়।


















এপ্রিল ১০, ২০২২

নবম শ্রেণীর ইতিহাস- জাতিসংঘ এবং সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (The League of Nations and The United Nations Organisation in bengali Class-9)

  

              জাতিসংঘ এবং সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ

United Nations
United Nations 


1. লিগ পরিষদ কিভাবে গঠিত হয় ?

উত্তর : লিগ পরিষদ গঠিত হয়েছিল ৫ টি স্থায়ী ও ৪ টি অস্থায়ী মোট ৯ টি সদস্য নিয়ে। ইংল্যান্ড ,ফ্রান্স ,ইতালি ,জাপান স্থায়ী সদস্য হিসেবে যোগদান করলেও আমেরিকা যোগ দেয়নি। পরে সোভিয়েত রাশিয়া ও জার্মানি স্থায়ী সদস্য হিসেবে যোগদান করলে স্থায়ী সদস্য সংখ্যা হয় ৬ এবং অস্থায়ী সদস্য হয় ৯।

2. লন্ডন ঘোষণাপত্র বলতে কী বোঝো?

উত্তর: ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে লন্ডন শহরে কানাডা ,নিউজিল্যান্ড ,অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিগণ মিলিত হয়ে একটি ঘোষণাপত্রের দ্বারা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব জানান । এই ঘোষণাপত্রই লন্ডন ঘোষণাপত্র নামে পরিচিত।


3. লন্ডন ঘোষণাপত্রের গুরুত্ব কী ?

উত্তর: ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে ইংল্যান্ড ,অস্ট্রেলিয়া ,নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিগণ লন্ডনে এক ঘোষণাপত্রের দ্বারা বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের প্রস্তাব দেন। অর্থাৎ এই ঘোষণাপত্রকেই সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ গঠনের প্রথম পদক্ষেপ বলে মনে করা যায়। তাই এর গুরুত্ব অপরিসীম।


4. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সনদ সদস্য বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: যেসকল রাস্ট্র ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সনদে প্রথম স্বাক্ষর করেছিল, তাদের সনদ সদস্য বলা হয়।১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুন সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সনদে ৫১ টি দেশ প্রথম স্বাক্ষর করে। এই ৫১ টি দেশ হলো সনদ সদস্য ভুক্ত দেশ।


5. জাতিপুঞ্জের উদ্দেশ্য গুলি কী?

উত্তর: সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের উদ্দেশ্য গুলি হল-

1. যুদ্ধ মুক্ত করে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা।

2. শান্তিভঙ্গকারী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং সব সদস্য রাষ্ট্রের দ্বারা প্রত্যেক রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও শান্তি সুনিশ্চিত করার জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।

3. আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়নীতি অনুসরণ করা।

4. বিভিন্ন জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার মেনে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সৌহার্দ্য স্থাপনের পথ পরিষ্কার করা।

5. পৃথিবীর মানবজাতির অর্থনৈতিক,সামাজিক প্রভৃতি বিভিন্ন মানবিক সমস্যাবলির সমাধান করা।

6. বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা।

7. সকল ধর্মাবলম্বীরা ভাষাভাষীর মানুষকে সম্মান মর্যাদা দান করা।


6. নিরাপত্তা পরিষদ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : নিরাপত্তা পরিষদ হল সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিশালী সংস্থা। ৫ টি স্থায়ী ও ৬ টি অস্থায়ী অর্থাৎ মোট ১১ টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ গঠিত হয়েছিল। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য ৬ থেকে বাড়িয়ে ১০ করা হয়। বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ১৫। অস্থায়ী সদস্যরা ২ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়।


7.   সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নীতি গুলি কী?

উত্তর : সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সনদের ২ নম্বর ধারায় জাতিপুঞ্জের নীতিগুলি লিপিবদ্ধ রয়েছে। নীতিগুলি হল-

1.  জাতিপুঞ্জের সদস্য রাষ্ট্রগুলির সমান সার্বভৌম মর্যাদা।

2. শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্তর্জাতিক বিরোধের সমাধান।

3. জাতিপুঞ্জ কোন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না ইত্যাদি।


8. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রধান সংস্থা কয়টি ও কী কী?

উত্তর: সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রধান সংস্থা ছয়টি

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রধান সংস্থাগুলি হল-

1. সাধারণ সভা।

2. নিরাপত্তা পরিষদ।

3. অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ।

4. অছি পরিষদ।

5. আন্তর্জাতিক বিচারালয়।

6. মহাসচিব ও সচিবালয়।


9. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভা কীভাবে গঠিত হয় ?

উত্তর: সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সকল সদস্যকে নিয়ে সাধারণ সভা গঠিত হয়। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে ৫১ টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে সাধারণ সভা গঠিত হয়েছিল। বর্তমানে সাধারণ সভার সদস্য রাষ্ট্র সংখ্যা ১৯৩। প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্র সাধারণ সভায় ৫ জন করে প্রতিনিধি পাঠাতে পারে। তবে ভোট দেয়ার সময় প্রত্যেক রাষ্ট্র একটিমাত্র ভোট প্রদানের অধিকারী।


10. জাতিপুঞ্জের কোন রাষ্ট্রের সদস্যপদ লাভের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: জাতিপুঞ্জ বা রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদের ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী জাতিপুঞ্জের নিয়ম কানুন মানতে বদ্ধপরিকর কোন রাষ্ট্র সদস্যপদ গ্রহণের আবেদন জানালে তা নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো হয়- এই পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে সাধারণ সভার ২/৩ অংশ সদস্যের সম্মতিতে আবেদনকারী রাষ্ট্র সদস্যপদ লাভ করে। 


11. ভেটো বলতে কী বোঝায় ?

উত্তর: সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে কোন প্রস্তাব গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থায়ী ৫ টি সদস্য রাষ্ট্রের সম্মতি প্রয়োজন। যে কোনো স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র অসম্মতি জানালে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়। স্থায়ী সদস্যদের অসম্মতিজ্ঞাপক ভোটে কোন প্রস্তাব বাতিল করার ক্ষমতাকে ভেটো বলে।


12. ডবল ভেটো বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫ টি সদস্য রাষ্ট্র ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। প্রয়োজনে এইসব সদস্য রাষ্ট্র একই বিষয়ে দুবার ভেটো দিতে পারে, একে ডবল ভেটো  বলে।


13. যুগ্ম নিরাপত্তা বলতে কী বোঝো ?

উত্তর: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাষ্ট্র নিজেদের নিরাপত্তা ও বিশ্বশান্তি রক্ষার জন্য একক প্রচেষ্টার পরিবর্তে মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিল। এইভাবে যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে যে শান্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল, সেটাই যুগ্ম নিরাপত্তা নামে পরিচিত।


14.  বারুচ প্রকল্প কী ?

উত্তর: ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে মার্কিন কূটনীতিবিদ বার্নার্ড বারুচের নামে একটি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা তৈরি হয়, যাতে পারমাণবিক শক্তির বিপজ্জনক ব্যবহারের এবং এই শক্তির বিজ্ঞানসম্মত ও অর্থনৈতিক ব্যবহারের কথা বলা হয়। এই প্রস্তাব জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভায় গৃহীত হলেও সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো প্রয়োগ দ্বারা এই প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে বাতিল হয়। এই প্রস্তাবই বারুচ প্রকল্প নামে পরিচিত।


15. নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান কাজ কী?

উত্তর : সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের উপর বহু গুরুত্বপূর্ণ কার্যভার অর্পণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান কাজ হল- 

1. আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা।

2. আন্তর্জাতিক শান্তি বজায় রাখার জন্য যেকোনো বিষয়ে তদন্ত ,সালিশি ও শাস্তিদান করা।

3. আন্তর্জাতিক শান্তিভঙ্গকারী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও সামরিক অভিযান পরিচালনা করা।

স্থায়ী সদস্যরা কোন প্রস্তাবে ভেটো প্রয়োগ করে সেটি নাকচ করে দিতে পারে।

5. অভিযোগকারী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যাতে অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলি সামরিক অভিযান চালায় ,সে ব্যাপারেও পরামর্শ দিতে পারে নিরাপত্তা পরিষদ।

6. আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই পরিষদ তদন্ত করতে পারে।


16. জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দুই বিবদমান রাষ্ট্রবিরোধী রাশিয়া ও আমেরিকার পৃথক পৃথক জোট গড়ে ওঠে। ভারতের নেতৃত্বে অনেক রাস্ট্র কোন জোটে যোগ না দিয়ে জোট নিরপেক্ষভাবে বৈদেশিক নীতি পরিচালনা করে। একে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন বলে।


17. সুয়েজ সংকট জাতিপুঞ্জের ভূমিকা কী ছিল ?

উত্তর: ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে মিশরের রাষ্ট্রপতি গামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করলে ইংল্যান্ড ,ফ্রান্স ও ইসরায়েল যৌথভাবে মিশর আক্রমণ করে সুয়েজ খালের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হয় ।শেষ পর্যন্ত জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভা যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দেয় এবং জাতিপুঞ্জের শান্তির সেনা মিশরে প্রবেশ করে ওই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনে।


18. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ব্যর্থতাগুলি লেখ।

উত্তর :  সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ব্যর্থতাগুলি হল-

1. এই সংস্থা ভারত পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে।

2. নয়া ঔপনিবেশিকতাবাদের হাত থেকে বিশ্বকে রক্ষা করতে পারেনি।

3. সর্বোপরি, উপসাগরীয় যুদ্ধ ও বর্ণবৈষম্য দূর করতে জাতিসংঘ ব্যর্থ হয়।


19. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা আলোচনা কর।

উত্তর: প্রয়োজনীয় আর্থিক তহবিল সংগ্রহ, স্থায়ী নিজস্ব সেনাবাহিনী গঠন, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি রাশিয়া ও আমেরিকার মত বৃহৎ শক্তির প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়া ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল রূপে প্রতিভাত হয়।


20. জাতিসংঘ কেন ব্যর্থ হয়েছিল?

উত্তর: মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে জাতিসংঘ স্থাপিত হলেও মূলত যেসব কারণে জাতিসংঘ ব্যর্থ হয়েছিল, সেগুলি হল-

1. জাতিসংঘের সাংগঠনিক দুর্বলতা,

2. তার ত্রুটিপূর্ণ ভোটদান পদ্ধতি,

3. আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মতো অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্রের জাতিসংঘের সদস্যপদ গ্রহণ না করা,

4. যুদ্ধকে বেআইনি ঘোষণা করলেও আগ্রাসনকে নিষিদ্ধ না করা,

5. জাতিসংঘের নিজস্ব সেনাবাহিনীর অভাব,

6. ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের তোষণনীতি এবং সর্বোপরি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মহামন্দা।


21.  জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মধ্যে সাদৃশ্য গুলি আলোচনা করো।

উত্তর: জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মধ্যে সাদৃশ্যগুলি হল-

1. বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসলীলার পরই দুটি সংগঠন জন্ম নেয়। জাতিসংঘ গঠিত হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষে এবং জাতিপুঞ্জ গঠিত হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে।

2. উভয় সংগঠনেরই লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিধান করা।

3. উভয় সংস্থারই অঙ্গসমূহের গঠনতন্ত্রে মিল ছিল।

4. উভয় সংস্থাই যুদ্ধের পরিবর্তে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের নীতিতে বিশ্বাসী ছিল।

5. জাতিসংঘ ও জাতিপুঞ্জ উভয়েরই সদস্য রাষ্ট্রগণ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে  ভেটো প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা দিতে পারে।

6. জাতিসংঘের ম্যান্ডেট ও জাতিপুঞ্জের অছি ব্যবস্থা প্রায় একই জিনিস।


22. জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মধ্যে বৈসাদৃশ্যগুলি আলোচনা করো।

উত্তর: জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মধ্যে বৈসাদৃশ্যগুলি হল-

1. জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যোগ না দেওয়ায় তা প্রথম থেকেই দুর্বল ছিল। কিন্তু সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথম থেকে যুক্ত আছে।

2. জাতিসংঘ প্রধানত শান্তি ও নিরাপত্তার দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেছিল। কিন্তু জাতিপুঞ্জ শান্তি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ব মানব সমাজের সংস্কৃতির বিকাশের দিকেও দৃষ্টি রাখে।

3. জাতিসংঘের তুলনায় সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ অনেক বেশি প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠান।

4. জাতিসংঘের সাফল্য ভার্সাই চুক্তির উপর নির্ভরশীল ছিল, কিন্তু জাতিপুঞ্জের সাফল্য কোন শক্তির উপর নির্ভরশীল নয়।

5. জাতিসংঘের সদস্য নয় এমন কোন রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারত না  কিন্তু অসদস্য রাষ্ট্রগুলিকেও  সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ শাস্তিপ্রদান করার অধিকারী।

6. জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলি নিজেদের বিশ্ববাসীর প্রতিনিধিরূপে ভাবতে পারেনি। অন্যদিকে জাতিপুঞ্জের সনদেই বিশ্ববাসীর নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।


23. পঞ্চশীল চুক্তি কী? এই চুক্তির আদর্শগুলি লেখ। 

উত্তর: ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে চীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ -এন -লাই এক শুভেচ্ছা সফরে ভারতে আসেন। এই সফরে তিব্বত সম্পর্কে উভয় দেশের মধ্যে একটা সমঝোতা হয়। ভারত ও চীন ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ধারণ এর কাছে পাঁচটি নীতি অনুসরণ করার অঙ্গীকার করে। সেই পাঁচটি নীতির ভিত্তিতে উভয় দেশ এক চুক্তি স্বাক্ষর করে। এটি পঞ্চশীল চুক্তি নামে পরিচিত।


চুক্তির আদর্শ: পঞ্চশীলের আদর্শ গুলি হল-

1. প্রত্যেক রাষ্ট্রের ভৌগলিক অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রদর্শন,

2. পরস্পরের বিরুদ্ধে আগ্রাসন থেকে বিরত থাকা।

3. অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকা,

4. পারস্পরিক মর্যাদা জ্ঞাপন

5. শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।

এই পঞ্চশীল নীতি কেবল ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হয়নি। আন্তর্জাতিক জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের ভিত্তিও এই পাঁচটি নীতি। পৃথিবীর বিভিন্ন সার্বভৌম রাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্ক এই পাঁচটি নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে তুলতে পারলে পৃথিবীর শান্তি বজায় রাখা সম্ভব হবে বলেন নেহেরু মনে করতেন।


24.  বান্দুং সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি সংক্ষেপে লেখ।

উত্তর: ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দের ১৮ থেকে ২৬ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ার বান্দুং শহরে একটি সম্মেলন আহূত হয়। এখানে এশিয়া ও আফ্রিকার মোট ২৬ টি দেশ মিলিত হয়। জহরলাল নেহেরুর নেতৃত্বে ভারত এই সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বান্দুং সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের সূচনা করে।

বিভিন্ন প্রস্তাব : বান্দুং সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাব গুলি হল-

1.  মৌলিক মানবাধিকার ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সনদের প্রতি মর্যাদা দেখাতে হবে।

2. প্রতিটি রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয়া হবে।

3. বর্ণগত ও জাতিগত বৈষম্যে স্বীকার করা হবে না।

4. আগ্রাসনমূলক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে হবে।

5. কোন বৃহৎ শক্তি আগ্রাসনে শামিল হওয়ার জন্য চাপ দিলেও মাথা নত করা হবে না।

6. সব জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকার করা হবে।

7. সমস্ত বিরোধ ও মতভেদ শান্তিপূর্ণ পথে পারস্পরিক আলাপ আলোচনা বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া হবে।

8. প্রতিদিনের ন্যায় নীতি ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের দায়বদ্ধতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।


25. আটলান্টিক চার্টারের গুরুত্ব কী ছিল?

আটলান্টিক চার্টারের গুরুত্ব : আন্তর্জাতিক সংগঠন সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ গড়ে তোলার পেছনে আটলান্টিক চার্টারের গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে। জাতিপুঞ্জের সনদের বিভিন্ন ধারায় আটলান্টিক চার্টারের ধারণাগুলির প্রভাব স্পষ্ট। সুস্থ, সুন্দর মানবজাতির গড়ে তোলার অঙ্গীকার এর মধ্যে দিয়ে আটলান্টিক চার্টার নবযুগের সম্ভাবনা সূচিত করে। কিন্তু অদ্যাবধি আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মধ্য এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সংঘাত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খবরদারি বিশ্ব শান্তি বিঘ্নিত করেছে। আটলান্টিক চার্টারে প্রত্যেকটি জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও ভারতসহ এশিয়া-আফ্রিকার অনেক দেশের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রযুক্ত  হয়নি। প্রত্যেকটি রাষ্ট্রকে সমান অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দেয়া হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে অনুন্নত দেশগুলোকে প্রয়োজনমতো অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা হয়নি। এই কারণে বিশ্ব ধনশালী, উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত এই তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তবে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে। সর্বোপরি একথা অনস্বীকার্য যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এখনো পর্যন্ত বিশ্ব যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা যায়নি।