Breaking

বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২২

এপ্রিল ২৭, ২০২২

ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থাপত্য ( various architectures of India in Bengali)

          ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থাপত্য 

Various architectures of India
Various architectures of India


  1. তাজমহল কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর :  মুঘল সম্রাট শাহজাহান।
  2. তাজমহল কোন রাজ্যে অবস্থিত  ?  উত্তর : উত্তরপ্রদেশের আগ্রা শহরে অবস্থিত।
  3. তাজমহল কার স্মৃতির উদ্দেশ্যে শাহজাহান তৈরি করেন  ?  উত্তর : তার প্রিয় পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতির উদ্দেশ্যে।
  4. তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত  ?  উত্তর : যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত।
  5.  কত সালে ইউনেস্কো তাজমহলকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি দেয়  ?  উত্তর : ১৯৮৩ সালে।
  6. সাঁচির স্তুপ কে নির্মাণ করেন   ?  উত্তর : মৌর্য সম্রাট অশোক।
  7. সাঁচির স্তুপ কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : মধ্যপ্রদেশের ভোপাল শহরের কাছে।
  8. কত সালে ইউনেস্কো সাঁচির স্তুপকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি দেয়   ?  উত্তর : ১৯৮৯ সালে।
  9. অজন্তা গুহা কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : মহারাষ্ট্রে।
  10. অজন্তা গুহা কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : গুপ্ত রাজবংশ।
  11. কত সালে ইউনেস্কো অজন্তা গুহাকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি দেয়   ?  উত্তর : ১৯৮৩ সালে।
  12. ইলোরা গুহা কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : মহারাষ্ট্রে অবস্থিত।
  13. ইলোরা গুহা কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : গুপ্ত রাজবংশ।
  14. কত সালে ইউনেস্কো ইলোরা গুহাকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি দেয়   ?  উত্তর : ১৯৮৩ সালে।
  15. নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : বিহারের পাটনা শহরের নিকট।
  16. নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : গুপ্ত সম্রাট প্রথম কুমারগুপ্ত।
  17. ভারতবর্ষের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম কী   ?  উত্তর : নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়।
  18. কত সালে ইউনেস্কো নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি দেয়   ?  উত্তর : ২০১৬ সালে।
  19. জগন্নাথ মন্দির কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : উড়িষ্যার পুরীতে অবস্থিত।
  20. জগন্নাথ মন্দির কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : গঙ্গ রাজা অনন্ত বর্মন চোরগঙ্গ।
  21. বিক্রমশিলা বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : বিহারের ভাগলপুর শহরের কাছে।
  22. বিক্রমশিলা বিশ্ববিদ্যালয় কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : পাল রাজা ধর্মপাল।  
  23. বিরুপাক্ষ মন্দির কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : হাম্পি যেটি কর্নাটকে অবস্থিত।
  24. বিরুপাক্ষ মন্দির কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : চালুক্য রাজা দ্বিতীয় বিক্রমাদিত্য।
  25. সূর্য মন্দির কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : উড়িষ্যার কোনারকে অবস্থিত।
  26. সূর্য মন্দির কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : গঙ্গ রাজা প্রথম নরসিংহদেব।
  27. কত সালে ইউনেস্কো সূর্য মন্দিরকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি দেয়   ?  উত্তর : ১৯৮৪ সালে।
  28. মহাবলীপুরমের রথ মন্দির কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : তামিলনাড়ুর মামল্লপুরমে অবস্থিত।
  29. মহাবলীপুরমের রথ মন্দির কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : পল্লবরাজ প্রথম নরসিংহবর্মন।
  30. কত সালে ইউনেস্কো মহাবলীপুরমের রথ মন্দিরকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান এর স্বীকৃতি দেয়   ?  উত্তর : ১৯৮৪ সালে।
  31. কৈলাস মন্দির কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : তামিলনাড়ুর কাঞ্চিতে অবস্থিত।
  32. কৈলাসনাথ মন্দির কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : পল্লবরাজ দ্বিতীয় নরসিংহবর্মন।
  33. ইলোরার কৈলাস মন্দির কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ শহরে।
  34. ইলোরার কৈলাস মন্দির কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : রাষ্ট্রকূট রাজ প্রথম কৃষ্ণ।
  35. খাজুরাহ মন্দির কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : মধ্যপ্রদেশে অবস্থিত।
  36. খাজুরাহ মন্দির কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : চান্দেলা রাজবংশ।
  37. কত সালে ইউনেস্কো খাজুরাহ মন্দিরকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়   ?  উত্তর : ১৯৮৬ সালে।
  38. দিলওয়ারা জৈন মন্দির কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : রাজস্থানের মাউন্ট আবুতে।
  39. দিলওয়ারা জৈন মন্দির কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর :  সোলাঙ্কিরাজ সিদ্ধরাজা।
  40. রানি কি ভাভ কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : গুজরাটের পাঠনে।
  41. রানি কি ভাভ কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : সোলাঙ্কিরাজ প্রথম ভীমের পত্নী উদয়মতি।
  42. কত সালে ইউনেস্কো রানি কি ভাভকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি দেয়   ?  উত্তর : ২০১৪ সালে।
  43. বৃহদেশ্বর মন্দির কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : তামিলনাড়ুর তাঞ্জাভুরে।
  44. বৃহদেশ্বর মন্দির কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : চোল রাজা প্রথম রাজরাজ।
  45. কত সালে ইউনেস্কো বৃহদেশ্বর মন্দিরকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়   ?  উত্তর : ২০০৪ সালে।
  46. কুতুবমিনার কোথায় অবস্থিত।    ?  উত্তর : দিল্লিতে।
  47. কুতুব মিনার কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : কুতুবউদ্দিন আইবক।
  48. কত সালে ইউনেস্কো কুতুবমিনারকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়    ?  উত্তর : ১৯৯৩ সালে।
  49. এলিফ্যান্টা গুহা কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : মুম্বাই শহরের নিকট এলিফ্যান্টা দ্বীপে।
  50. এলিফ্যান্টা গুহা কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : রাষ্ট্রকূট রাজবংশ।
  51. কত সালে ইউনেস্কো এলিফ্যান্টা গুহাকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়   ?  উত্তর : ১৯৮৭ সালে।
  52. আড়াই দিন কা ঝোপড়া কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : রাজস্থানের আজমিরে।
  53. আড়াই দিন কা ঝোপড়া কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবক।
  54. আলাই মিনার কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : দিল্লিতে।
  55. আলাই মিনার কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : আলাউদ্দিন খলজি।
  56. হজ খস কোথায় অবস্থিত           ?  উত্তর : দিল্লিতে।
  57. হজ খস কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : আলাউদ্দিন খলজি।
  58. আরামবাগ স্থাপত্য কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : উত্তরপ্রদেশের আগ্রাতে।
  59. আরামবাগ স্থাপত্য কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : মুঘল সম্রাট বাবর।
  60. হুমায়ুনের সমাধিক্ষেত্র কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : দিল্লিতে।
  61. হুমায়ুনের সমাধিক্ষেত্র কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের পত্নী হাজী বেগম।
  62. কত সালে ইউনেস্কো হুমায়ুনের সমাধিক্ষেত্রকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি দেয়   ?  উত্তর : ১৯৯৩ সালে।
  63. বুলন্দ দরওয়াজা কে নির্মাণ করেন   ?  উত্তর : মুঘল সম্রাট আকবর।
  64. বুলন্দ দরওয়াজা কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : উত্তরপ্রদেশের আগ্রার নিকট ফতেপুর সিক্রিতে।
  65. আগ্রা দুর্গ কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : উত্তরপ্রদেশের আগ্রাতে।
  66. আগ্রা দুর্গ কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : মুঘল সম্রাট আকবর।
  67. কত সালে ইউনেস্কো আগ্রা দুর্গকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি দেয়   ?  উত্তর : ১৯৮৩ সালে।
  68. ঈগলের বাসা স্থাপত্য কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : মহারাষ্ট্রের রায়গড়তে।
  69. ঈগলের বাসা স্থাপত্য কে নির্মাণ করেন   ?  উত্তর : ছত্রপতি শিবাজী।
  70. ভারতবর্ষের বৃহত্তম গম্বুজের নাম কী   ?  উত্তর : গোলগম্বুজ।
  71. গোলগম্বুজ কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : কর্নাটকের বিজাপুরে।
  72. গোলগম্বুজ কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : মহম্মদ আদিল শাহ।
  73. স্বর্ণমন্দির গুরদ্বারা কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : পাঞ্জাবের অমৃতসরে।
  74. স্বর্ণমন্দির গুরদ্বারা কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : গুরু রামদাস।
  75. বিজয় স্তম্ভ কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : রাজস্থানের চিতোরগড়ে।
  76. বিজয় স্তম্ভ কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : মেওয়ারের রাজা রানা কুম্ভ।
  77. লালবাগ স্থাপত্য কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : ব্যাঙ্গালোরে।
  78. লালবাগ কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : হায়দার আলী।
  79. আকবরের সমাধিক্ষেত্র কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : উত্তরপ্রদেশের আগ্রার নিকট সিকান্দ্রা শহরে ।
  80. আকবরের সমাধিক্ষেত্র কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : আকবর।
  81. চারমিনার কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : হায়দ্রাবাদে।
  82. চারমিনার কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : কুতুবশাহী  সাম্রাজ্যের সুলতান মহম্মদ কুয়ালি কুতুব শাহ ।
  83. লালকেল্লা কোথায় অবস্থিত       ?  উত্তর : দিল্লিতে।
  84. লালকেল্লা কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : মুঘল সম্রাট শাহজাহান।
  85. কত সালে ইউনেস্কো লালকেল্লা স্থাপত্যকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি দেয়    ?  উত্তর : ২০০৭ সালে।
  86. বিবি কা মকবারা কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ শহরে।
  87. বিবি কা মকবারা কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব।
  88. মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব কার স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই স্থাপত্যটি নির্মাণ করেন   ?  উত্তর : তার স্ত্রী দিলরাস বানু বেগমের স্মৃতির উদ্দেশ্যে।
  89. যন্তর মন্তর কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : রাজস্থানের জয়পুরে।
  90. যন্তর মন্তর কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : রাজপুত রাজা দ্বিতীয় জয়সিংহ।
  91. কত সালে ইউনেস্কো যন্তর-মন্তরকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি দেয়   ?  উত্তর : ২০১০ সালে।
  92. শালিমার বাগ স্থাপত্য কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগরে।
  93. শালিমার বাগ স্থাপত্য কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর।
  94. জাহাঙ্গীর কাকে খুশি করবার জন্য শালিমার বাগ স্থাপত্যটি নির্মাণ করেন   ?  উত্তর : জাহাঙ্গীর তার স্ত্রী নুরজাহানকে খুশি করবার জন্য এটি নির্মাণ করেন।
  95. সবরমতি আশ্রম কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : গুজরাটের আহমেদাবাদে শহরে।
  96. সবরমতী আশ্রম কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : মহাত্মা গান্ধী।
  97. ভিক্টোরিয়া টার্মিনাস কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : মহারাষ্ট্রে।
  98. ভিক্টোরিয়া টার্মিনাস কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : ফ্রেডরিক উইলিয়াম স্টিভেন্স।
  99. কত সালে ভিক্টোরিয়া টার্মিনাস পরিবর্তিত হয়ে ছত্রপতি শিবাজী টার্মিনাস নামকরণ হয়   ?  উত্তর :১৯৯৬ সালে।
  100. কত সালে ইউনেস্কো ছত্রপতি শিবাজী টার্মিনাস রেলস্টেশনকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি দেয়   ?  উত্তর : ২০০৪ সালে।
  101. পার্লামেন্ট ভবন কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : নিউ দিল্লিতে।
  102. পার্লামেন্ট ভবন কে প্রতিষ্ঠিত করেন   ?  উত্তর : এডউইন লুটেনস এবং হার্ভার্ড বেকার।
  103. রাইসিনা হিলস কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : নিউদিল্লিতে।
  104. রাইসিনা হিলস কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : এডউইন লুটেনস।
  105. গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : মুম্বাইতে।
  106. গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : জর্জ উইটেট।
  107. ইন্ডিয়া গেট কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : নিউ দিল্লিতে।
  108. ইন্ডিয়া গেট কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : এডউইন লুটেনস।
  109. স্ট্যাচু অফ ইউনিটি কোথায় অবস্থিত   ?  উত্তর : গুজরাটের কেওরিয়াতে।
  110. স্ট্যাচু অফ ইউনিটি কে প্রতিষ্ঠা করেন   ?  উত্তর : রাম বানজি সুতর।
  111. স্ট্যাচু অফ ইউনিটি কার মূর্তি   ?  উত্তর : স্যার সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেলের।


সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২২

এপ্রিল ২৫, ২০২২

বিভিন্ন রাজ্যের প্রকল্প (project of different states in Bengali)

         বিভিন্ন রাজ্যের প্রকল্প



  1. কিষান কল্যাণ মিশন প্রকল্প কোন রাজ্য সরকার চালু করেছে   ?  উত্তর :  উত্তরপ্রদেশ সরকার।
  2. মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার সেল প্রকল্প কে চালু করেছেন    ?  উত্তর : কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
  3. কিষান ফসল রাহত যোজনা কোন রাজ্য সরকার চালু করেছে  ?  উত্তর : ঝাড়খন্ড সরকার। 
  4. কিষাণ ফসল রাহত যোজনা কোন যোজনার পরিবর্তে চালু করা হয়েছে  ?  উত্তর : ফসল বীমা যোজনার পরিবর্তে চালু করা হয়েছে।
  5. ভারতের প্রথম এয়ার ট্যাক্সি সার্ভিস প্রকল্প কে চালু করেছে  ?  উত্তর : হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর মনোহর লাল খট্টার।
  6. কোন দুই স্থানের মধ্যে ভারতের প্রথম এয়ার ট্যাক্সি পরিষেবা চালু হয়েছে  ?  উত্তর : চন্ডিগড় থেকে হিসার পর্যন্ত।
  7. লঞ্চ প্যাড স্কিম কোন রাজ্য সরকার চালু করেছে    ?  উত্তর : মধ্যপ্রদেশ সরকারের মহিলা এবং শিশু কল্যাণ দপ্তর।
  8. 'ঘর ঘর রোজগার তে কারোবার মিশন' প্রকল্প কে চালু করেছেন  ?  উত্তর : পাঞ্জাবের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংহ।
  9. পাওয়ার সাবসিডি স্কিম কোন রাজ্য সরকার চালু করেছে  ?  উত্তর : মধ্যপ্রদেশ সরকার।
  10. মুখ্যমন্ত্রী বগায়াত বিকাশ মিশন কে চালু করেছে।    ?  উত্তর : গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি।
  11. সুইচ দিল্লি অভিযান কে চালু করেছে  ?  উত্তর : দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
  12. মুখ্যমন্ত্রী বিজ্ঞান প্রতিভা পরীক্ষা প্রকল্প কে চালু করেছে   ?  উত্তর : দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের  নেতৃত্বাধীন দিল্লি ক্যাবিনেট।
  13. প্রজ্ঞান ভারতী এবং ভাষা প্রকল্প কোন রাজ্য মন্ত্রী চালু করেছে  ?  উত্তর : অসমের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী।
  14. রিওয়ার্ড প্রোজেক্ট প্রকল্প কে চালু করেছেন  ?  উত্তর : উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের নেতৃত্বাধীন উড়িষ্যা ক্যাবিনেট।
  15. কেরালা নলেজ মিশন প্রকল্প কে চালু করেছেন ?  উত্তর : কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।
  16. লাল লকির মিশন প্রকল্প কে চালু করেছেন   ?  উত্তর : পাঞ্জাবের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংয়ের নেতৃত্বাধীন পাঞ্জাব ক্যাবিনেট।
  17. সুপার -৭৫ স্কলার্শিপ প্রকল্প কে চালু করেছেন  ?  উত্তর : জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা।
  18. সামার অভিযান প্রকল্প কোন রাজ্য সরকার চালু করেছে  ?  উত্তর : ঝাড়খন্ড সরকার।
  19. জনশক্তি অভিযান : ক্যাচ দ্য রেন অভিযান কে চালু করেছে  ?  উত্তর : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
  20. দেখো আপনা প্রদেশ অভিযান প্রকল্প কে চালু করেছেন  ?  উত্তর : অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী প্রেমা খাণ্ডু।
  21. পর্বত দ্ধারা যোজনা প্রকল্প কোন রাজ্য সরকার চালু করেছে  ?  উত্তর : হিমাচল প্রদেশ সরকার।
  22. শ্রমিক মিত্র প্রকল্প কোন রাজ্য সরকার চালু করেছে  ?  উত্তর : দিল্লি সরকার।
  23. রকসক প্রোগ্রাম প্রকল্প কে চালু করেছেন  ?  উত্তর : উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক।
  24. বায়ু স্বাস্থ্য সেবা প্রকল্প কে চালু করেছেন  ?  উত্তর : উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক।
  25. স্ট্রীট প্রোজেক্ট প্রকল্প কোন রাজ্য সরকার চালু করেছে  ?  উত্তর : কেরল পর্যটন দফতর।
  26. ফিফা ফুটবল ফর স্কুল প্রোগ্রাম প্রকল্প কে চালু করেছেন  ?  উত্তর : উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক।
  27. গো গ্রীন প্রকল্প কে চালু করেছেন  ?  উত্তর : গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল।
  28. ক্লিন ইন্ডিয়া প্রোগ্রাম কে চালু করেছেন  ?  উত্তর :  কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর।
  29. মেরা ঘর মেরা নাম প্রকল্প কে চালু করেছেন ?  উত্তর : পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নি।
  30. দেশ কে মেন্টর প্রোগ্রাম প্রকল্প কে চালু করেছেন   ?  উত্তর : দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
  31. স্মার্ট  হেলথ কার্ড  স্কিম প্রকল্প কোন রাজ্য সরকার চালু করেছে  ?  উত্তর : উড়িষ্যা সরকার।
  32. রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য সেবক অভিযান প্রকল্প  কে চালু করেছে  ?  উত্তর : উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
  33. দলিত বন্ধু প্রকল্প কে চালু করেছে  ?  উত্তর : তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও।
  34. প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা ২.০ কে চালু করেছেন  ?  উত্তর : প্রধানমন্ত্রী  নরেন্দ্র  মোদি।
  35. উড়ান প্রকল্প কে চালু করেছেন  ?  উত্তর : পাঞ্জাব সামাজিক সুরক্ষা, নারী ও  শিশুকল্যাণ মন্ত্রীরী অরুণা চৌধুরী।

শুক্রবার, ২২ এপ্রিল, ২০২২

এপ্রিল ২২, ২০২২

বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রথম ভারতীয় মহিলা (First women in India in various fields in Bengali)

     বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রথম ভারতীয়                          মহিলা

First women in India in various fields
First women in India in various fields


  1. ভারতের প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন  ?  উত্তর : শ্রীমতি প্রতিভা পাটিল।
  2. ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন  ?  উত্তর : শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী।
  3. ভারতের প্রথম মহিলা রাজ্যপাল কে ছিলেন  ?  উত্তর : সরোজিনী নাইডু।
  4. ভারতের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন  ?  উত্তর : সুচেতা কৃপালিনী।
  5. ভারতের প্রথম মহিলা লোকসভার অধ্যক্ষ কে ছিলেন  ?  উত্তর : মীরা কুমার।
  6. ভারতের প্রথম মহিলা রাষ্ট্রদূত কে ছিলেন  ?  উত্তর : বিজয়লক্ষী পন্ডিত।
  7. ভারতের প্রথম মহিলা নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন   ?  উত্তর : রমা দেবী।
  8. জ্ঞানপীঠ পুরস্কার প্রাপক ভারতের প্রথম মহিলা কে হয়েছিলেন  ?  উত্তর : আশাপূর্ণা দেবী।
  9. পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রাপক ভারতের প্রথম মহিলা কে হয়েছিল  ?  উত্তর : নার্গিস দত্ত।
  10.  ভারতরত্ন পুরস্কার প্রাপক ভারতের প্রথম মহিলা কে হয়েছিলেন?  উত্তর : ইন্দিরা গান্ধী।
  11. ভারতের প্রথম কেন্দ্রীয় মহিলা মন্ত্রী কে হয়েছিলেন  ?  উত্তর : রাজকুমারী অমৃত কাউর ‌।
  12. ভারতের প্রথম মহিলা রাজ্যসভার সদস্য কে হয়েছিলেন  ?  উত্তর : নার্গিস দত্ত।
  13. বুকার পুরস্কার প্রাপক ভারতের প্রথম মহিলা কে হয়েছিলেন   ?  উত্তর : অরুন্ধতী রায়।
  14. আন্টার্টিকা অভিযানকারী ভারতের প্রথম মহিলা কে হয়েছিলেন  ?  উত্তর : মেহের মুস।
  15. এশিয়াডে সোনাজয়ী ভারতের প্রথম মহিলার নাম  কী  ?  উত্তর : কমলজিৎ সিং সাধু।
  16. নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ভারতের প্রথম মহিলা কে হয়েছিলেন  ?  উত্তর : মাদার টেরিজা ।
  17. অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী ভারতের প্রথম মহিলার নাম কী  ?  উত্তর : কর্ণম মালেশ্বরী।
  18. দাবায় গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়া ভারতের প্রথম মহিলার নাম কী  ?  উত্তর : কোনেরু হাম্পি।
  19. বাংলা সাহিত্যে ঔপন্যাসিক ভারতের প্রথম মহিলার নাম কী  ?  উত্তর : স্বর্ণকুমারী দেবী।
  20. রিজার্ভ ব্যাংকের ভারতের প্রথম মহিলা ডেপুটি গভর্নরের নাম কী  ?  উত্তর : জে কে উদেসি।
  21. ভারতের প্রথম মহিলা মার্চেন্ট নেভি অফিসারের নাম কী  ?  উত্তর : সোনালী ব্যানার্জি।
  22. ভারতের  স্থলবাহিনীর প্রথম মহিলা লেফটেন্যান্ট জেনারেলের নাম কী  ?  উত্তর : পুনিতা অরোরা।
  23. দ্বিশত রানের অধিকারী ভারতের প্রথম মহিলা ক্রিকেটারের নাম কী  ?  উত্তর : মিতালি রাজ।
  24. ভারতের প্রথম মহিলা মিস ইউনিভার্স কে হয়েছিলেন  ?  উত্তর : সুস্মিতা সেন।
  25. ভারতের প্রথম মিস ওয়ার্ল্ড কে হয়েছিলেন  ?  উত্তর : রিতা ফারিয়া।
  26. ভারতের প্রথম মহিলা বিদেশ সচিবের নাম কী  ?  উত্তর : লক্ষ্মী এন মেনন ‌।
  27. ইংরেজি ভাষার  ভারতের প্রথম মহিলা কবির নাম কী  ?  উত্তর : তরু দত্ত।
  28. দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার প্রাপক ভারতের প্রথম মহিলার নাম কী  ?  উত্তর : দেবিকা রানি।
  29. জিব্রাল্টার প্রণালী অতিক্রমকারী ভারতের প্রথম মহিলা সাঁতারুর নাম কী  ?  উত্তর : আরতি প্রধান।
  30. ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমকারী ভারতের প্রথম মহিলা সাঁতারুর  নাম কী  ?  উত্তর : আরতী সাহা।
  31. ভারতের প্রথম মহিলা মহাকাশচারীর নাম কী  ?  উত্তর : কল্পনা চাওলা।
  32. ভারতের প্রথম মহিলা বিমান চালকের নাম কী ?  উত্তর : দূর্বা ব্যানার্জি।
  33. এভারেস্টজয়ী ভারতের প্রথম মহিলার নাম কী  ?  উত্তর : অরুনিমা সিনহা।
  34. এভারেস্টজয়ী ভারতের প্রথম মহিলার নাম কী  ?  উত্তর : বাচেন্দ্রী পাল।
  35. ভারতের প্রথম মহিলা আই পি এস অফিসারের নাম কী  ?  উত্তর : কিরণ বেদি।
  36. ভারতের প্রথম মহিলা আই এ এস অফিসারের নাম কী  ?  উত্তর : আন্না জর্জ মালহোত্রা।
  37. সুপ্রিম কোর্টের ভারতের প্রথম মহিলা বিচারপতির নাম কী  ?  উত্তর : মীরাসাহিব ফতিমা বিবি।
  38. এম এ উত্তীর্ণ ভারতের প্রথম মহিলার নাম কী  ?  উত্তর : চন্দ্রমুখী বসু।
  39. ভারতের প্রথম মহিলা স্নাতকের নাম কী  ?  উত্তর : কাদম্বিনী গাঙ্গুলী।
  40. হাইকোর্টের ভারতের প্রথম মহিলা বিচারপতির নাম কী  ?  উত্তর : আন্না চন্ডী।
  41. হাইকোর্টের  ভারতের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতির নাম কী  ?  উত্তর : লীলা শেঠ।
  42. জাতীয় কংগ্রেসের ভারতের প্রথম মহিলা সভাপতির নাম কী  ?  উত্তর : সরোজিনী নাইডু।
  43. দুবার মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী ভারতের প্রথম মহিলার নাম কী  ?  উত্তর : সন্তোষ যাদব।
  44. অশোক চক্র পুরস্কার প্রাপক ভারতের প্রথম মহিলার নাম কী  ?  উত্তর : নীরজা ভানোট।
  45. ডব্লু  টি এ টাইটেল জয়ী ভারতের প্রথম মহিলার নাম কী  ?  উত্তর : সানিয়া মির্জা।
  46. ভারতের প্রথম অনার্স গ্রাজুয়েট মহিলার নাম কী  ?  উত্তর : কামিনী রায়।
  47. ভারতের প্রথম মহিলা চলচ্চিত্র পরিচালকের নাম কী  ?  উত্তর : বেগম ফতিমা।
  48. ভারতের প্রথম সবাক চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী কে ছিলেন  ?  উত্তর : জুবেইদা।
  49. ভারতের প্রথম মহিলা রেল মন্ত্রীর নাম কী  ?  উত্তর : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
  50. প্রথম ভারতীয় তথা এশীয় যিনি ইংলিশ চ্যানেল পার হন তার নাম কী  ?  উত্তর : আরতী সাহা।
  51. ভারতের প্রথম কোন মহিলা সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার পান  ?  উত্তর : অমৃতা প্রীতম।
  52. ভারতের কোন মহিলা সংগীতশিল্পী হিসেবে রমন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পান  ?  উত্তর : এম এস সুব্বু লক্ষী।

বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২২

এপ্রিল ২১, ২০২২

বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রথম ভারতীয় পুরুষ (First men in India in various fields in Bengali)

       

      বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রথম ভারতীয়                        পুরুষ

First men in India in various fields
First men in India in various fields



  1. ভারতের  জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি কে ছিলেন     ?  উত্তর : উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি।
  2. ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি কে ছিলেন  ?  উত্তর : বদরুদ্দীন তায়াবজি।
  3. ভারতের প্রথম আইসিএস উত্তীর্ণ কে হয়েছিলেন ?  উত্তর : সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
  4. ভারতের প্রথম আই সি এস অফিসার কে হয়েছিলেন  ?  উত্তর : সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  5. ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন  ?  উত্তর : ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ।
  6. ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন  ?  উত্তর : পন্ডিত জহরলাল নেহেরু।
  7. ভারতের প্রথম নোবেল পুরস্কার কে পেয়েছিলেন  ?  উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  8. ভারতের প্রথম মুসলিম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন  ?  উত্তর : ডক্টর জাকির হোসেন।
  9. ভারতের প্রথম শিখ রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন  ?  উত্তর : ডঃ মনমোহন সিং।
  10. ভারতের প্রথম মহাকাশচারীর নাম কী  ?  উত্তর : রাকেশ শর্মা।
  11. ভারতের প্রথম ভারতরত্ন পুরস্কার প্রাপকের নাম কী  ?  উত্তর : ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ, চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী।
  12. ভারতের প্রথম ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমকারী সাঁতারুর নাম কী  ?  উত্তর : মিহির সেন।
  13. ভারতের প্রথম লোকসভার অধ্যক্ষ কে ছিলেন  ?  উত্তর : জি ভি মাভলাঙ্কার।
  14. ভারতের প্রথম লোকসভার বিরোধী দলনেতা কে ছিলেন  ?  উত্তর : এ কে গোপালন।
  15. ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি কে ছিলেন  ?  উত্তর : ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ।
  16. ভারতের প্রথম শিক্ষা মন্ত্রী কে ছিলেন  ?  উত্তর : মৌলানা আবুল কালাম আজাদ।
  17. ভারতের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন  ?  উত্তর : সরদার বল্লভভাই প্যাটেল।
  18. ভারতের প্রথম নোবেল পুরস্কার প্রাপক বিজ্ঞানীর নাম কী  ?  উত্তর : ড: সি ভি রমন।
  19. ভারতের প্রথম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন  ?  উত্তর : সুকুমার সেন।
  20. ভারতের প্রথম ম্যাগসেসে পুরস্কার বিজেতার নাম কী  ?  উত্তর : আচার্য বিনোবা ভাবে।
  21. ভারতের প্রথম চৈনিক পরিব্রাজকের নাম কী  ?  উত্তর : ফা-হিয়েন।
  22. ভারতের প্রথম প্রধান বিচারপতি কে ছিলেন  ?  উত্তর : হরিলাল জে কানিয়া।
  23. ভারতের প্রথম ভারতরত্ন প্রাপক বিদেশি ব্যক্তি কে ছিলেন  ?  উত্তর : খান আবদুল গফফর খান।
  24. ভারতের প্রথম অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার কে পেয়েছিলেন  ?  উত্তর : অমর্ত্য সেন।
  25. ভারতের প্রথম শান্তিতে নোবেল পুরস্কার কে পেয়েছিলেন   ?  উত্তর : কৈলাস সত্যার্থী।
  26. ভারতের প্রথম পাইলট কে হয়েছিলেন  ?  উত্তর : জে আর ডি টাটা।
  27. ভারতের প্রথম দক্ষিণ মেরু বিজয়ী কে হয়েছিলেন  ?  উত্তর : কর্নেল জে কে বাজাজ।
  28. ভারতের প্রথম উত্তর মেরু বিজয়ী কে হয়েছিল  ?  উত্তর : জগন্নাথন শ্রীনিবাসারাঘবন।
  29. ভারতের প্রথম চলচ্চিত্রে অস্কার পুরস্কার কে পেয়েছিলেন  ?  উত্তর : সত্যজিৎ রায়।
  30. ভারতের প্রথম অস্কার মনোনীত বিদেশি ভাষার ছবির পরিচালক কে হয়েছিলেন  ?  উত্তর : মেহবুব খান।
  31. ভারতের প্রথম অস্কার পুরস্কার প্রাপক সুরকারের নাম কী  ?  উত্তর : এ আর রহমান।
  32. ভারতের প্রথম অস্কার পুরস্কার প্রাপক সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারের নাম কী  ?  উত্তর : রাসুল পুকুট্টি।
  33. অলিম্পিকে সোনাপদক জয়ী প্রথম ভারতীয় কে হয়েছিলেন  ?  উত্তর : অভিনব বিন্দ্রা।
  34. অলিম্পিকে ব্রোঞ্জপদক জয়ী প্রথম ভারতীয় কে হয়েছিলেন  ?  উত্তর : কে ডি যাদব।
  35. অলিম্পিকে রূপোপদক জয়ী প্রথম ভারতীয় কে হয়েছিলেন  ?  উত্তর : রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোর।
  36. ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম ভারতীয় অধিনায়কের নাম কী  ?  উত্তর : অজিত ওয়াদেকর।
  37. টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ভারতীয় অধিনায়কের নাম কী  ?  উত্তর : সি কে নাইডু।
  38. ওয়ানডে ক্রিকেটে শতরান করা প্রথম ভারতীয়র নাম কী  ?  উত্তর : কপিল দেব।
  39. টেস্ট ক্রিকেটে শতরান করা প্রথম ভারতীয়র নাম কী  ?  উত্তর : লালা অমরনাথ।
  40. ওয়ানডে ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করা প্রথম ভারতীয়র নাম কী  ?  উত্তর : চেতন শর্মা।
  41. টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করা প্রথম ভারতীয়র নাম কী  ?  উত্তর : হরভজন সিং।
  42. ভারতের প্রথম কমান্ডার ইন চিফ জেনারেল কে ছিলেন  ?  উত্তর : কে এম কারিয়াপ্পা।
  43. ভারতের প্রথম চিফ অফ আর্মি স্টাফ জেনারেল কে ছিলেন  ?  উত্তর : রাজেন্দ্র সিংজি জাদেজা।
  44. ভারতের প্রথম এয়ার চিফ মার্শাল কে ছিলেন  ?  উত্তর : সুব্রত মুখার্জি।
  45. ভারতের প্রথম পরমবীর চক্র পুরস্কার কে পেয়েছিলেন  ?  উত্তর : মেজর সোমনাথ শর্মা।
  46. ভারতের প্রথম জ্ঞানপীঠ পুরস্কার কে পেয়েছিলেন   ?  উত্তর : জি শংকর কুরুপ।
  47. ভারতের প্রথম আন্টার্কটিকা বিজয়ী কে হয়েছিলেন  ?  উত্তর : লেফটেন্যান্ট রামচরণ।
  48. বাংলার প্রথম গভর্নর  কে ছিলেন  ?  উত্তর : লর্ড ক্লাইভ।
  49. বাংলার শেষ গভর্নর কে ছিলেন ? ওয়ারেন হেস্টিংস।
  50. বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন  ?  উত্তর : ওয়ারেন হেস্টিংস।
  51. ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন  ?  উত্তর : লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক।
  52. ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন  ?  উত্তর : লর্ড ক্যানিং।
  53. ভারতের প্রথম ভাইসরয় কে ছিলেন  ?  উত্তর : লর্ড ক্যানিং।
  54. ভারতের শেষ ভাইসরয় কে ছিলেন  ?  উত্তর : লর্ড মাউন্টব্যাটেন।
  55. ভারতের প্রথম পোস্ট অফিস কোথায় খোলা হয়েছিল  ?  উত্তর : কলকাতাতে।
  56. ভারতের প্রথম পারমাণবিক কেন্দ্রের নাম কী  ?  উত্তর : তারাপুর।
  57. ভারতের প্রথম মিসাইলের নাম কী  ?  উত্তর : পৃথ্বী।
  58. ভারতের প্রথম পারমাণবিক ডুবোজাহাজের নাম কী  ?  উত্তর : আই এন এস চক্র।
  59. ভারতের প্রথম চিকিৎসাবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার কে পেয়েছিলেন  ?  উত্তর : ডক্টর হরগোবিন্দ খোরানা।
  60. স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে হয়েছিলেন  ?  উত্তর : লর্ড মাউন্টব্যাটেন।
  61. ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্বিশত রানকারী প্রথম ভারতীয় কে হয়েছিলেন  ?  উত্তর : সচিন তেন্দুলকার।
  62. স্বাধীন ভারতের প্রথম নৌবাহিনীর সেনাপ্রধান কে ছিলেন  ?  উত্তর : রামদাস কাটারি।
  63. ভারতের সবচেয়ে বয়স্ক রাষ্টপতির নাম কী ?  উত্তর : আর বেঙ্কটরামন।
  64. ভারতের সবচেয়ে কনিষ্ঠ রাষ্ট্রপতির নাম কী‌?  উত্তর : নীলম সঞ্জীব রেড্ডি।
  65. ভারতের সবচেয়ে কম সময় পদে থাকা রাষ্টপতির নাম কী ?  উত্তর : ডক্টর জাকির হোসেন।
  66.  ভারতের প্রথম দলিত রাষ্ট্রপতির নাম কী ?  উত্তর : কেয়ার নারায়ণন।
  67. সবচেয়ে কমদিন পদে থাকা  ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতির নাম কী ?  উত্তর : ভি ভি গিরি।
  68. ভারতের কোন প্রধানমন্ত্রী যিনি একদিনও সংসদে যান নি ?  উত্তর :  চৌধুরী চরণ সিং।
  69. ভারতের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রীর নাম কী ?  উত্তর :  রাজীব গান্ধী।
  70. ভারতের প্রবীণতম প্রধানমন্ত্রীর নাম কী ?  উত্তর :   মোরারজি দেশাই।
  71. সবচেয়ে বেশি দিন পদে থাকা ভারতের উপরাষ্ট্রপতির নাম কী ?  উত্তর : সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ।
  72. স্বাধীন ভারতের প্রথম ভারতীয় গভর্নর জেনারেলের নাম কী ?  উত্তর : চক্রবর্তী রাজা গোপালাচারী।
  73. প্রথম অর্থমন্ত্রী হিসেবে পরপর তিন বছর বাজেট পেশ করেছেন কে ?  উত্তর :  মনমোহন সিং।
  74. বিদেশে পরলোকগমন করেন ভারতের কোন প্রধানমন্ত্রী ?  উত্তর : লাল বাহাদুর শাস্ত্রী।
  75. প্রথম কোন ব্যক্তি যিনি আমৃত্যু উপপ্রধানমন্ত্রী ছিলেন ?  উত্তর : সরদার বল্ললভ ভাই প্যাটেল। 
  76. স্বাধীন ভারতের প্রথম রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর কে ছিলেন  ?  উত্তর : সি ডি দেশমুখ।
  77. ভারতের প্রথম গ্রামি অ্যাওয়ার্ড কে পান  ?  উত্তর : পন্ডিত বিশ্বমোহন ভাট।
  78. নর্তক হিসেবে প্রথম বিদেশে পাড়ি দেন কে  ?  উত্তর : উদয় শংকর।
  79. ভারতের প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর নাম কী যিনি চলচ্চিত্র অভিনেতা ছিলেন  ?  উত্তর : এম জি রামচন্দ্রন।
  80. অক্সিজেন ছাড়া এভারেস্টে ওঠেন কোন ভারতীয় ?  উত্তর : ফু দোরজি।
  81. পরপর দুটি অলিম্পিকে ব্যক্তিগত বিভাগে পদক লাভ করেন ভারতের কোন ব্যক্তি  ?  উত্তর : সুশীল কুমার।
  82. কে প্রথম রাজীব গান্ধী খেলরত্ন পুরস্কার পান  ?  উত্তর : বিশ্বনাথন আনন্দ।
  83. ইংল্যান্ডে প্রথম ভারতীয় হিসেবে ব্যারিস্টারি  করেন  কে   ? উত্তর : জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুর।
  84. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভারতীয় উপাচার্যের নাম কী  ?  উত্তর : স্যার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
  85. প্রথম ভারতীয় হিসেবে বিশ্ব বিলিয়ার্ডস খেতাব জেতেন কে  ?  উত্তর : উইলসন জোন্স।
  86. ভারতের প্রথম সন্ত কে হয়েছিলেন  ?  উত্তর : সন্ত টমাস।
  87. ভারতের প্রথম কোন ব্যক্তি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার পান  ?  উত্তর : এ আর রহমান।
  88. নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়নের প্রথম সভাপতির নাম কী  ?  উত্তর : লালা রাজপত রায়।
  89. ভারতের প্রথম কোন ব্যক্তি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক হয়েছেন  ?  উত্তর : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
  90. ভারতের কোন ব্যক্তি এভারেস্টে আরোহণ করেন ?  উত্তর : তেনজিং নোরগে।

বুধবার, ২০ এপ্রিল, ২০২২

এপ্রিল ২০, ২০২২

বিভিন্ন দেশের নাম ও তার মুদ্রা (Names of different countries and their currencies in Bengali)

          বিভিন্ন দেশের নাম ও তার                            মুদ্রা

Names of different countries and their currencies
Names of different countries and their currencies



  1. বাংলাদেশের মুদ্রার নাম কী  ?    উত্তর : বাংলাদেশি টাকা।
  2. ভারতবর্ষের মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : ইন্ডিয়ান রুপি।
  3. পাকিস্তানের মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : পাকিস্তানি রুপি।
  4. আফগানিস্তানের মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : আফগান আফগানি।
  5. ভুটানের মুদ্রার নাম কী            ?    উত্তর : নুলট্রাম।
  6. শ্রীলংকার মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : শ্রীলঙ্কান রুপি।
  7. নেপালের মুদ্রার নাম কী।  ?    উত্তর : নেপালি রুপি।
  8. মালদ্বীপের মুদ্রার নাম কী       ?    উত্তর : রুপাইয়া।
  9. মায়ানমারের মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : বার্মিস কায়াত।
  10. চীনের মুদ্রার নাম কী                ?    উত্তর : ইউয়ান।
  11. জাপানের মুদ্রার নাম কী  ?    উত্তর : জাপানিস ইয়েন।
  12. হংকং এর মুদ্রার নাম কী   ?    উত্তর : হংকং ডলার।
  13. ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া।
  14. মালয়েশিয়ার মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : মালয়েশিয়ান রিংগিত।
  15. ইরাকের মুদ্রার নাম কী   ?    উত্তর : ইরাকি দিনার।
  16. ইরানের মুদ্রার নাম কী  ?    উত্তর : ইরানিয়ান রিয়াল।
  17. ভিয়েতনামের মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : ভিয়েতনামিস ডং।
  18. সিঙ্গাপুরের মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : সিঙ্গাপুর ডলার।
  19. থাইল্যান্ডের মুদ্রার নাম কী    ?    উত্তর : থাই বাহট।
  20. সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : সংযুক্ত আরব আমিরশাহী দিরহাম।
  21. ইসরাইলের মুদ্রার নাম কী। ?    উত্তর : ইজরায়েলি  নিউ শেকেল।
  22. তুরস্কের মুদ্রার নাম কী    ?    উত্তর : তুরকিশ লিরা।
  23. যুক্তরাজ্যের মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : পাউন্ড স্টারর্লিং।
  24. জার্মানির মুদ্রার নাম কী।           ?    উত্তর : ইউরো।
  25. ফ্রান্সের মুদ্রার নাম কী               ?    উত্তর : ইউরো।
  26. স্পেনের মুদ্রার নাম কী              ?    উত্তর : ইউরো।
  27. ইতালির মুদ্রার নাম কী              ?    উত্তর : ইউরো।
  28. সুইজারল্যান্ডের মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : সুইস ফ্রা।
  29. নরওয়ের মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : নরওয়েজিয়ান ক্রোন।
  30. ডেনমার্কের মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : ড্যানিশ ক্রোন।
  31. গ্রিসের মুদ্রার নাম কী                ?    উত্তর : ইউরো।
  32. আয়ারল্যান্ডের মুদ্রার  নাম কী      ?    উত্তর : ইউরো।
  33. ফিনল্যান্ডের মুদ্রার নাম কী।      ?    উত্তর : ইউরো।
  34. বেলজিয়ামের মুদ্রার নাম কী       ?    উত্তর : ইউরো।
  35. হাঙ্গেরির মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : হাঙ্গেরিয়ান ফোরিন্ট।
  36. পর্তুগালের মুদ্রার নাম কী          ?    উত্তর : ইউরো।
  37. কেনিয়ার মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : কেনিয়ান সিলিং।
  38. নাইজেরিয়ার মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : নাইজেরিয়ান নাইরা।
  39. জিম্বাবুয়ের মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : ইউ এস ডলার।
  40. কানাডার মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : কানাডিয়ান ডলার।
  41. জামাইকার মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : জামাইকান ডলার।
  42. মেক্সিকোর মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : কিউবান পেসো।
  43. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : ইউএস ডলার।
  44. আর্জেন্টিনার মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : আর্জেন্টাইন পেসো।
  45. বলিভিয়ার মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : বলিভিয়ান বলিভিয়ানো।
  46. ব্রাজিলের মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : ব্রাজিলিয়ান রিয়াল।
  47. চিলির মুদ্রার নাম কী     ?    উত্তর : চিলিয়ান পেসো।
  48. কলম্বিয়ার মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : কলম্বিয়ান পেসো।
  49. অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : অস্ট্রেলিয়ান ডলার।
  50. নিউজিল্যান্ডের মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : নিউজিল্যান্ড ডলার।
  51. পাপুয়া নিউগিনির মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : কিনা।
  52. টোঙ্গার মুদ্রার নাম কী                 ?    উত্তর : পাঙ্গা।
  53. ফিজির মুদ্রার নাম কী        ?    উত্তর : ফিজি ডলার।
  54. ভানুয়াতুর মুদ্রার নাম কী।               ?    উত্তর : ভাটুুু।
  55. পশ্চিম সামোয়ার মুদ্রার নাম কী     ?    উত্তর : টালা।
  56. পালাউ এর মুদ্রার নাম কী  ?    উত্তর : মার্কিন ডলার।
  57. উরুগুয়ের মুদ্রার নাম কী  ?    উত্তর :  উরুগুয়ান পেসো।
  58.  ইকুয়েডরের মুদ্রার নাম কী  ?    উত্তর : মার্কিন ডলার।
  59. ভেনিজুয়েলার মুদ্রার নাম কী  ?    উত্তর : বলিভার।
  60. গায়ানার মুদ্রার নাম কী   ?    উত্তর : গায়না ডলার।
  61. কিউবার মুদ্রার নাম কী  ?    উত্তর : কিউবান পেসো। ?    
  62. বাহামার মুদ্রার নাম কী  ?    উত্তর : বাহামিয়ান ডলার।
  63. ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর মুদ্রার নাম কী  ?    উত্তর : ডলার।
  64. বার্বাডোসের মুদ্রার নাম কী  ?    উত্তর : বার্বাডোস ডলার।  
  65. পানামার মুদ্রার নাম কী               ?    উত্তর : বেলবো।
  66. হন্ডুরাসের মুদ্রার নাম কী       ?    উত্তর : লেমপিয়া।
  67. মরিশাসের মুদ্রার নাম কী    ?    উত্তর : মরিশিয়ান রুপি।
  68. সিসেলিসের মুদ্রার নাম কী   ?    উত্তর : সিসেলিস রুপি।
  69. ইথিওপিয়ার মুদ্রার নাম কী            ?    উত্তর : বির।
  70. সোমালিয়ার মুদ্রার নাম কী  ?    উত্তর : সোমালি সিলিং।
  71. উগান্ডার মুদ্রার নাম কী   ?    উত্তর : উগান্ডা সিলিং।
  72. লিবিয়ার মুদ্রার নাম কী   ?    উত্তর : লিবিয়ান দিনার।
  73. মিশরের মুদ্রার নাম কী  ?    উত্তর : মিশরীয়় পাউন্ড।
  74. টিউনিসিয়ার মুদ্রার নাম কী  ?    উত্তর : টিউনিশিয়া দিনার।
  75. নরওয়ের মুদ্রার নাম কী            ?    উত্তর : ক্রোনা।
  76. নামিবিয়ার মুদ্রার নাম কী ?    উত্তর : নামিবিয়ান ডলার।
  77. দক্ষিণ সুদানের মুদ্রার নাম কী    ?    উত্তর : দাউণ্ড।
  78. রাশিয়ার মুদ্রার নাম কী             ?    উত্তর : রুবেল।
  79.  বুলগেরিয়ার মুদ্রার নাম কী            ?    উত্তর : লেভ।
  80. মরক্কোর মুদ্রার নাম কী।           ?    উত্তর : দিরহাম।
  81. মেসিডোনিয়ার মুদ্রার নাম কী        ?    উত্তর : দিনার।
  82. ইতালির মুদ্রার নাম কী                ?    উত্তর : লিরা।
  83. ঘানার মুদ্রার নাম কী।                   ?    উত্তর : ঘানা।
  84. সার্বিয়ার মুদ্রার নাম কী        ?    উত্তর :  নিউ দিনার।

সোমবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২২

এপ্রিল ১৮, ২০২২

বিভিন্ন দেশের নাম ও তার রাজধানী (Names of different countries and their capitals in Bengali)

Names of different countries and their capitals
Names of different countries and their capitals

            

               বিভিন্ন দেশের নাম ও তার                        রাজধানী


  1.  বাংলাদেশের রাজধানীর নাম কী  ?    উত্তর : ঢাকা।
  2. পাকিস্তানের রাজধানীর নাম কী  ?    উত্তর : ইসলামাবাদ।
  3. আফগানিস্তানের রাজধানীর নাম কী  ?    উত্তর : কাবুল।
  4. ভুটানের রাজধানীর নাম কী                ?    উত্তর : থিম্পু।
  5. নেপালের রাজধানীর নাম কী          ?    উত্তর : কাঠমান্ডু।
  6. মালদ্বীপের রাজধানীর নাম কী       ?    উত্তর : ম্যালে।
  7. মায়ানমারের রাজধানীর নাম কী      ?    উত্তর : নেপিড।
  8. চীনের রাজধানীর নাম কী         ?    উত্তর : বেজিং।
  9. জাপানের রাজধানীর নাম কী      ?    উত্তর : টোকিও।
  10. ইন্দোনেশিয়ার রাজধানীর নাম কী  ?    উত্তর : জাকার্তা।
  11. ইরাকের রাজধানীর নাম কী      ?     উত্তর : বাগদাদ।
  12. ইরানের রাজধানীর নাম কী       ?   উত্তর : তেহরান।
  13. থাইল্যান্ডের রাজধানীর নাম কী   ?     উত্তর : ব্যাংকক।
  14. সিঙ্গাপুরের রাজধানীর নাম কী ?     উত্তর : সিঙ্গাপুর সিটি।
  15. সৌদি আরবের রাজধানীর নাম কী ?     উত্তর : রিয়াধ।
  16. ইজরায়েলের রাজধানীর নাম কী   ?  উত্তর : জেরুজালেম।
  17. যুক্তরাজ্যের রাজধানীর নাম কী     ?  উত্তর : লন্ডন।
  18. ভিয়েতনামের রাজধানীর নাম কী  ?  উত্তর : হ্যানয়।
  19. জার্মানির রাজধানীর নাম কী       ?  উত্তর : বার্লিন।
  20. ফ্রান্সের রাজধানীর নাম কী        ?  উত্তর : প্যারিস।
  21. স্পেনের রাজধানীর নাম কী         ?  উত্তর : মাদ্রিদ।
  22. কানাডার রাজধানীর নাম কী        ?  উত্তর  : ওটাওয়া।
  23. জিম্বাবোয়ের রাজধানীর নাম কী    ?  উত্তর : হারারে।
  24. কেনিয়ার রাজধানীর নাম কী       ?  উত্তর : নাইরোবি।
  25. পর্তুগালের রাজধানীর নাম কী।    ?  উত্তর : লিসবন।
  26. পোল্যান্ডের রাজধানীর নাম কী    ?  উত্তর : ওয়ারস।
  27. বেলজিয়ামের রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : ব্রাসেলস।
  28. নেদারল্যান্ডের রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : আমস্টারডাম।
  29. ফিনল্যান্ডের রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : হেলসিঙ্কি।
  30. গ্রিসের রাজধানীর নাম কী            ?  উত্তর : এথেন্স।
  31. ডেনমার্কের রাজধানীর নাম কী    ?  উত্তর : কোপেনহেগেন।
  32. নরওয়ের রাজধানীর নাম কী     ?  উত্তর : অসলো।
  33. ইতালির রাজধানীর নাম কী             ?  উত্তর : রোম।
  34. হাঙ্গেরির রাজধানীর নাম কী      ?  উত্তর : বুদাপেস্ট।
  35. ইজিপ্টির রাজধানীর নাম কী     ‌ ?  উত্তর : কায়রো।
  36. দক্ষিণ সুদানের রাজধানীর নাম কী   ?  উত্তর : জুবা।
  37. শ্রীলংকার রাজধানীর নাম কী    ?  উত্তর :   শ্রী জয়বর্ধেনেপুরা কোট্টে।
  38. সুদানের রাজধানীর নাম কী       ?  উত্তর :   খাতুম।
  39. সুইডেনের রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : স্টকহোম।
  40. সুইজারল্যান্ডের রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : জুরিখ।
  41. সিরিয়ার রাজধানীর নাম কী      ?  উত্তর : দামাস্কাস।
  42. তাইওয়ানের রাজধানীর নাম কী  ?  উত্তর : তাইপেই।
  43. তাজিকিস্তানের রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : দুসানবে। 
  44. তানজানিয়ার রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : দোদোমা।
  45. টোগোর রাজধানীর নাম কী          ?  উত্তর : লোম।
  46. ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : পোর্ট অফ স্পেন।
  47. জাম্বিয়ার রাজধানীর নাম কী     ?  উত্তর : লুসাকা।
  48. ভেনেজুয়েলার রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : কারাকাস।
  49. ভানুয়াতুর রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : পোর্ট ভিলা।
  50. উজবেকিস্তানের রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : তাসখন্দ।
  51. ভারতের রাজধানীর নাম কী       ?  উত্তর : নিউ দিল্লি।
  52. উরুগুয়ের রাজধানীর নাম কী  ?  উত্তর : মন্টেভিডিও।
  53. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : ওয়াশিংটন ডিসি।
  54. সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : আবুধাবি।
  55. ইউক্রেনের রাজধানীর নাম কী   ?  উত্তর : কিয়েভ।
  56. উগান্ডার রাজধানীর নাম কী   ?  উত্তর : কাম্পালা।
  57. তুর্কির রাজধানীর নাম কী         ?  উত্তর : আঙ্কারা।
  58. তুভালুর রাজধানীর নাম কী     ?  উত্তর : ফুনাফুটি।
  59. নিউজিল্যান্ডের রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : ওয়েলিংটন।
  60. নাইজেরিয়ার রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : আবুজা।
  61. ওমানের রাজধানীর নাম কী      ?  উত্তর : মাসকট।
  62. পানামার রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : পানামা সিটি।
  63. প্যারাগুয়ের  রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : আসানসিওন।
  64. পেরুর রাজধানীর নাম কী             ?  উত্তর : লিমা।
  65. ফিলিপিন্সের রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : ম্যানিলা।
  66. কাতারের রাজধানীর নাম কী        ?  উত্তর : দোহা।
  67. রোমানিয়ার রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : বুখারেস্ট।
  68. রাশিয়ার রাজধানীর নাম কী।       ?  উত্তর : মস্কো।
  69. সামোয়ার রাজধানীর নাম কী     ?  উত্তর : আপিয়া।
  70. সার্বিয়ার রাজধানীর নাম কী   ?  উত্তর : বেলগ্রেড।
  71. দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানীর নাম কী  ?  উত্তর : প্রিটোরিয়া, কেপটাউন, 
  72. সোমালিয়ার রাজধানীর নাম কী   ?  উত্তর : মোগাদিসু।
  73. স্লোভানিয়ার রাজধানীর নাম কী  ?  উত্তর: লুবলানা।
  74. নামিবিয়ার রাজধানীর নাম কী    ?  উত্তর : উইন্ডহক।
  75.  দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানীর নাম কী   ?  উত্তর : সিওল।
  76. কুয়েতের রাজধানীর নাম কী  ?  উত্তর : কুয়েত সিটি।
  77. লিবিয়ার রাজধানীর নাম কী।  ?  উত্তর : ত্রিপোলি।
  78. মালয়েশিয়ার রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর :  কুয়ালালামপুর।
  79. মাল্টার রাজধানীর নাম কী।       ?  উত্তর : ভালেটা।
  80. লুক্সেমবার্গের রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : লুক্সেমবার্গ।
  81. মেক্সিকোর রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : মেক্সিকো সিটি।
  82. ব্রাজিলের রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : ব্রাসিলিয়া।
  83. চিলির রাজধানীর নাম কী।  ?  উত্তর : স্যান্টিয়াগো।
  84. কলম্বিয়ার রাজধানীর নাম কী  ?  উত্তর : বোগোটা।
  85. অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : ক্যানবেরা।
  86. জামাইকার রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : কিংস্টন।
  87. মরিশাসের রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : পোর্ট লুইস।
  88. মরক্কোর রাজধানীর নাম কী।      ?  উত্তর : রাবাত।
  89. জর্ডনের রাজধানীর নাম কী।     ?  উত্তর : আম্মান।
  90. উত্তর কোরিয়ার রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : পিয়ংইয়ং।
  91. অস্ট্রিয়ার রাজধানীর নাম কী     ?  উত্তর : ভিয়েনা।
  92. বাহারিনের রাজধানীর নাম কী।   ?  উত্তর : মানামা।
  93. বুলগেরিয়ার রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : সোফিয়া।
  94. কম্বোডিয়ার রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : ফমপেন।
  95. চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : প্রাগ।
  96. ইকুয়েডরের রাজধানীর নাম কী  ?  উত্তর : কুইটো।
  97. ক্রোয়েশিয়ার রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : জাগরেব।
  98. সাইপ্রাসের রাজধানীর নাম কী ?  উত্তর : নিকোসিয়া।
  99. গাম্বিয়ার রাজধানীর নাম কী।      ?  উত্তর : বাঞ্জুল।
  100. লেবাননের রাজধানীর নাম কী   ?  উত্তর : বেইরুট।

বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২২

এপ্রিল ১৪, ২০২২

কোম্পানির শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিদ্রোহ (protest and rebellions against the rule of the company in Bengali)

 

                     কোম্পানির শাসনের                  বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিদ্রোহ


1. চুয়াড় বিদ্রোহের কারণ কী ছিল ?

উত্তর: ১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দেওয়ানি লাভ করার পর জঙ্গলমহলে জোর করে রাজস্ব আদায় করলে চুয়াড় বিদ্রোহ হয়। ১৭৬৬ খ্রিস্টাব্দে চুয়াড় বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল।


2. ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল বিধর্মী ইংরেজ শাসিত ভারতকে  বা দার -উল - ইসলাম বা ধর্মরাজ্যে পরিণত করা। অবশ্য ধর্মীয় উদ্দেশ্যে শুরু হলেও পরবর্তীকালে এটি রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল।


3. তিতুমির কেন বিখ্যাত ?

উত্তর: বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন তিতুমির। তিনি নিজেকে স্বাধীন বাদশাহো বলে ঘোষণা করেন। নারকেলবেড়িয়াতে বাঁশের কেল্লা তৈরি করে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


4.  রানী লক্ষ্মীবাঈ স্মরণীয় কেন ?

উত্তর: ঝাঁসির রানী লক্ষ্মীবাঈ ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহে ইংরেজদের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ সরকার স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগ করে ঝাঁসি দখল করতে চাইলে লক্ষ্মীবাঈ বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।


5. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের ফল কী হয়েছিল?

উত্তর: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের ফলে- ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটেছিল। ভারত শাসন আইন পাস করে ভাইসরয়ের আইন পরিষদে ভারতীয় সদস্য গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।


6. সাঁওতাল বিদ্রোহের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:  সাঁওতাল বিদ্রোহের গুরুত্ব : 


১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের পূর্ববর্তীকালে ভারতে সংঘটিত ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনগুলির মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের বিদ্রোহ (১৮৫৫ খ্রি.)। আপাত ব্যর্থ হলেও এই বিদ্রোহের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছিল নিম্নরূপ-


(1) সরকার সাঁওতালদের জন্য ভাগলপুর ও বীরভূম জেলার কিছু অংশ নিয়ে সাঁওতাল পরগনা নামে একটি পৃথক অঞ্চল গঠন করে। সেই সঙ্গে এই অঞ্চলে সাঁওতালদের নিজস্ব আইন বলবৎ করা হয়।


(2) সাঁওতালদের অভাব-অভিযোগের প্রতি দৃষ্টি রাখার জন্য সরকারি কর্মচারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।


(3) এই বিদ্রোহ কৃষক তথা সাধারণ মানুষকে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা জোগায়। যা পরবর্তীকালে মহাবিদ্রোহের পথ প্রশস্ত করে।


(4) এই বিদ্রোহের ফলে জমিদারি ও মহাজনি শোষণ সাময়িকভাবে হ্রাস পেয়েছিল।


বিশিষ্ট লেখক সুপ্রকাশ রায় বলেছেন যে, সাঁওতালদের গণজাগরণ ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছিল। ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদারও মনে করেন, ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের তুলনায় ১৮৫৫-র সাঁওতাল বিদ্রোহ কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। তিনি লিখেছেন—১৮৫৭-র বিদ্রোহকে যদি ভারতবাসীর স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়, তাহলে সাঁওতাল বিদ্রোহেরও সে মর্যাদা পাওয়া উচিত।


7. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের ধর্মীয় কারণ কী ছিল ?

উত্তর:  ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের ধর্মীয় কারণ :


১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের পশ্চাতে ধর্মীয় কারণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। 

 (1) খ্রিস্টান মিশনারিরা ভয় ও প্রলোভন দেখিয়ে ভারতীয়দের খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করত। সরকারি দপ্তর, জেলখানা, বিদ্যালয় প্রভৃতি সমস্ত জায়গায় ছিল এদের অবাধ গতি। সরকার প্রকাশ্যেই এদের কাজে মদত দিত।


(2) হিন্দু ও ইসলাম ধর্মকে নানাভাবে বিদ্রুপ করে মিশনারিরা খ্রিস্টানধর্মের মহত্ত্ব প্রচার করত।


 (3) ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৫ আগস্ট সম্রাট বাহাদুর শাহ 'আজমগড় ঘোষণাপত্র জারি করেন। এই ঘোষণাপত্র সিপাহিদের উদ্বুদ্ধ করে। তারা মনে করে যে, ইংরেজ শাসন ধ্বংস হলে তারা ধর্মান্তরিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে মুক্ত হবে।


(4) কোম্পানির পরিচালক সভার প্রধান ম্যাঙ্গেলস বলেছিলেন (১৮৫৭ খ্রি.), সমগ্র ভারতে খ্রিস্টের পতাকা উড্ডীন রাখতে হবে এবং ভারতকে একটি খ্রিস্টান দেশে পরিণত করার জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে হবে। ধর্মভীরু ভারতবাসীর কাছে এই ধরনের ঘোষণা ছিল মৃত্যুদণ্ডের সমান।


 (5) বিদ্রোহীদের সম্পর্কে সি. বল বলেছেন যে, ধর্মরক্ষার তাগিদেই তাঁরা ইংরেজদের কোতল করতে নেমেছিলেন। অধিকাংশ পণ্ডিত ধর্মীয় ভীতি ও অসন্তোষকে মহাবিদ্রোহের অন্যতম  কারণ বলে মেনে নিয়েছেন।


8.  ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের ব্যর্থতার কারণগুলি উল্লেখ করো।

উত্তর : মহাবিদ্রোহের ব্যর্থতার কারণ :

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহ ভারতীয়দের মধ্যে প্রবল উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছিল, কিন্তু এক বছরের মধ্যেই বিদ্রোহ দমিত হয়েছিল। এই বিদ্রোহের ব্যর্থতার কারণগুলি হল-

(1) ভারতের সব অঞ্চলের সিপাহি এবং জনগণ বিদ্রোহে যোগদান করেনি।


(2) বিদ্রোহী নেতাদের মধ্যে সংহতির অভাব ছিল। তারা সংঘবদ্ধভাবে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে আন্দোলন করেনি। 

(3) শিখ, গুর্খা, রাজপুত, মারাঠা প্রভৃতি জাতি এবং আফগানিস্তান, কাশ্মীর, হায়দ্রাবাদ প্রভৃতি রাজ্য বিদ্রোহ দমন করতে ইংরেজদের সাহায্য করেছিল।


(4) ভারতীয় রাজারাও অনেকে বিদ্রোহ দমনে সাহায্য করেন।


(5) বিদ্রোহীদের ব্যর্থতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল অস্ত্র, অর্থ ও দক্ষতার অভাব। বিদ্রোহীদের দক্ষতার তুলনায় আবেগ ছিল বেশি। তা ছাড়া তাদের লড়াই করতে হচ্ছিল অর্থে ও অস্ত্রে বলীয়ান ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে, ফলে তাদের পরাজয় স্বাভাবিক ছিল।


(5) এইচ. টি. ল্যামব্রিক বলেছেন, বিদ্রোহীদের সেনাবাহিনী ইউরোপীয় সেনাবাহিনী তথা রণকৌশলকে অন্ধভাবে অনুকরণ করত। এটি ছিল বিদ্রোহীদের অসম্ভব দুর্বলতা যা ইংরেজবাহিনীকে রণক্ষেত্রে সুবিধাজনক ও অনুকূল পরিস্থিতিতে দাঁড় করিয়েছিল।


9. ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে সাঁওতাল বিদ্রোহের কারণ ও গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর : সাঁওতাল বিদ্রোহের কারণ: 

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের পূর্বে সংগঠিত প্রতিবাদী আন্দোলনগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সাঁওতাল উপজাতির অভ্যুত্থান (১৮৫৫ খ্রি.)। এই অভ্যুত্থানের পেছনে ছিল বহুদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ।


1.রাজস্বের চাপ:  ভারতের প্রাচীনতম আদিবাসী সাঁওতালরা স্বভাবগতভাবে সৎ, পরিশ্রমী ও সাহসী। কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করলে বহু সাঁওতাল বাস্তুচ্যুত হয়। তারা রাজমহলের পার্বত্য অঞ্চলে এসে নতুন বাসা বাঁধে এবং রুক্ষ মাটিকে কৃষিকাজের উপযুক্ত করে জীবনধারণ করতে থাকে। এই অঞ্চল 'দামিন-ই-কোহ' নামে পরিচিত হয়। কিন্তু কিছুদিন পরে সরকার এই অঞ্চলকেও জমিদারি বন্দোবস্ত ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে আবার সাঁওতালদের ওপর রাজস্বের বোঝা চাপে। এতে তারা ক্ষুর ও বিদ্রোহমুখী হয়।


2. মহাজনি শোষণ:  কালক্রমে দামিন-ই-কোহ-তে মহাজনদের আবির্ভাব ঘটে। এইসব ধূর্ত ও অর্থলোভী ব্যবসায়ী, মহাজনরা সহজসরল সাঁওতালদের শোষণ করতে শুরু করে। ঋণের জালে সাঁওতালদের জড়িয়ে তারা মুনাফা লুটতে থাকে। রাজস্ব প্রদান এবং খাদ্যাভাব মেটাতে বহু সাঁওতাল পরিবার ঋণ নিতে বাধ্য হয়। চড়া সুদের বিনিময়ে এই ঋণ নেওয়ার ফলে তারা আরও বিপদে পড়ে। বহু সাঁওতাল ঋণ শোধ করতে ব্যর্থ হয়ে তাদের শেষ সম্বল কৃষিজমিটুকু মহাজনদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়। একবার ঋণ নিলে সেই ঋণ শোধ করতে হত বংশপরম্পরায়। এই জাল থেকে মুক্তির আশায় তারা বিদ্রোহী হয়।


3 .নীলকরদের শোষণ:  সাঁওতালদের ক্ষোভের আর-একটি কারণ ছিল নীলকর সাহেবদের শোষণ ও অত্যাচার। নীলচাষ করার ফলে ওই অঞ্চলে খাদ্যাভাব ঘটে। আবার নীলচাষ করতে অস্বীকার করলে নীলকর সাহেবরা নিরীহ সাঁওতালদের ওপর অকথ্য অত্যাচার করত। এই অত্যাচার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সাঁওতালরা বিদ্রোহের পথ বেছে নেয়।


4.সরকারি কর্মচারীদের অত্যাচার: সরকারি প্রশাসন ও বিচারবিভাগ অন্যায়ভাবে জমিদার,মহাজন ও ব্যবসায়ীদের সমর্থন করে। উপজাতিভুক্ত সাঁওতালদের 'সভ্যতার লজ্জা' মনে করে উদ্ধৃত ইংরেজ কর্মচারীরাও সাঁওতালদের ওপর অত্যাচার চালাতে থাকে। নিরীহ সাঁওতাল উপজাতি দেশের বিচারবিভাগের কাছ থেকেও কোনো সাহায্য পায়নি। এই সার্বিক শোষণ ও অত্যাচার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তারা শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহের পথই বেছে নেয়।


5.রেল-কর্মচারীদের অত্যাচার: আঠারো শতকে তিলা পাহাড়, ভাগলপুর অঞ্চলে রেললাইন। পাতার কাজ শুরু হয়। এই কারণে বহু রেল-কর্মচারী 'দামিন-ই-কোহ’-তে আসে। তারা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে দরিদ্র সাঁওতালদের কাছ থেকে অল্পমূল্যে বা বিনামূল্যে হাঁস, মুরগি, ছাগল, ফলমূল নিতে শুরু করে, এমনকি সাঁওতাল রমণীদের প্রতিও তারা অসভ্য আচরণ করে। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে সাঁওতাল সমাজ ভদ্রলোক-বিরোধী বা দিকু-বিরোধী আন্দোলন শুরু করে।


6. সিধু ও কানহুর নেতৃত্ব: জমিদার, মহাজন ও ইংরেজের অত্যাচারের প্রতিবাদে সাঁওতালরা সংঘবদ্ধ হয়। সাঁওতালদের সংগঠিত করার কাজে মুখ্য ভূমিকা নেন সিধু ও কানহু নামে দুই ভাই। তারা দুজনেই ছিলেন সাহসী ও দৃঢ় চরিত্রের মানুষ। সাঁওতাল ও অন্যান্য উপজাতির মানুষকে সংগঠিত করার জন্য সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে শালগাছের ডাল' পাঠানো হয়। ১৮৫৫-এর ৩০ জুন প্রায় দশ হাজার সাঁওতাল উগনাডিহি-র মাঠে মিলিত হয়। সিধু-কানহুর নেতৃত্বে ক্ষিপ্ত সাঁওতালরা পাঁচকাঠিয়া বাজারে উপস্থিত হয়। পাঁচজন স্থানীয় মহাজন ও দিঘী থানার অত্যাচারী দারোগাকে হত্যা করে সাঁওতাল বিদ্রোহের সূচনা হয়।

শত শত সাঁওতাল যুবক তীর-ধনুক নিয়ে বিদ্রোহে ঝাঁপিয়ে পড়ে। রাজমহল থেকে মুর্শিদাবাদ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দ্রুত বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সরকার বিদ্রোহী  সাঁওতালদের দমন করতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেয়। ইংরেজ বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারায় হাজার হাজার সাঁওতাল। সিধু কানহুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বহু বন্দী সাঁওতালকে ফাঁসি দেয়া হয়।


সাঁওতাল বিদ্রোহের গুরুত্ব: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের পূর্ববর্তীকালে ভারতে সংঘটিত ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন গুলির মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের বিদ্রোহ। আপাত ব্যর্থ হলেও এই বিদ্রোহের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছিল নিম্নরূপ-

1. সরকার সাঁওতালদের জন্য ভাগলপুর বীরভূম জেলার কিছু অংশ নিয়ে সাঁওতাল পরগনা নামে একটি পৃথক অঞ্চল গঠন করে। সেই সঙ্গে এই অঞ্চলে সাঁওতালদের নিজস্ব আইন বলবৎ করা হয়।

2. সাঁওতালদের অভাব-অভিযোগের প্রতি দৃষ্টি রাখার জন্য সরকারি কর্মচারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

3. এই বিদ্রোহ কি সত্য তা সাধারণ মানুষকে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা জোগায়, যা পরবর্তীকালে মহাবিদ্রোহের পথ প্রশস্ত করে।

4. এই বিদ্রোহের ফলে জমিদারি ও মহাজনি শোষণ সাময়িকভাবে হ্রাস পেয়েছিল।


10. তিতুমিরের আন্দোলনের প্রকৃতি কী ছিল?

উত্তর: তিতুমিরের বিদ্রোহ নিছক ধর্মীয় এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্রোহ অথবা কৃষকবিদ্রোহ ও ইংরেজের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল কি না তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে। কেউ কেউ এটিকে বিশুদ্ধ সাম্প্রদায়িক আন্দোলন বলেছেন। আবার কারও মতে এটি ছিল কৃষকদের শোষণমুক্তির আন্দোলন।


(1) রমেশচন্দ্র মজুমদার একে মুসলিমদের জন্য, মুসলিমদের দ্বারা, মুসলিম কর্তৃক আন্দোলন বলে উল্লেখ করেছেন।


(2) অভিজিৎ দত্ত বলেছেন যে, বারাসত বিদ্রোহ ছিল সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং ধর্মীয় ভাবধারার সমান্তরাল আন্দোলন।


(3) থনটন , হান্টার প্রভৃতি লেখকের মতে, এই আন্দোলন সাম্প্রদায়িক ছিল না। কারণ ওয়াহাবিরা মুসলিম জমিদারদেরও আক্রমণ করেছিল, আবার নিম্নবর্ণের হিন্দুদের ওপর তারা কোনোরকম অত্যাচার করেনি।


(4) নরহরি কবিরাজ এই আন্দোলনকে কৃষকদের শ্রেণিসংগ্রাম বলে বর্ণনা করেছেন। কারণ তিতুমিরের বিদ্রোহ ছিল জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে।


(5) তিতু নিজেকে 'বাদশাহ' বলে ঘোষণা করলে ইংরেজের সঙ্গেও তাঁর বিরোধ বাধে। এইদিক থেকে বিচার করলে ওয়াহাবিদের সংগ্রামকে স্বাধীনতা সংগ্রামও বলা যায়।


11. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের অর্থনৈতিক ও সামরিক কারণ উল্লেখ করো।

উত্তর : মহাবিদ্রোহের অর্থনৈতিক কারণ : 

জনগণের ক্ষোভের সবচেয়ে বড়ো কারণ ছিল ইংরেজদের অর্থনৈতিক শোষণ। কৃষক, শ্রমিক, কারিগর, জোতদার, জমিদার কেউ রেহাই পায়নি এই শোষণ থেকে।

(1) পলাশির যুদ্ধের পর শুরু হয় ইংরেজের নির্লজ্জ লুণ্ঠন। ভারতবর্ষ থেকে প্রভূত সোনা, রুপা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু তারা ইংল্যান্ডে নিয়ে যায়।

(2) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কৃষকশ্রেণির দুঃখ-দুর্দশা চরমে নিয়ে যায়। অতিরিক্ত রাজস্বের চাপ এবং রাজস্ব আদায়কারীদের নিপীড়ন তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। একদিকে জমিদার ও

অন্যদিকে মহাজনদের নিষ্পেষণে তারা জর্জরিত হয়।

(3) কৃষকশ্রেণির পাশাপাশি শিল্পী ও কারিগররাও সর্বনাশের মুখে এসে দাঁড়ায়। ইংল্যান্ডের কলে তৈরি কাপড়ের সঙ্গে ভারতের তাঁতে তৈরি কাপড়ের অসম প্রতিযোগিতায় পিছু হটে ভারতীয়।দ্রব্য। ফলে ভারতের সমৃদ্ধ তাঁতশিল্প ধ্বংস হয়।


(4) ইংল্যান্ড থেকে প্রেরিত দ্রব্যের আমদানিশুল্ক কমিয়ে এবং ভারতীয় দ্রব্যের রপ্তানিশুল্ক বাড়িয়ে তারা ভারতীয় দ্রব্যের ব্যাবসা প্রায় বন্ধ করে দেয়।


মহাবিদ্রোহের সামরিক কারণ: ভারতীয় সিপাহীদের অসন্তোষ ছিল মহা বিদ্রোহের অন্যতম কারণ। সমসাময়িক একজন ইংরেজ লিখেছেন-ভারতীয় সিপাহি ও ব্রিটিশ কর্মচারীর মধ্যে কোনো বন্ধুত্ব  বা সহমর্মিতাবোধ ছিল না দু'দলই যেন ছিল পরস্পরের বিচ্ছিন্নন ও অপরিচিত।

1. বিভিন্ন সময়ে সরকারের কিছু কিছু নির্দেশ ধর্মভীরু সিপাহীদের শংকিত করেছিল। ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে হিন্দুদের তিলক কাটা ও মুসলমানদের দাড়ি রাখার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি এবং ১৮২৪ - সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ব্রম্ভ যুদ্ধে যাওয়ার নির্দেশও সিপাহীদের ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করে। কারণ সেই সময় সমুদ্রযাত্রা হিন্দু ধর্মে নিষিদ্ধ ছিল।

2. চাকুরী সংক্রান্ত কিছু নির্দেশ সিপাহীদের বিদ্রোহীমুখী  করেছিল ।১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে জেনারেল সার্ভিস এনলিস্টমেন্ট আইন জারি করে ভারতের মধ্যে বাইরে যে কোনো স্থানে সিপাহীদের যুদ্ধে যাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। এই আইন সিপাহীদের দারুন ক্ষুব্দ করে।

3. ইংরেজ সৈনিকের তুলনায় সিপাহীদের বেতন ছিল কম। সম যোগ্যতা থাকলেও ভারতীয়দের পদোন্নতির সুযোগ ছিল না। ইংরেজ সৈনিকের তুলনায় তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল নিকৃষ্ট। অধিকাংশ সময়ই সিপাহীদের শুয়োর, নিগার ইত্যাদি গালিগালাজ দিয়ে কথা বলা হত। এই হীনতার বোঝা বহন করা একসময় ভারতীয় সিপাহীদের কাছে দুঃসহ হয়ে ওঠে।








বুধবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২২

এপ্রিল ১৩, ২০২২

দশম শ্রেণির ইতিহাস_জাতীয়তাবাদ ও সংস্কার আন্দোলন (Nationalism and reform movement in Bengali Class-10)

  

            জাতীয়তাবাদ ও সংস্কার                           আন্দোলন


1. শুদ্ধি আন্দোলন বলতে কী বোঝো ?

উত্তর : ব্যাপক ধর্মান্তরের ফলে হিন্দু সমাজে ভাঙ্গন দেখা দেয়। হিন্দু সমাজকে এই ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষার জন্য আর্য সমাজের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী অহিন্দু ও ধর্মান্তরিত হিন্দুদের হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনার জন্য যে কর্মসূচি গ্রহণ করেন তা শুদ্ধি আন্দোলন নামে পরিচিত।


2. ডিরোজিও স্মরণীয় কেন ?

উত্তর : নব্য বঙ্গ আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও। তিনি উনিশ শতকের কুসংস্কারচ্ছন্ন সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। কাকে ভারতের প্রথম জাতীয়তাবাদী কবি বলা হয়।


3. আর্য সমাজ আন্দোলনর প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল ?

উত্তর: আর্য সমাজ আন্দোলনর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বেদভিত্তিক সমাজ গঠন ও হিন্দু ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করা। এছাড়া, অহিন্দু ও ধর্মান্তরিত হিন্দুদের হিন্দু ধর্মে ফিরে আনাও আর্য সমাজের অপর উদ্দেশ্য ছিল।


4. পথের দাবী ও নীলদর্পণ কে রচনা করেন ?

উত্তর : পথের দাবী রচনা করেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। নীলদর্পণ রচনা করেন দীনবন্ধু মিত্র।


 5. ইলবার্ট কে ছিলেন ? ইলবার্ট বিলের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল ?

উত্তর : ইলবার্ট ছিলেন লর্ড রিপনের আইন সচিব।

ইলবার্ট বিলের উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা জজ যাতে ইউরোপীয় বিচারকের মর্যাদা লাভ করে ইউরোপীয় অপরাধীর বিচার করতে পারে তার আইনগত ব্যবস্থা করা, অর্থাৎ শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ বিচারপতিদের মধ্যে আইনগত বৈষম্য দূর করা।


6. টীকা লেখ : মেকলের প্রতিবেদন।

উত্তর : মেকলের প্রতিবেদন বা মেকলে মিনিটস

পাশ্চাত্য সমর্থকদের মতে লর্ড বেন্টিঙ্ক ভারতের গভর্নর-জেনারেল নিযুক্ত হলে (১৮২৮-৩৫ খ্রি.) এদেশে পাশ্চাত্য-শিক্ষা প্রসারের পথ প্রশস্ত হয়। টমাস ব্যাবিংটন মেকলে-কে 'পাবলিক ইনস্ট্রাকশন কমিটির সভাপতি নিয়োগ করেন বেন্টিঙ্ক। মেকলে ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রসারের সপক্ষে বেন্টিঙ্কের কাছে একটি প্রস্তাব পেশ করেন (১৮৩৫ খ্রি.)। এই প্রতিবেদন ‘মেকলে মিনিটস্’ (Macaulay Minutes) নামে খ্যাত।


বিভিন্ন প্রস্তাব: মেকলে মিনিটসের বিভিন্ন প্রস্তাবে বলা হয় চৈত. প্রাচ্যের সভ্যতা দুর্নীতিগ্রস্ত, অনুন্নত ও নির্বুদ্ধিতাসম্পন্ন, (II) প্রাচ্য-শিক্ষা নিকৃষ্ট ও বৈজ্ঞানিক চেতনাহীন, (iii) প্রাচ্যের সভ্যতা ও সংস্কৃতির উন্নতি ও সমৃদ্ধি ঘটতে পারে একমাত্র পাশ্চাত্য-শিক্ষার হাত ধরেই। মেকলে বলেন, ভারতীয়দের ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে পাশ্চাত্য-শিক্ষা দিলে, তাদের মাধ্যমে আরও বহু ভারতীয় পাশ্চাত্য-শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠবে। অর্থাৎ সীমিত সংখ্যক পাশ্চাত্য-শিক্ষিত ব্যক্তির মধ্য দিয়ে পরিত হয়ে ইংরেজি শিক্ষা জনগণের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে যাবে—এই নীতি ইনফিলট্রেশন থিয়োরি (Infiltration theory) নামে পরিচিত। মেকলে দম্ভভরে বলেছিলেন, এক আলমারি পাশ্চাত্য পুস্তক থেকে যে জ্ঞান অর্জন করা যায়, প্রাচ্যের সমস্ত গ্রন্থাগার ঘাঁটলেও তা পাওয়া যাবে না।


 মন্তব্য: মেকলের প্রতিবেদনের ফলেই ভারতে ইংরেজি শিক্ষার দ্বার খুলে যায়। ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ৭ মার্চ এই প্রস্তাব সরকারের অনুমোদন পায়।


7. প্রার্থনা সমাজের আদর্শ ও লক্ষ্য কী ছিল ? 

 উত্তর  :  প্রার্থনা সমাজের আদর্শ ও লক্ষ্য :

ব্রাহ্মসমাজের নেতা কেশবচন্দ্র সেনের প্রভাবে ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে ড. আত্মারাম পাণ্ডুরা মহারাষ্ট্রে প্রার্থনাসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে মহাদেব গোবিন্দ রানাডে ও রামকৃষ্ণ ভাণ্ডারকর প্রার্থনাসমাজে যোগ দেন ও একে একটি শক্তিশালী সমাজসংস্কারক প্রতিষ্ঠানরূপে গড়ে তোলেন।


>> আদর্শ: প্রার্থনাসমাজের সদস্যরা একেশ্বরবাদে বিশ্বাস করতেন। তবে ব্রাহ্মসমাজের মতো এঁরা কোনো নতুন ধর্মমতের কথা প্রচার করেননি। এঁরা বেদকে অভ্রান্ত বা অপরিবর্তনীয় বলে মনে করতেন না। পাশ্চাত্য আদর্শ ও ভাবধারায় প্রভাবিত হলেও এই সংগঠনটি সনাতন হিন্দু সংস্কৃতি ও রীতিনীতি মেনে কাজ করায় বিশ্বাসী ছিল। প্রার্থনা সমাজ সমগ্র মানবজাতির ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের স্বপক্ষে এবং জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারের পাশাপাশি সকল ধর্মের প্রতি সহনশীলতার নীতিতে আস্থাশীল ছিল।


>> লক্ষ্য: হিন্দুধর্ম ও সমাজের মধ্যে থেকে ধর্ম ও সমাজের সংস্কার করাই ছিল এঁনের লক্ষ্য।

(1) প্রার্থনাসমাজের সদস্যরা জন্মান্তরবাদ ও পৌত্তলিকতাবাদের অবসানসহ বিভিন্ন কুসংস্কারের। বিলুপ্তির মাধ্যমে হিন্দুধর্মকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। 

(2) জাতিভেদ প্রথার অবসান এবং পুরোহিতদের প্রাধান্য খর্ব করা ছিল এই সমাজের লক্ষ্য।

 (3) বিধবাবিবাহ প্রচলন, স্ত্রীশিক্ষার প্রসার, পর্দাপ্রথার অবসান, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা ইত্যাদি ছিল প্রার্থনাসমাজের সংস্কার কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।


8. স্বামী বিবেকানন্দ যুব শক্তিকে কিভাবে উদ্দীপিত করেন ?

উত্তর : স্বামী বিবেকানন্দ ও যুব শক্তি :

স্বামী বিবেকানন্দের নানা প্রবন্ধ ও বক্তৃতা তরুণ দেশপ্রেমিকদের মধ্যে উদ্দীপনার সম্ভার করে। অধঃপতিত ভারতবাসীকে তিনি আবুবলে বলীয়ান হওয়ার জন্য আহ্বান জানান। স্বামীজী পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনের জন্য যুবসমাজকেই এগিয়ে আসতে বলেছিলেন।


(1) হতাশাগ্রস্ত যুবসমাজকে তিনি দেশের কাজে যোগ দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। বিবেকানন্দ উপলব্ধি করেছিলেন যে, দেশের যুবশক্তি জাগ্রত না-হলে দেশ ও সমাজের মঙ্গলসাধন সম্ভব নয়। তাই তিনি দৃপ্তকণ্ঠে ডাক দেন, “ওঠো, জাগো লক্ষ্যে পৌঁছোবার আগে থেমো না।”

(2) স্বামীজী সকলকে পাশ্চাত্যের জ্ঞান-বিজ্ঞান, দৃঢ়তা, সাহস, আত্মবিশ্বাস ও কঠোর মনোবল রপ্ত করার পরামর্শ দেন।

 (3) জাতিভেদ, ধর্মীয় কুসংস্কার, সামাজিক অনাচার, অশিক্ষা, অসাম্য ইত্যাদির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি তরুণ সমাজকে উদ্দীপিত করেন। 

(4) স্বামীজি তারুণ্য শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এক নতুন ভারত গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন—“তরুণেরা আগুন ছড়িয়ে দেবে হিমালয় থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত আর উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত।”


(5) স্বামীজি মানুষ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন (১৮৯৭ খ্রি.)। যার দ্বারা তিনি যুবসমাজকে ভবিষ্যতের মানবসমাজের সেবা করার সুযোগ করে দিতে য়ছিলেন। স্বামীজি মনে করতেন একশো জন খাঁটি আদর্শবান যুবক একজোট হলে ভারতবর্ষ মুক্তি পাবেই।


>> মূল্যায়ন: স্বামীজির অনুপ্রেরণার জন্যই পরবর্তী সময়ে ভারতের বৈপ্লবিক আন্দোলনে যুবকরা দলে দলে যোগ দেয়। গোপাল হালদার লিখেছেন, “বাংলাদেশে যাকে অগ্নিযুগ বলে, তাঁর অগ্নিমস্তু কেউ যদি জাগিয়ে থাকেন তবে সে বিবেকানন্দ।"


9. টীকা লেখ : থিয়োজফিক্যাল সোসাইটি

উত্তর : থিয়োজফিক্যাল সোসাইটি :

অর্থ:  বিএস' (ঈশ্বর) ও 'সোফিয়া' (জ্ঞান)—এই দুটি গ্রিক শব্দের মিলিত রূপ হল। 'থিওসফি'। সংস্কৃত ভাষায় এর অর্থ হল বিদ্যা। খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতাব্দীতে ঠিক দার্শনিক ইয়ামেট্রিকস সর্বপ্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন।


প্রতিষ্ঠা : সর্বপ্রথম আমেরিকার নিউইয়র্কে (১৮৭৫ খ্রি.) কর্নেল এইচ. এস. ওলকট ও মাদাম এইচ. পি. ব্লাডাউস্কি থিয়োজফিক্যাল সোসাইটি গড়ে তোলেন। ঊনবিংশ শতকের ধর্ম ও সমাজসংস্কারের ক্ষেত্রে থিয়োজফিক্যাল সোসাইটির অবদান কম নয়। পরে তাঁরা মাদ্রাজের আরিয়ারে বিয়োজবিকাল সোসাইটির একটি শাখা প্রতিষ্ঠা করেন (১৮৮৬ খ্রি.)। শ্রীমতী অ্যানি বেসান্ত ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে এই সোসাইটিতে যোগ দিলে এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।


>> উদ্দেশ্য: ভারতীয় ধর্ম ও দর্শনের প্রতি এঁদের গভীর আস্থা ছিল। এঁরা প্রাচীন হিন্দু, বৌধ ও পারসিক ধর্মের পুনরুজ্জীবন ঘটানোর চেষ্টা করেন। এই সোসাইটির উদ্দেশ্য ছিল -


(1) সমস্ত মানুষকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করা ; 


(2) প্রাচীন ধর্ম, বিজ্ঞান ও দর্শনের চর্চা করা;


(3) মানুষের মধ্যেকার আধ্যাত্বিক ক্ষমতার বিকাশ ঘটানো এবং


(4) সতীদাহ, পণপ্রথা, জাতিভেদ প্রথা ইত্যাদির বিরোধিতা করা।


বিশ্বাসঃ থিয়োজফিস্টরা তিনটি সত্যে বিশ্বাস করতেন—


(1) আত্মা অমর ও শাশ্বত:

(2) মানুষের হৃদয়ে পরমাত্মার অধিষ্ঠান;

(3) মানুষ নিজের ভাগ্য নিজেই গড়ে তোলে। 

প্রভাবঃ শ্রীমতী বেসান্ডের উদ্যোগে বারাণসীতে সেন্ট্রাল হিন্দু স্কুল স্থাপিত হয়। পরে পণ্ডিত মদনমোহন মালব্যের চেষ্টায় এটি বারাণসীর হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। পাশ্চাত্য বিয়োজটি হিন্দুধর্ম ও ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে তার পক্ষে প্রচার করলে ভারতীয়রা আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।


10. জাতীয়তাবাদের  বিকাশে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান কী ?

উত্তর : জাতীয়তাবাদের বিকাশে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান :

বঙ্কিমচন্দ্রের অধিকাংশ উপন্যাসের বিষয়বস্তু ছিল স্বদেশ ও দেশস্লেন। সৃষ্টি জাতীয়তাবোধের বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল। তাঁর 'বন্দেমাতরম্'-মন্ত্র ছিল বিপ্লবীদের বীজ। অরবিন্দ ঘোষ তাই বঙ্কিমকে ‘জাতীয়তাবোধের ঋত্বিক' বলেছেন।


সাহিত্য:(1) ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ' উপন্যাস প্রকাশিত হয়। এখানে তিনি স্বাধীনতার পটভূমিকায় ইংরেজ বিরোধী সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ঘটনাকে উপলক্ষ্য করে স্বদেশ চেতনার জাগরণ ঘটান। আনন্দমঠের সন্তানদলের মুখ দিয়ে তিনি স্বাদেশিকতা ও সংগ্রানশীল জাতীয়তাবোধের তত্ত্ব প্রচার করেন।

(2) ‘দেবী চৌধুরাণী' উপন্যাসেও তিনি ইংরেজের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের জাত্যভিমানকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন। 

(3) তাঁর অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে 'সীতারাম', 'রাজসিংহ', 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রভৃতি স্বদেশপ্রেমের চেতনায় সমৃদ্ধ ছিল।

(4) বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ‘ভারতবর্ষের স্বাধীনতা ও পরাধীনতা', 'কৃষ্ণচরিত’, ‘ভারত কলঙ্ক’, ‘বাঙালির বাহুবল' প্রভৃতি প্রবন্ধে স্বদেশভাবনার পরিচয় মেলে।


 সংগীত: বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দেমাতরম্ সংগীত দেশবাসীকে স্বদেশচেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। সন্তানদলের সদস্যরা বন্দেমাতরম্ ধ্বনি উচ্চারণ করতে করতে দেশের জন্য প্রাণবিসর্জন দেন। এই দৃষ্টান্ত সারা দেশকে আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ করে। জাতীয়তাবাদের মহারূপে সমাদৃত হয় এই সংগীতটি।


> মূল্যায়ন: সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের রচনাবলি অগণিত ভারতবাসীর হৃদয়ে জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তুলেছিল—যুবসমাজের মনে জ্বালিয়েছিল আত্মাহুতির বহ্নিজ্বালা। তাই হীরেন্দ্রনাথ দত্ত বলিমকে ভারতীয় জাতীয়তাবোধের প্রকৃত জনক (The real father of Indian Nationalism) বলেছেন।


11. টীকা লেখ : দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন।

উত্তর : দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন : 

পটভূমি:  ঊনবিংশ শতকে দেশীয় সংবাদপত্রগুলিতে সরকারি কর্মচারীদের অন্যায় আচরণ, সাকারের অর্থনৈতিক শোষণ, দেশীয় সম্পদের বহির্গমন, দেশীয় শিল্পের অবক্ষয় ইত্যাদি নানা বিষয় তুলে হা হয়। সমগ্র দেশবাসীর কাছে সরকারের অন্যায় নীতির মুখোশ খুলে যায়। ঐতিহাসিক এ. আর. দেশাইয়ের মতে, ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে সংবাদপত্র হল এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।


> আইনের শর্তসমূহ: সাম্রাজ্যবাদী গভর্নর জেনারেল লর্ড লিটন দেশীয় পত্রপত্রিকার কন্ঠরোধ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই উদ্দেশ্যে লর্ড লিটন ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে (১৪ মার্চ) দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন (NVernacular Press Act, 1878) জারি করেন। এই আইনে বলা হয় যে,


(1) সরকারবিরোধী কোনো সংবাদ বা রচনা প্রকাশ করলে ওই পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক শাস্তি পাবেন। এ ব্যাপারে বিচারবিভাগে কোনো অভিযোগ করা যাবে না।


(2) সংবাদপত্র প্রকাশের জন্য সরকারের কাছে অর্থ জমা রাখতে বলা হয়। এ ছাড়া আরও বলা হয় যে, সরকার-বিরোধী মন্তব্য ছাপা হলে এই অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে। 

(3)কোনো সরকারি কর্মচারী বিশেষ অনুমতি ছাড়া সংবাদপত্র সম্পাদনা করতে পারবেন না।


>> ফলাফল: সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণ আইন জারি হলে 'সোমপ্রকাশ', 'সহচর' প্রভৃতি বহু জাতীয়তাবাদী সংবাদপত্র প্রকাশ বন্ধ হয়ে যায় এবং এই কালাকানুন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শিশিরকুমার ঘোষ সম্পাদিত 'অমৃতবাজার পত্রিকা' শুধুমাত্র ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ হতে থাকে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণের এই প্রয়াসকে অনেকে শ্বাসরোধকারী আইন বলে নিন্দা করেন। শেষ পর্যন্ত ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে লর্ড রিপন এই আইনটি প্রত্যাহার করে নেন (২৮ জানুয়ারি)।


12. সমাজ সংস্কারে রামমোহনের ভূমিকা উল্লেখ করো । উডের ডেসপ্যাচ কী ?

উত্তর : রামমোহনের সমাজসংস্কার :


রামমোহন ছিলেন ভারতের সর্বপ্রথম আধুনিক মানুষ যিনি চেতনার চাবুক হাতে নিয়ে পচাগলা এক সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন।


(1) সমাজসংস্কারের অঙ্গ হিসেবে রামমোহন সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। তিনি সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলেন। ব্রিটিশ গভর্নর-জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক রামমোহনের সমর্থনে এগিয়ে আসেন। শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে সতীদাহ নিবারণ আইন জারি করেন।


(2) সে যুগে বিদেশযাত্রা ছিল সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ। তিনি নিজে বিদেশ যাত্রা করে এর বিরোধিতা করেন। 

(3) তিনি বহু প্রবন্ধে কন্যাপণ, গঙ্গাসাগরে সন্তান বিসর্জন, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের সমালোচনা করেন। 

(iv) তিনি জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন।


উডের ডেসপ্যাচ :

১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে বোর্ড অব কন্ট্রোলের সভাপতি স্যার চার্লস উড় ভারতে শিক্ষাবিস্তার সম্পর্কে এক নির্দেশনামা প্রকাশ করেন। এটিই উডের ডেসপ্যাচ (Wood's Despatch) নামে খ্যাত। উডের ডেসপ্যাচে সুপারিশগুলি ছিল এরকম


(1) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার প্রসার, স্ত্রীশিক্ষার প্রচলন ;

(2) সাধারণভাবে মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষাদান এবং উচ্চ ইংরেজি শিক্ষণীয় বিষয়রূপে গুরুত্বান


(3) কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা

(4) বিদ্যালয়গুলিকে সরকারি সাহায্য বা অনুদান দেওয়া


(5) শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যাপারে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ (Inspection)-এর নির্দেশ এই নির্দেশনামা অনুসারে একটি শিক্ষা বিভাগ (Department of Public Instruction) গঠিত হয় এবং কলকাতা, মাম্রাজ ও বোম্বাইতে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়।


13. ভারতের পাশ্চাত্য শিক্ষার কী প্রভাব ছিল? বিধবা বিবাহ প্রচলনের কাজে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা লেখ।

উত্তর: ভারতে পাশ্চাত্য-শিক্ষার প্রভাব:

পাশ্চাত্য-শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের জনজীবনে আসে নতুন প্রাণের স্পন্দন। এর ফলে

(1.) পাশ্চাত্য-শিক্ষায় শিক্ষিত ভারতবাসী মধ্যযুগীয় কূপমণ্ডুকতা থেকে মুক্ত হয়।

 (2) পশ্চিমি দেশগুলির জ্ঞান-বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদ ভারতীয়দের মানসিক প্রসারতা ঘটায়।

(3) পাশ্চাত্য-শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একদল মানুষ ধর্ম ও সমাজসংস্কারের কাজে উদ্বুদ্ধ হন।

 (4) যুক্তিবাদ ও উদারতাবাদের বিকাশ ভারতবাসীকে রুমে জাতীয়তাবোধে উদ্দীপ্ত হতে প্রেরণা দেয়। তবে ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থা ত্রুটিহীন ছিল না। ইংরেজি শিক্ষা কেবল শহুরে অভিজাতনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।


বিধবাবিবাহ প্রচলনে বিদ্যাসাগরের ভূমিকা :


নারীমুক্তি আন্দোলনের কাজে বিদ্যাসাগর ছিলেন রামমোহনের যোগ্য উত্তরসাধক। হিন্দুবিধবাদের দুঃখদুর্দশা তাঁর হৃদয়কে বিচলিত করে। বিধবাদের মুক্তির জন্য বিভিন্ন শাস্ত্র বিশ্লেষণ করে তিনি প্রমাণ করেন যে, হিন্দুধর্মে বিধবাবিবাহ শাস্ত্রসম্মত।

(1) পরাশর সংহিতা-র একটি শ্লোক উদ্ধৃত করে তিনি বলেন যে, “স্বামী নিরুদ্দেশ হলে, মারা গেলে, ক্লীব প্রমাণিত হলে, সংসারধর্ম ত্যাগ করলে কিংবা পতিত হলে তাঁর স্ত্রী পুনর্বিবাহ করার অধিকারী।"

(2) বিদ্যাসাগর প্রথম বিধবাবিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন (৭ ডিসেম্বর, ১৮৫৬ খ্রি.)। পার ছিলেন সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন আর পাত্রী ছিলেন বর্ধমানের পালানাডাঙার ব্রহ্মানন্দ মুখার্জির দশ বছর বয়সি বিধবা কালীমতী দেবী।


(3)) তিনি নিজের ছেলে নারায়ণচন্দ্রের সাথে আঠারো বছরের এক বিধবা ভবসুন্দরীর বিবাহ দেন।


(4) তিনি এগারো বছরের মধ্যে (১৮৫৬-৬৭) মোট ৬০ জন বিধবার বিয়ে দিয়েছিলেন। এজন্য তাঁর খরচ হয়েছিল ৮২ হাজার টাকা।


> ফলাফল: ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে বিধবাবিবাহ ‘আইনসিদ্ধ’ বলে ঘোষিত হয়। গোঁড়া ও রক্ষণশীল সমাজের ভ্রুকুটিকে উপেক্ষা করে বিদ্যাসাগর যেভাবে একক প্রচেষ্টায় বিধবাদের বিবাহের জন্য আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন তা ভারতীয় হিন্দুসমাজের নারীদের জীবনের এক বিশেষ মোড় বলা যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে বিনয় ঘোষ লিখেছেন, “উনিশ শতকের সমাজ সংস্কার আন্দোলনের ইতিহাসে বিদ্যাসাগরের বিধবাবিবাহ আন্দোলনই প্রথম সর্বভারতীয় আন্দোলন।" বিদ্যাসাগর নিজে তাঁর ভাই শম্ভুচন্দ্রকে এক চিঠিতে জানিয়েছিলেন, “বিধবাবিবাহ প্রথা প্রবর্তন আমার জীবনের সর্বপ্রধান সৎকর্ম।”


14. সমাজ সংস্কারক বিদ্যাসাগরের অবদান আলোচনা করো।

উত্তর :  সমাজ সংস্কারক বিদ্যাসাগরের অবদান শতকের আর-একজন অসাধারণ পণ্ডিত ও সংস্কারক ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০ ৯১ খ্রি.)। মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে এক দরিত ব্রা পরিবারে তাঁর জন্ম হয়। প্রখ্যাত কবি মাইকেল মধুসুদন লিখেছেন, বিদ্যাসাগরের মধ্যে ছিল সন্ন্যাসীর প্রজ্ঞা, ইংরেজের উদ্যম এবং বাঙ্গালী-মায়ের কোমল হৃদয় ("Vidyasagar had the genius and wisdom of an ancient sage, the energy of an Englishman and the heart of a Bengalee mother)!


বিধবাবিবাহ আইন: নারীমুক্তি আন্দোলনের কাজে বিদ্যাসাগর ছিলেন রামমোহনের যোগ্য উত্তরসাধক। হিন্দুবিধবাদের দুঃখদুর্দশা তাঁর হৃদয়কে বিচলিত করে। বিধবাদের মুক্তির জন্য তিনি আমরণ সংগ্রাম চালিয়ে যান। বিভিন্ন শাস্ত্র বিশ্লেষণ করে তিনি প্রমাণ করেন যে, হিন্দুধর্মে বিধবাবিবাহ শাস্ত্রসম্মত। পরাশর সংহিতার একটি শ্লোক উদ্ধৃত করে তিনি বলেন যে, স্বামী নিরুদ্দেশ হলে, মারা গেলে, ক্লীব প্রমাণিত হলে, সাথে করলে কিংবা পতিত হলে তাঁর স্ত্রী পুনর্বিবাহ করার অধিকারী।" তাঁর এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে রক্ষণশীল সমাজপতিরা নানাভাবে বিদ্যাসাগরকে লাঞ্ছিত কিন্তু জীবন বিপ করেও তিনি এই আন্দোলন চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুলাাই XV রেগুলেশন দ্বারা বিধবাবিবাহ আইনসিদ্ধ বলে ঘোষিত হয়। তার উদ্যোগে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে পরবর্তী দশ বছরের মধ্যে ৬০টি হি অনুষ্ঠিত হয়। 


বাল্যবিবাহের বিরোধিতাঃ বিদ্যাসাগর বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে শাস্ত্র ব্যাখ্যা করে প্রমাণ করেন যে, হিন্দুধর্ম বা হিন্দুশাস্ত্রে বাল্যবিবাহের কোনো বিধান নেই। 'সর্বশূভকরী' পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় (১৮৫ খ্র.) তিনি 'বাল্যবিবাহের দোষ" নামক একটি প্রবন্ধ লেখেন। এই লেখায় তিনি হিন্দু বাল্যবিবাদের অসহায়তা, দুঃসহ যন্ত্রনা, দ্য জীবনের মর্মব্যাথা তুলে ধরেন। এ ছাড়া তিনি বাল্যবিবাহের বিষয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করেন এবং সভাসমিতিতে নিজের বক্তব্য পেশ করেন। তাঁরই অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে সরকার একটি আইন পাস করে মেয়েদের বিবাহের বয়স কমপক্ষে ১০ বছর করে।


(1) বহুবিবাহের বিরোধিতা। সে সময়ে হিন্দু সমাজের বুকে বহুবিবাহ প্রথা আলাদল পাথরের মতো চেপে বসেছিল। বিদ্যাসাগর আগাগোড়া বহুবিবাহের বিরোধিতা করে গেছেন। এ ব্যাপারে তিনি প্রায় ৫০ হাজার মানুষের স্বাক্ষরসহ এক প্রতিবাদপত্র পাঠান ব্রিটিশ সরকার কাছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ ব্যাপারে সরকারি ভরকে সেসময়ে কোনো সাড়া মেলেনি। কিন্তু বিদ্যাসাগর থেমে থাকেননি। তিনি বহুবিবাহের বিরোধিতা করে আরও দুটি পুস্তক রচনা করেন (১৮৭১ খ্রি.)।


(2) কুলীন প্রথার বিরোধিতা : সে সময় কুলীন ব্রাণেরা অজস্র বিবাহ করতেন, এমনকি বৃদ্ধ বয়সে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও বহু কুলীন ব্রায়ণ কন্যাদায়গ্রস্থ পিতাদের কন্যাদায় থেকে মুক্তি দেওয়ার অছিলায় তাদের নাতনির বয়সি মেয়েদের বিবাহ করবেন। এই ভঙানি বন্ধ করার জন্য বিদ্যাসাগর কুলীন বিরুদ্ধে সরব হন।


> অন্যান্য সমাজসংস্কার: বিদ্যাসাগরের অন্যান্য সমাজসংস্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—


(1) তিনি মদ্যপানের বিরুদ্ধেও সম্ভব হন।


(2)এ ছাড়া সহবাস সম্মতি' আইনের জন্যও তাঁর অবদান ছিল। 

(3) গঙ্গাসাগরে সন্তান বিসর্জন প্রথা ও কুষ্ঠরোগী হত্যার বিরুদ্ধেও তিনি সরব হন।

(4) জাতিভেদ, অস্পৃশ্যতা প্রথার তিনি তীব্র নিন্দা করেন এবং এর বিরুদ্ধে তিনি সকলকে সরব হওয়ার আবেদন জানান।


> মূল্যায়ন: স্বামী বিবেকানন বলেছিলেন, রামকৃষ্ণদেবের পর আমি বিন্যাসরকে অনুসরণ AfterRamakrishna, I follow Vidyasagar) |বিদ্যাসাগরের চরিত্র ছিল কুসুনের মতো কোমল, মবার বলের মতোই কঠোর। ন্যায় ও সত্যের প্রতি তিনি যতটা অনুষ্যত ছিলেন, ঠিক ততটাই প্রতিবাদী ছিলেন চনায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে। তাই গবেষক বিনয় ঘোষ লিখেছেন, "রামমোহনের মত আদর্শদী (Idealist) কুরমোহনের মত চরমপন্থী (extremist) কোনটাই বিদার ছিলেন না। সমকালীন সময়ে তিনি ছিলেন সত্যকার বাস্তববাদী (realist)। আদর্শবাদের সাথে বাস্তববাদের যে সমন্বয় তাঁর চরিত্রেই তেমনি আর কারো চরিত্রে ঘটেনি।
















সোমবার, ১১ এপ্রিল, ২০২২

এপ্রিল ১১, ২০২২

দশম শ্রেণির ইতিহাস- জাতীয় আন্দোলনের প্রথম যুগ (The first era of the national movement in Bengali Class-10)

The first era of the national movement
The first era of the national movement

  

                   জাতীয় আন্দোলনের প্রথম যুগ 


1. জাতীয় কংগ্রেসের আদিপর্ব নরমপন্থীদের অবদান কী ?

উত্তর : আদিপর্বে কংগ্রেসের নরমপন্থীদের অবদান :

১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়। কংগ্রেসের আদিপর্বের নেতারা নরমপন্থী নামে পরিচিত ছিলেন। ভারতীয় রাজনীতিতে তাঁদের অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। 

>> জাতীয় চেতনার সঞ্চার: নরমপন্থীদের নেতৃত্বেই কংগ্রেস নানা ভাষা ও জাতি অধ্যুষিত জাতীয় বাসীর মধ্যে ব্রিটিশ অপশাসনের স্বরূপ উদ্ঘাটন করে জাতীয় চেতনা সঞ্চারিত করতে সক্ষম হয়েছিল।

 জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠা: জাতীয় কংগ্রেস জাতীয় ঐক্য ও জাতীয় চেতনাকে সুদৃঢ় করে। | বিভিন্ন শহরে কংগ্রেসের অধিবেশনগুলি অনুষ্ঠিত হওয়ায় জাতীয় সংহতি নিবিড় হয়।

> আবেদন-নিবেদন নীতি: জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম যুগের কর্মসূচি আবেদন-নিবেদন নীতির মধ্যেই সীমাবন্ধ ছিল। এ সময়কার কংগ্রেসের নেতৃবর্গ সরাসরি ব্রিটিশের সঙ্গে সংঘর্ষের রাস্তায় না গিয়ে ব্রিটিশ সরকারের ভুলত্রুটিগুলি জনসমক্ষে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

 >> সরকারের সমালোচনা: জাতীয় কংগ্রেস ক্রমাগত সরকারি কাজের সমালোচনা করে। এর ফলে ভারতবাসী ব্রিটিশ সরকারের প্রকৃত স্বরূপটি বুঝতে পারে।

জাতীয় কংগ্রেসের প্রথমযুগের কর্মপ্রচেষ্টাকে বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে সমালোচনা করেছেন। অশ্বিনী দষ্ট এসময়ে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের অধিবেশনগুলিকে 'তিনদিনের তামাশা' বলে বাচ্চা করেছেন। লালা লাজপত রায়ের মতে-নরমপন্থীরা চেয়েছিলেন রুটি, পেয়েছিলেন পাথর। অন্যদিকে, ঐতিহাসিক বিপানচন্দ্র লিখেছেন, ১৮৮৫ থেকে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময় ছিল ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বীজ বপনের কাল এবং মহিপর্বের নেতারাই সেই কাজ যথার্থভাবে সম্পন্ন করেছিলেন।


2. জাতীয় কংগ্রেসের সুরাট অধিবেশন সম্পর্কে যা জানো লেখ।

উত্তর : জাতীয় কংগ্রেসের সুরাট অধিবেশন :

পটভূমি: বঙ্গভঙ্গের  বিরুদ্ধে ভারতের জাতীয় আন্দোলনের লক্ষ্য ও পরি কংগ্রেসের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়। চরমপন্থী সদস্যরা নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ আন্দোলন তীব্রতর করে সরকারকে অচল করে দেওয়ার দাবি তোলেন, কিন্তু নরমপন্থীরা কোনোরকম জঙ্গি আন্দোলনের বিরোধী ছিলেন। ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দের কলকাতা কংগ্রেসে চরমপন্থীরা চাপ সৃষ্টি করে চারটি প্রস্তাব পাশ করিয়ে নেন, যথা স্বদেশি জাতীয় শিক্ষা। তাদের ভয় ছিল পরবর্তী সুরাট অধিবেশনে নরমপন্থীরা এই প্রস্তাবগুলি নাকচ করে নেবেন। তাই চরমপন্থীরা ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দের সুরাট অধিবেশনে কংগ্রেসের  মঞ্চ দখল করার পরিকল্পনা গ্রহণ করলে বিরোধ চরমে পৌঁছোয়।


সুরাট ভাঙন: সুরাট অধিবেশনে চরমপন্থীরা লালা লাজপত রায়কে সভাপতি করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু তিনি এই পদ গ্রহণে রাজি না হলে চরমপন্থীরা তিলককে সভাপতি করার দাবি তোলেন। নরমপন্থীরা বিচক্ষণতার সঙ্গে মধ্যপন্থী নেতা রাসবিহারী ঘোষকে সভাপতি মনোনীত করেন। এতে দুই দলের মধ্যে বিবাদ চরম আকার নেয় এবং তাদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়। ফলস্বরূপ চর কংগ্রেস থেকে বিতাড়িত হন। নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের এই ভাঙন সুরাট ভাঙন (Surat split) নামে পরিচিত।


 তাৎপর্য: বড়োলাট লর্ড মিন্টো সুরাট ভাঙনকে কার্যত সরকারের বিজয় বলে পূর্ব প্রকাশ করেন। বস্তুতই নরমপন্থীরা ইংরেজ সরকারের ওপর আস্থা রেখেই সুরাটে এত কঠোর ভূমিকা নিয়েছিলেন। এই ঘটনা জাতীয় কংগ্রেসের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে। অবশ্য অল্পকালের মধ্যে কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ পুনরায়  সংঘবদ্ধ হয়ে দূরদর্শিতার পরিচয় দেয়। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, সুরাটের ঘটনার ফলে জাতীয় কংগ্রেসের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ও নতুন এক যুগের সূচনা ঘটে।


3. লর্ড কার্জন কেন বাংলা ভাগ করেছিলেন ?

উত্তর : লর্ড কার্জনের বাংলা ভাগ :

> বঙ্গভঙ্গ: ভাইসরয় লর্ড কার্জনের প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত সরকারিভাবে ঘোষিত হয় এবং ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৬ অক্টোবর 'বঙ্গভঙ্গ' কার্যকর হয়। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বঙ্গভঙ্গগকে 'জাতীয় বিপর্যয়' বলে অভিহিত করেছেন।

কার্জনের যুক্তি: কার্জনের বাংলা ভাগের পিছনে যুক্তি হল—

প্রথমত, অবিভক্ত বাংলা প্রদেশের আয়তন খুব বড়ো। একজন গভর্নরের পক্ষে এতবড়ো প্রদেশের শাসনভার বহন করা কষ্টকর।

দ্বিতীয়ত, কলকাতা থেকে সুদুর পূর্ববাংলাকে ভালোভাবে শাসন করা সম্ভব নয়।

 • তৃতীয়ত, আসামের চা বাগানের মালিকরা চা, তেল প্রভৃতি কম খরচে রপ্তানির জন্য আসামের সঙ্গে চট্টগ্রামের সংযুক্তি চাইছেন। তাদের স্বার্থে বলাভঙ্গের প্রয়োজন।

চতুর্থত, পূর্ববঙ্গের সঙ্গে আসামকে যুক্ত করা হলে আসামে সুদক্ষ প্রশাসন গড়ে উঠবে।


পঞ্চমত, উড়িষ্যার সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবনের জন্য বাংলা ভাগের প্রয়োজন।


> প্রকৃত উদ্দেশ্য: বাংলা ভাগের পিছনে কার্জনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক। যেমন—


(1) ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্যমণি বাংলাকে বিভক্ত করে তার শক্তিকে খর্ব করা। 

(2) বাংলাকে বিভক্ত করে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে দুর্বল করা।


(3) আসামের চা বাগানের মালিকদের স্বার্থরক্ষা করা।


(4) ব্রিটিশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ঘাঁটি কলকাতাকে তার স্বর্ণাসন থেকে নামিয়ে দেওয়া।


4. বাঘাযতীন স্মরণীয় কেন ?

উত্তর : বাঘা যতীন ও বুড়িবালামের যুদ্ধ :

রাসবিহারী বসুর দেশত্যাগের পর বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (যতীন)। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের ২৬ আগস্ট বাংলার বিপ্লবীরা কলকাতার অস্ত্র ব্যবসায়ী রডা অ্যান্ড কোম্পানির আমদানি করা ৫০টি | মাউজার পিণ্ডল ও ৪৬ হাজার কার্তুজ লুঠ করেছিল। যতীন্দ্রনাথ বিদেশ থেকে আরও অস্ত্র ও অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চালান। বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে মাভেরিক, হেনবিএস এবং এ্যানিলারসন নামক তিনটি মহাজে অস্ত্র আনানোর ব্যবস্থা হয়। স্থির হয়, মাভেরিক জাহাজ থেকে গোপনে অস্ত্র নামানো হবে উড়িষ্যার বালেশ্বরে। বাঘা যতীন তাঁর দলবল নিয়ে বালেশ্বর যান।

ইতিমধ্যে জার্মানি থেকে পাঠানো কিছু অর্থ বালেশ্বরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে ধরা পড়ে এবং সমস্ত তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। ফলে ব্রিটিশরা জাহাজ তিনটি বাজেয়াপ্ত করে। বালেশ্বরে পুলিশ বাঘা যতীনের সনে অগ্রসর হয়। বুড়িবালামের তীরে বাঘা যতীন ও তাঁর সহকর্মীরা পুলিশবাহিনীর মুখোমুখি হন। বাঘা যতীন যুদ্ধে সাংঘাতিকভাবে আহত হন। পরে শহিদের মৃত্যু বরণ করেন (১০ সেপ্টেম্বর, ১৯১৫ খ্রি.)। বাঘা যতীন ইতিহাসের পাতায় অমরত্ব লাভ করেন।

বুড়িবালামের যুদ্ধে বিপ্লবীদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ ভারতবাসীকে নতুন করে উদ্দীপ্ত করে। ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্রের মতে, বুড়িবালামের যুদ্ধ বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা।


5. ভারতের জাতীয় আন্দোলনে বালগঙ্গাধর তিলকের অবদান কী ছিল ?

উত্তর : বালগঙ্গাধর তিলক :

ভারতের জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের পুরোধা ছিলেন বালগাধর তিলক (১৮৫৬-১৯২০)। তিনি সক্রিয় আন্দোলনের মাধ্যমে আত্মশক্তি দ্বারা স্বরাজ অর্জনের ডাক দেন।

পত্রিকা সম্পাদনা: তিনি মারাঠা' এবং 'কেশরী' নামে দুটি সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন। দুটি পত্রিকাই নিরন্তর ব্রিটিশ বিরোধী প্রবন্ধ ও আলোচনা প্রকাশ করে জাতীয়তাবোধে দেশবাসীকে উদবুদ্ধ করেছিল।


গণপতি ও শিবাজী উৎসব :জনগণের মনে জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটাতে তিলক গণপতি উৎসব ও শিবাজী উৎসব-কে গণ-উৎসবে পরিণত করেন। স্বদেশি বক্তৃতা, গান, শোভাযাত্রা প্রভৃতির মাধ্যমে এই উৎসব জাতীয়তাবাদ ও স্বদেশ-চেতনা বৃদ্ধি করে।


>  বয়কট আন্দোলনে নেতৃত্ব : তিলকের নেতৃত্বে স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলন মহারাষ্ট্রে প্রসারলাভ করে। তিলক ঘোষণা করেন বয়কট ও নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ আমাদের অস্ত্র। কারো ওপর বলপ্রয়োগের পক্ষপাতী আমরা নই। কর্মপন্থা অনুসরণ করতে গিয়ে যদি দুঃখবরণ করতে হয় তা হলেও আমরা পিছু হঠব না।


> হোমরুল আন্দোলন: হোমরুল আন্দোলনের মাধ্যমে তিলক রাজ অর্জনের চেষ্টা করেন। তাঁর আহ্বানে বহু যুবক হোমরুল আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিলক হোমরুল লিগের মাধ্যমে গণ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি অত্যন্ত দ্রুত এই আন্দোলনকে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িে তিলক বলেন—দমন পীড়ন বিদ্রোহের আগুন জ্বালাতে সাহায্য করবে। হোমবুল এখন ছড়িয়ে দাবানলের মতো। তিনি দৃপ্তকণ্ঠে বলেছিলেন, স্বরাজ আমার জন্মগত অধিকার এবং আমি তা অর্জন কর (("Swaraj is my birth-right and I must have it")। হোমরুল আন্দোলন ে নেতায় পরিণত করে। তিলক 'লোকমান্য' অভিধায় ভূষিত হন। তিলকের আদর্শ, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ দেশবাসীকে সক্রিয় আন্দোলনে উল্লখ সম্পর্কে অরবিন্দ ঘোষ লিখেছেন তিলকই জাতীয় আন্দোলনকে জনতার কাছে পৌঁছে দেন।


6. বিপ্লবী লালা লাজপত রায় সম্পর্কে কী জানা যায় ?

উত্তর : লালা লাজপত রায়:

(1) লালা লাজপত রায় (১৮৬৫-১৯২৮ খ্রি.) ছিলেন সংগ্রামশীল জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রবক্তা। 'লাল-বাল-পাল'-এর অন্যতম সদস্য। প্রথম জীবনে তিনি আর্যসমাজের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরে তিনি এলাহাবাদের জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে (১৮৮৮ খ্রি.) যোগ দেন। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে তিনি নেতারূপে তাঁর দক্ষতা প্রমাণ করেন।

(2) তাঁর নেতৃত্বে চরমপন্থী আন্দোলন পাঞ্জাবে ব্যাপকতা পায়। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলন তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল। ব্রিটিশ সরকারের শোষণমূলক ভূমি-রাজস্ব আইনের বিরুদ্ধে এবং অতিরিক্ত জলকরের বিরুদ্ধে তিনি কৃষক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এজন্য তাঁকে মান্দালয় জেলে বন্দি করা হয়।

(3) 'কায়স্থ সমাচার' পত্রিকায় তিনি নরমপন্থী রাজনীতির অসারতা তুলে ধরেন। পাঞ্জাবি ভাষায় তিনি ‘পাঞ্জাবি' পত্রিকা প্রকাশ করে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেন।

(4) অসহযোগ আন্দোলনের সময় তিনি সক্রিয় নেতৃত্ব দেন। সাইমন কমিশন-বিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের লাঠির আঘাতে আহত হয়ে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। দেশপ্রেম ও সাহসিকতার জন্য জনগণ তাঁকে শের-ই-পাঞ্চাব (পাঞ্জাব কেশরী) অভিধায় ভূষিত করে।

 

7. ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের প্রভাব কী ছিল ?

উত্তর :ভারতে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের প্রভাব


ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিপ্লবী আন্দোলনের পরোক্ষ প্রভাব ছিল গুরুত্বপূর্ণ। 

(1) বিপ্লবীদের সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মবলিদানের দৃষ্টান্ত সমগ্র দেশবাসীর মনে প্রেরণা সঞ্চার করেছিল।

(2) ভারতবাসীর মনে আস্থা ও আত্মবিশ্বাস জাগাতে বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী যুবকদের আত্মত্যাগের ইতিবাচক ভূমিকা অনস্বীকার্য।


(3) যুবসমাজের আত্মোৎসর্গ দেশের জাতীয় নেতাদের সংগ্রামমুখী কর্মসূচি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে।বিপ্লববাদী আন্দোলন দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে একধাপ এগিয়ে দেয়।

(4) সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন এই শিক্ষা দেয় যে—ভারতবাসী যে-কোনো মূল্যে স্বাধীনতা পেতে মরিয়া। হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের মতে—তাঁরা আবার আমাদের মনুষ্যত্বের গর্ব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

 (5) এই আন্দোলন ভারতবাসীকে এই শিক্ষা দিয়েছিল যে নিজ দেশে পরবাসী হয়ে থাকার পরিবর্তে আত্ম বিসর্জনের মাধ্যমে হলেও স্বাধীনতা অর্জন প্রয়োজন।


(6) সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন ভারতের জাতীয় সংগ্রামের মূল ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অনেকটাই সাহায্য করেছিল। বিপ্লবীরা এই আন্দোলন থেকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিলেন।

তাই ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার লিখেছেন, গান্ধিজি পরিচালিত অহিংস আন্দোলন এবং বিপ্লবী আন্দোলন ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের দুটি ধারা। এরা ছিল পরস্পরের পরিপূরক।


8. স্বদেশী ও স্বরাজ বলতে কী বোঝো ?

উত্তর : লর্ড কার্জন অন্যায়ভাবে বাংলাকে ভাগ করতে চাইলে সারা বাংলা প্রতিবাদে গর্জে ওঠে। শুরু হয় বলাভলা-বিরোধী আন্দোলন (১৯০৫ খ্রি.)। এই আন্দোলনে স্বদেশি ও স্বরাজ—এই দুটি গঠনমূলক আদর্শকে ভিত্তি করে জাতীয়তাবোধ সম্প্রসারিত হয়।

স্বদেশি :

'স্বদেশি' শব্দের আক্ষরিক অর্থ হল দেশীয়। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় স্বদেশি' কথাটি বহুল প্রচারিত হয়।

(1) ব্রিটিশ সরকারের বলাভলোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ হিসেবে দেশে ছি আন্দোলনের জোয়ার আসে।

(2) অবশ্য 'স্বদেশি' আদর্শ ও চেতনা আমাদের দেশে আগে থেকেই ছিল। ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্ে স্বদেশির কথা পুনাতে প্রথম বলেন গোপালহরি দেশমুখ। কলকাতায় মুখার্জিস মাথারিন এ ভোলানাথ চন্দ্র একাধিক প্রবন্ধ রচনা করে স্বদেশি আদর্শকে জনপ্রিয় করে তোলেন।

 (3) ''স্বদেশী হল দেশের ঐতিহ্য ও জীবনধারার প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধা।

(4) স্বদেশি সম্পর্কে লালা লাজপত রায় বলেন যে, স্বদেশি মানে দেশের মুক্তি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বদেশি অর্জনের জন্য আত্মশক্তি বিকাশের ওপর জোর দেন।

স্বরাজ :

ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সময় স্বরাজ' কথাটিও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

 (1) জাতীয় কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে (১৯০৬ খ্রি.) সভাপতির ভাষণে দাদাভাই নওরোজি জাতীয় আন্দোলনের লক্ষ্য হিসেবে 'স্বরাজ' অর্জনের কথা বলেন।

 (2) পরবর্তীকালে নরমপন্থী ও চরমপন্থী নেতারা নিজ নিজ আদর্শ অনুযায়ী রাজশ ব্যাখ্যা করেন। নরমপন্থী নেতাদের কেউ কেউ স্বরাজ বলতে ব্রিটিশ শাসনের মধ্যে থেকে স্বাধিকার অর্জনের কথা বলেন। প্রখ্যাত বিপ্লবী সখারাম গণেশ দেউস্কর (১৮৬৯-১৯১২ খ্রি.) ‘স্বরাজ' শব্দটি স্বাধীনতার প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহার করেন। বিপিনচন্দ্র পালের ভাষায় স্বরা হল, ব্রিটিশ শাসনমুক্ত আত্মকর্তৃত্ব।

(3) বালগাধর তিলক বলেন, 'স্বরাজ আমার জন্মগত অধিকার। তবে তিলকের কাছে স্বরাজ' এর অর্থ ছিল শাসনব্যবস্থার ওপর ভারতীয় নিয়গুণ স্থাপন। 

(4) আবার অরবিন্দ ঘোষের বিচারে স্বরাজ ছিল 'নৈতিক' ও 'আধ্যাত্মিক শক্তির প্রকাশ। জাতীয় আন্দোলনের ক্ষেত্রে প্রথমে 'স্বরাজ' বলতে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বোঝানো হয়।পরবর্তীকালে 'স্বরাজ' অর্থে 'স্বাধীনতাকে বোঝানো হয়।


9. জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার কাল থেকে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কংগ্রেসের কার্যকলাপ সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর: ১৮৮৫ থেকে ১৯০৫ খ্রি. পর্যন্ত জাতীয় কংগ্রেসের কার্যাবলি :

প্রতিষ্ঠালাভের পরবর্তী কুড়ি বছর (১৮৮৫-১৯০৫ খ্রি.) জাতীয় কংগ্রেসের আদিপর্ব নামে পরিচিত। এই পর্বের নেতৃবৃন্দ সরকারের বিরুদ্ধে কোনোরূপ গণ আন্দোলন সংগঠিত করার পরিবর্তে 'আবেদন-নিবেদন' মাধ্যমে সরকারের সহানুভূতি অর্জনে আস্থাশীল ছিলেন। এই কারণে প্রথম পর্বের নেতাদের নরমপন্থী (Moderate) নামে অভিহিত করা হয়। কংগ্রেসের আদিপর্বের নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন দাদাভাই নওরোজি , বদরুদ্দিন তায়েবজী, গোপালকৃষ্ণ গোখলে, সুরেন্দ্রনাথ যন্দ্যাপাধ্যায়, ফিরোজ শাহ মেহতা, আনন্দ চারলু প্রমুখ। ড. রমেশচন্দ্র জুমদারের মত অনুযায়ী, ভারতের জাতীয় কংগ্রেস ভারতবাসীর স্বার্থের প্রহরী ("The Indian National Congress guarded the interests of India like a vigilant watchdog") i


আবেদন-নিবেদন নীতি: প্রথম পর্বের কংগ্রেস নেতাদের এয় সবাই ছিলেন উচ্চশিক্ষিত ও পাশ্চাত্য মনোভাবাপন্ন। ইংরেজ-জাতির উরতা ও ন্যায়বোধের ওপর এঁদের গভীর আস্থা ছিল। ধর্ম ও সমাজ সম্বোরের মতোই রাজনীতির ক্ষেত্রেও নরমপন্থীরা ছিলেন অতিসতর্ক শঙ্কারপন্থী। দাদাভাই নওরোজি বলেছিলেন—সদা ব্যস্ত ব্রিটিশ-জাতির কাছে আমরা যদি বলিষ্ঠ কণ্ঠে এবং বিচ্ছিন্নভাবে আমাদের বক্তব্য পৌঁছে দিতে পারি, তবে তা অবশ্যই বিফলে যাবে না।


>> লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য  : প্রথম পর্বের নেতৃবৃন্দ সাংবিধানিক পথে ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ভারতবাসীর দাবি আদায়ের জন্য নিরন্তর প্রয়াস চালান। কংগ্রেসের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল—(1)  জাতিধর্ম নির্বিশেষে ও গণতান্ত্রিক পথে একটি জাতীয় আন্দোলন সংগঠিত করা; (2)ভারতবাসীকে রাজনৈতিকভাবে হন করা; (3) সর্বভারতীয় স্তরে নেতৃত্ব দান এবং (4) ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে প্রচার করা।

এজন্য প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে বার্ষিক সম্মেলন আহ্বান করে প্রস্তাব গ্রহণ করা হত। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে–কংগ্রেস ভারতবাসীর ঐকা ও ব্রিটিশ শাসনের স্থায়িত্ব চায়।


> দাবি: প্রথম কুড়ি বছরে কংগ্রেসের দাবিগুলিকে চারভাগে ভাগ করা যায়-রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক।


● রাজনৈতিক দাবি:


(1) রাজনৈতিক দাবির মূল লক্ষ্য ছিল বেশিসংখ্যক ভারতীয়কে শাসনব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা। 

(2) প্রথম অধিবেশনেই কংগ্রেস ভারত-সচিবের দপ্তর বিলোপের দাবি জানায়। ভারত-বিে পরামর্শ দেওয়ার জন্য ওই দপ্তরের বদলে কমল সভায় একটি স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। 

(3) প্রতি প্রদেশ থেকে অন্তত দুজন করে ভারতীয়কে কমন্স সভায় মনোনয়নের দাবি জানানো হয়।

 (4) ব্যবস্থাপক সভায় (Legislative Council) নির্বাচিত প্রতিনিধি বাড়ানোর দাবি করা হয়। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় কাউন্সিল আইন প্রণয়ন করে।


প্রশাসনিক দাবি:


(1) প্রশাসনিক সংস্কার হিসেবে জাতীয় কংগ্রেস উচ্চপদে ভারতীয়দের নিয়োগ দাবি করে। এই ব্যবস্থা দ্বারা বিদেশে অর্থের বহির্গমন আটকানো এবং দেশের সেবায় দেশীয় মানুষের বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হয়।


(2)নরমপন্থী নেতারা সংবাদপত্র ও বাতৃস্বাধীনতার দাবিতে সোচ্চার হন। 

(3) শাসনবিভাগ ও বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ, জুরিব্যবস্থার সম্প্রসারণ, শিক্ষার আইন বাতিল ইত্যাদি দাবিও তোলা হয়।


(4) ভারতীয়দের সামরিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা ও উচ্চপদে নিয়োগের দাবি জানানো হয়।


অর্থনৈতিক দাবি:


(1) জাতীয় কংগ্রেস বার্ষিক অধিবেশনগুলিতে অর্থসংস্কারের ওপর জোর দেয়।


( 2)ভারত থেকে সম্পদের অবাধ বহির্গমন বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।


(3) ভারতের আর্থিক উন্নতির জন্য কংগ্রেস আধুনিক শিল্প-প্রতিষ্ঠার দাবি করে।


(4) শুরনীতি গ্রহণ করে শিল্পের বিকাশ ঘটানোর দাবি জানানো হয়।


(5) কৃষকের ওপর থেকে রাজস্বের ভার কমানোর দাবি করা হয়।


(6) চা-শ্রমিকদের সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি, লবণ করের বিলোপ ইত্যাদি দাবিও কংগ্রেস উত্থাপন করে।


(7) অরণ্য সংরক্ষণ ও আধিবাসীদের ক্ষেত্রে অরণ্য আইন সরল করার দাবি জানানো হয়। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবি: জাতীয় আন্দোলনের আধিপর্বের নেতারা অধিকার, বাক্ স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার জন্যও সংগ্রাম করেন।


ব্যর্থতা: জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর প্রথম কুড়ি বছরে কৃষক ও শ্রমিকশ্রেণির স্বার্থে কারেন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। সামগ্রিক বিচারে জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম পর্বের কার্যকলাপকে বখই বলা যায়। তবে এই ব্যর্থতার জন্য মূলত দায়ী ছিল ব্রিটিশ-জাতির অনমনীয় মনোভাব ও অসহযোগিতা। নরমপন্থীদের আবেদন-নিবেদন নীতিকে ইংরেজ সরকার কোনো মূল্য দেয়নি। তাই সমপন্থীর নরমপন্থীদের নীতিকে রাজনৈতিক ভিক্ষাবৃত্তি বলে বাল্লা করেন। আসলে তখন কংগ্রেসের খণভিত্তি হতে ছিল না। তাই ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণ আন্দোলন সংগঠিত করা সম্ভব ছিল না।

মূল্যায়ন: আপাত ব্যর্থ হলেও জাতীয় কংগ্রেসকে ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার ক্ষেত্রে নরমপন্থীদের অবদান অনস্বীকার্য। ঐতিহাসিক বিপানচন্দ্র লিখেছেন— ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময় ছিল ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বীজ বপনের কাল এবং আদিপর্বের নেতারাই সেই কাজ যথার্থভাবে সম্পন্ন করেছিলেন ("The period from 1885-1905 was the seed time of Indian nationalism and the earliest nationalists sowed the seeds well and deep")